• বাংলা ডেস্ক
  • ২৪ আগস্ট ২০১৬ ০২:৫৪:১৮
  • ২৪ আগস্ট ২০১৬ ১৫:০৯:৪১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ফারাক্কা বাঁধ তুলে দেয়ার দাবি বিহার মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলাদেশের দিকে বাঁধের গেট খুলে দেবে ভারত

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। ছবি : পিটিআই

ফারাক্কা বাঁধের জন্যই বন্যার কবলে পড়ে বিহার। তাই ওই বাঁধকে একেবারে ভেঙে ফেলার দাবি নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দারস্থ হন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। নীতীশের প্রস্তাব বিবেচনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর এ দাবির মুখে পশ্চিমবঙ্গও পাল্টা বক্তব্য তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য  ইতিমধ্যে দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ফারাক্কা বাঁধের প্রায় সবগুলো গেট খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, বিহারের বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ নিতে মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ফোন করেন নীতীশকে। তখনই ঠিক হয়, দিল্লি গিয়ে রাজ্যের হাল বিস্তারিত জানাবেন নীতীশ। সোমবার ৭ রেসকোর্সে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে দেখা করেন নীতীশ। আলোচনার সময় মোদির হাতে একটি স্মারকলিপি দেন নীতীশ। তার অভিযোগ, বিহারে গঙ্গা অববাহিকায় বন্যার জন্য ফারাক্কা বাঁধ দায়ী। বক্সার থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত গঙ্গার নাব্যতা অনেকটাই কমেছে। ফলে পানি জমে তা দু’পার ছাপিয়ে যাচ্ছে। ফলে বন্যা কবলিত এলাকা বাড়ছে। তাই ফারাক্কা বাঁধের পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন নীতীশ। বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য তিনি একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর দাবি জানালে মোদি তা মেনে নিয়েছেন।

ফারাক্কা বাঁধের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ বাঁধ ভেঙে দেয়া হলে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়বে পশ্চিমবঙ্গ। প্রতি বর্ষায় ভাসবে গোটা দক্ষিণবঙ্গ। এছাড়া গরমের সময়ে কলকাতাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলসংকটে ভুগবে। নাব্যতা হারিয়ে কার্যত ধ্বংস হয়ে যাবে কলকাতা বন্দর। পশ্চিমবঙ্গের সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বিহারের দাবি নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তার কথায়, ‘আমি বিষয়টি জানি না। আর প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনার বিষয়ে আমার বলার কোনো এখতিয়ারনেই।’ রাজ্যের সেচ দফতর সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে শ্বেতপত্র ধাঁচের একটি ‘ডসিয়ের’ তৈরির কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। ফারাক্কা নিয়ে রাজ্যের বক্তব্য সেখানেই তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশের দিকে বাঁধের গেট খুলে দেবে ভারত : ভারতে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ফারাক্কা বাঁধের প্রায় সবগুলো গেট খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের কর্মকর্তারা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের গেটগুলো খুলে পানি ছেড়ে দিলে বিহার রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র সমীর সিনহা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বর্ষাকালে এমনিতেই অন্য সময়ের তুলনায় ফারাক্কায় বেশি গেট খোলা থাকে। কিন্তু বিহারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এখন প্রায় ১০০টি গেট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ফারাক্কায় ১০৪টি গেট আছে। কর্মকর্তারা বলেছেন এ গেটগুলো খুলে দিলে ১১ লাখ কিউসেক পানি সরে যাবে, এতে বিহারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

বিহার রাজ্যে এক সপ্তাহে ১০ লাখের বেশি মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে। ফারাক্কায় গেটগুলো খুলে দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশকে আগেই নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে এবং এনিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে বলে সিনহা উল্লেখ করেন। বর্ষার মওসুমে এটিকে 'স্বাভাবিক ঘটনা' হিসেবে বর্ণনা করেন ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

এদিকে বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র এবং যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, বছরের এ সময়টিকে ফারাক্কায় গেটগুলো খোলা থাকার কথা। নতুন করে গেট খুলে দেয়ার কিছু নেই বলে কর্মকর্তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, সাধারনত শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার জন্য এ গেটগুলো তৈরি করেছে ভারত। কিন্তু এখন নদীতে পানি প্রবাহ এমনিতেই বেশি থাকায় গেটগুলো বন্ধ থাকার কথা নয় বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ১১ লাখ কিউসেক পানির প্রবাহ যদি বাংলাদেশের ভেতরে আসে তাহলে বাংলাদেশ অংশে পদ্মায় পানি বাড়বে কিন্তু বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হবে না। যেহেতু এখন ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় পানি কমছে সেজন্য পদ্মার পানি বাড়লেও সেটি কোন বন্যা পরিস্থিতির তৈরি করবে না বলে মনে করেন কর্মকর্তারা।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ খন্দকার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভেতরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভেতর দিয়ে সবচেয়ে বেশি পানি প্রবাহিত হয়।

বন্যার কারণে বিহার অঞ্চলে দুই লাখ মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে বিহার ছাড়াও মধ্য প্রদেশ , উত্তর প্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডেও বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। এসব এলাকায় নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সোমবার রাতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে বিহার এবং উত্তর প্রদেশে জরুরী সহায়তা দল পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0180 seconds.