• বাংলা ডেস্ক
  • ২৭ এপ্রিল ২০১৭ ১৯:৩২:৫২
  • ২৭ এপ্রিল ২০১৭ ২২:১৮:২৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আমি তো ইসলামি উপন্যাস লিখিনি : কাসেম বিন আবুবাকার

কাসেম বিন আবুবাকার। ছবি : এএফপি

কাসেম বিন আবুবাকারের আদি নিবাস পশ্চিবঙ্গের হাওড়া এলাকায়। বাংলাদেশে আসেন ১৯৬৮ সালে। নিউমার্কেটের মল্লিক ব্রাদার্সে কাজ শুরু করেন। বইয়ের দোকানে থাকতে থাকতেই একসময় নিজে লেখার ইচ্ছা জাগে। লিখতেও শুরু করেন।

সেই লেখা 'ইসলামি প্রেমের উপন্যাস' হিসেবে বাজার সয়লাব হয়ে যায় আশির দশকে। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তার একশটি বই প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে উপন্যাস ৮৫টি। আশি ও নব্বইয়ের দশকের হালকা প্রেমের চটুল গল্পের বইগুলো বিক্রিবাট্টার দিক থেকে তুঙ্গে পৌঁছে গেলেও একবিংশ শতাব্দীতে এসে আলোচনা থেকে হারিয়ে যান এই লেখক।

এরপর গত মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) হঠাৎ করেই বিদেশি গণমাধ্যমের সূত্র ধরে ফের দেশি অনলাইনগুলোতে আলোচনায় উঠে আসেন ৮০ বছর বয়সী কাসেম বিন আবুবাকার। হঠাৎই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে উঠতি তরুণ প্রজন্ম জানতে পারে, ইসলামি নাম দিয়ে লেখা প্রেমের উপন্যাসের এই লেখক একটা সময় অনেক জনপ্রিয় ছিলেন।

এই জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি নিজে কী মনে করেন, কিভাবে তিনি লেখক হয়ে উঠলেন— এসব নিয়ে কথা বললেন কাসেম। তিনি বিশ্বাস করেন, তার বই পড়ে অশালীন ছেলে-মেয়েরা শালীন প্রেমের উপায় খুঁজে পেয়েছিল।

কিভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন? -এমন প্রশ্নে কাসেম বিন আবুবাকার বলেন, ‘আমি লেখার মধ্য দিয়ে মানুষকে মানুষ করতে চেয়েছি। মুসলমান হয়ে চরিত্রহীন হলে চলবে না। আল্লাহর কথামতো যারা চলে না, তারা তো মুসলমান না। আমি মানুষের বিবেককে নাড়া দিতে চেয়েছি বলে আমি জনপ্রিয়।’

আপনার উপন্যাসে উঠে আসা বিষয়গুলো ইসলাম অনুমোদন করে কিনা— জানতে চাইলে কাসেম বলেন, ‘আমি তো ইসলামি উপন্যাস লিখিনি। আমি ইসলামি ভাবকে কাজে লাগিয়ে উপন্যাস লিখেছি। কোরআন-হাদিসের আলোকে রোমান্টিসিজমের কথা লিখেছি। প্রেম তো থাকবেই— ভাইয়ের সঙ্গে, মায়ের সঙ্গে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে, বিয়ের আগে প্রেমিকের সঙ্গে। কিন্তু সেই প্রেম ভেঙে গেলে প্রেমিকাকে এসিড ছুড়তে হলে সেটা তো প্রেম না, সেটাকে বলে মোহ। আমার বইয়ের মধ্য দিয়ে আমি এগুলোই শেখাতে চেয়েছিলাম পাঠকদের। আর আমার লেখা এই শিক্ষামূলক বই সবাই পড়তে চেয়েছে বলেই আমি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছি।’

বিয়ের আগে নর-নারীর প্রেম বিষয়ে ইসলাম কী বলে -জানতে চাইলে কাসেম বলেন, ‘না না, ইসলাম এটা অ্যালাও করে না। তবে প্রেম ভালবাসা তো আটকে রাখার বিষয় না। কিন্তু এটাকেও সীমাবদ্ধ রাখা যায়। প্রেম-ভালোবাসা বন্ধ করতে পারবেন না। তাই আমি চাই, তারা এটা করুক। তবে তার মধ্যেও যেন শালীনতা থাকে। ছেলে-মেয়ে মিশবেই, কিন্তু কোন পর্যায়ের মেলামেশা ব্যাভিচারে পরিণত হয়, সেটা জানতে হবে।’

লেখালেখির শুরুর বিষয়ে কাসেম বিন আবুবাকার বলেন, ‘আমি তখন মল্লিক ব্রাদার্সে চাকরি করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের বই কিনতে আসতে দেখতাম। তাদের অশালীনতা দেখে আমার খারাপ লাগত। সে কারণেই আমি চেষ্টা করেছি কিছু একটা করতে। তাদের শেখানোর দায়িত্ববোধ থেকে আমি হাতে কলম তুলে নেই। এদের যদি না শেখানো হয়, তাহলে নিম্নবিত্ত মানুষ তাদের কাছ থেকে কী শিখবে? ইসলামকে জানানোর জন্যই আমার কলম ধরা, অন্য কিছু না।’

এই লেখক দাবি করেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাবুক। কোনোকিছুকেই হালকাভাবে দেখেন না তিনি, সবকিছু নিয়েই গভীরভাবে চিন্তা করেন। তিনি বলেন, ‘ভালোবাসাও গভীর হতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রেম আল্লাহর দান। প্রেম থাকবেই, সবার প্রতি সবার।’

এখন আর লিখতে পারেন না কাসেম বিন আবুবাকার। এ কারণে মনোকষ্টও রয়েছে তাঁর, ‘গত দুই বছর ধরে আমি আর লিখি না। বয়স হয়েছে। কিন্তু আমার পাঠকরা আমাকে এখনও লিখতে বলে। তারা চায় আমি লিখি।’

চার ছেলেমেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলের পাঠাগার আছে রাজধানীতে। সেখানেই মাঝে মধ্যে বসেন জানিয়ে কাসেম বলেন, ‘ওখানে বসলে এখনও নারীরা দেখা করতে আসে, যারা আমার কাছে অনেক কিছু শিখেছে।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

কাসেম বিন আবুবাকার

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0239 seconds.