• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১০ এপ্রিল ২০২০ ০৩:০১:২৮
  • ১০ এপ্রিল ২০২০ ০৩:০১:২৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
সংশ্লিষ্ট
বিজ্ঞাপন

করোনার ভয়ে দাফনে বাধা, নৌকায় ভাসছে গার্মেন্টসকর্মীর লাশ

ফাইল ছবি

নরসিংদীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে সুলতানা বেগম (৩৫) নামে এক নারী গার্মেন্টস শ্রমিক মারা গেছেন। সুলতানা ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি জ্বর, ঠান্ডা কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার মেঘনা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ায় তিনি মারা যান। নিহত সুলতানা নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

তার নমুনা সংগ্রহের জন্য নরসিংদীর একটি স্বাস্থ্য টিম রওনা হয়েছে। এদিকে করোনার আক্রান্ত হয়েছে কিনা, সেই ভয়ে স্বামীর বাড়ি কাজির কান্দিতে লাশ দাফন করতে দেয়নি গ্রামবাসী। এমনকি মৃতের স্বামী আমানুল্লাকেও লাশের কাছে যেতে দিচ্ছে না তার স্বজনেরা। ফলে মেঘনা নদীতে নৌকায় ভাসছে তার লাশ। মেয়ের লাশ পাহারা দিচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা ফরিদ মিয়া।

জানা যায়, বেশ কয়েকদিন যাবৎ জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন সুলতানা। নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউনের পর বন্ধ হয়ে যায় শিল্প কারখানা। এরইমধ্যে গতকাল বুধবার তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে বুধবার রাতেই নারায়ণগঞ্জ থেকে নরসিংদীর আলোকবালীতে চলে আসেন। বৃহস্পতিবার তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে বটতলী এলাকায় ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার পরে সেখানেই মারা যান সুলতানা।

পরে তার লাশ স্বামীর বাড়ি কাজিরকান্দি গ্রামে নেয়া হয়। কিন্তু করোনা উপসর্গ থাকায় গ্রামের লোকজন তাকে স্বামীর বাড়িতে দাফন করতে দেয়নি। পরে লাশ নিয়ে পুনরায় বাবার বাড়ি আলোকবালীতে চলে আসেন। সন্ধ্যায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাশ নদীর ঘাটে নৌকায় পড়ে ছিল।

আলোকবালী গ্রামের বাসিন্দা সমির বলেন, করোনার আক্রান্ত হয়েছে কিনা, সেই ভয়ে স্বামীর বাড়ি কাজিরকান্দিতে লাশ দাফন করতে দেয়নি। মৃতের স্বামীকেও  লাশের কাছে যেতে দিচ্ছে না তার স্বজনেরা। এখনো লাশ পড়ে আছে নৌকায়। লাশ পাহারা দিচ্ছেন মৃতের বাবা।

নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন বলেন, মৃত নারী শ্রমিকের নমুনা সংগ্রহের জন্য নরসিংদী স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। নমুনা সংগ্রহের পরই তার লাশ দাফন দেয়া হবে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত বিজয় ও দুলাল নামে দুই গার্মেন্টস শ্রমিক নিজ বাড়ি হাজিপুর এলাকায় আসলে গ্রামের মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। পরে পুলিশ খবর দেয়া হলে তারা পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে নরসিংদীতে এখন পর্যন্ত মোট তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবিলা ও সুরক্ষায় বৃহস্পতিবার থেকে নরসিংদী জেলাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

নরসিংদী করোনাভাইরাস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0062 seconds.