The path to the image is not correct.

Your server does not support the GD function required to process this type of image.

মহারাষ্ট্রে বিজেপির পতন, মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছে শিবসেনার উদ্ধ
  • বিদেশ ডেস্ক
  • ২৭ নভেম্বর ২০১৯ ১০:৫২:৫৭
  • ২৭ নভেম্বর ২০১৯ ১০:৫২:৫৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মহারাষ্ট্রে বিজেপির পতন, মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছে শিবসেনার উদ্ধব

শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার। ছবি : আনন্দবাজার থেকে নেয়া

ভারতের মহারাষ্ট্রে পতন ঘটলো বিজেপির। দলটির সকল চাল ব্যর্থ করে দিয়ে রাজ্যটির সরকার গঠন করতে যাচ্ছে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। ২৮ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার শিবাজি পার্কে শপথগ্রহণ করবেন এই নতুন সরকার। ভারতের সংবাদ সংস্থা আনন্দবাজার এমন খবর প্রকাশ করেছে।  

২৭ নভেম্বর, বুধবার বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে বিজেপি’র দেবেন্দ্র ফডণবীসকে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরে প্রথমে ইস্তফা দেন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার। তার কিছু পরেই ৮০ ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রিত্বে ইতি টেনে পদত্যাগ করেন ফডণবীস।

২৬ নভেম্বর, মঙ্গলবার রাতে মুম্বইয়ের পাঁচতারা হোটেলে শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস বিধায়কদের বৈঠকে জোটের নেতা নির্বাচিত হন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়, উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন এনসিপির জয়ন্ত পাটিল ও কংগ্রেসের বালাসাহেব থোরাট। রাত দশটা নাগাদ রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার গড়ার দাবি জানান জোটের নেতারা। সেই দাবি মেনে বৃহস্পতিবার শিবাজি পার্কে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে বলে উদ্ধবকে চিঠি দিয়ে জানান রাজ্যপাল।

মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার ব্যাপারে তিন দলের সমঝোতা যখন প্রায় চূড়ান্ত, তখন ২২ নভেম্বর, শুক্রবার এনসিপি ভেঙে ফডণবীসের হাত ধরেন শরদ পওয়ারের ভাইপো অজিত। দাবি করেন এনসিপির অধিকাংশ বিধায়কই তার সঙ্গে রয়েছেন। এরপর অবিশ্বাস্য দ্রুততায় রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহারের সুপারিশ দিল্লি পাঠান রাজ্যপাল। নিজের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে মন্ত্রিসভার বৈঠক ছাড়াই সেই সুপারিশে সায় দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোর পৌনে ছ’টায় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সইয়ের পরে উঠে যায় রাষ্ট্রপতি শাসন। ২৩ নভেম্বর, শনিবার সকাল আটটায় শপথ নেন দেবেন্দ্র ও অজিত।

বিজেপি সূত্র দাবি করে, নিঃশব্দে নেপথ্যে থেকে ‘বাজিমাত’ করেছেন দলীয় সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু হাল ছাড়েননি শরদ পওয়ার। একদা ইন্দিরা, রাজীব, সনিয়া গান্ধির সঙ্গে টক্কর নেয়া শরদ ৭৯ বছর বয়সে এসেও দেখিয়ে দিলেন, মরাঠা রাজনীতিতে এখনও তিনিই স্ট্রংম্যান। তার কাছে পর্যুদস্ত হতে হল গোয়া, মণিপুর, হরিয়ানায় কৌশলে সরকার গড়ে বিজেপির ‘চাণক্’ হয়ে ওঠা শাহকে।

হতাশ ফডণবীস দাবি করেন, অজিতের উপর ভরসা করেই সরকার গড়তে ঝুঁকি নিয়েছিল দল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সেই সমর্থন আসেনি। এনসিপি ভাঙেনি। উল্টে যারা অজিতের সঙ্গে গিয়েছিলেন, এক এক করে শরদ শিবিরে ফিরে যান তারা। বিজেপির এ-ও আশা ছিল যে, শিবসেনা ও কংগ্রেসের বিধায়কদের ভাঙিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু ব্যর্থ হয় সেই পরিকল্পনা। গত কাল মুম্বইয়ের হোটেলে ১৬২ জন বিধায়ককে হাজির করে বিজেপির আশায় জল ঢেলে দিয়েছিলেন শরদ-উদ্ধবেরা।

মহারাষ্ট্রে বিজেপির কফিনে শেষ পেরেক হল সুপ্রিম কোর্টের রায়। দেবেন্দ্রদের আশা ছিল, রাজ্যপাল যখন শক্তিপরীক্ষার জন্য ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছেন, তখন তাতে বাধা হবে না আদালত। কিন্তু শীর্ষ আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ আজ জানিয়ে দেয়, বুধবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে সমস্ত বিধায়কের শপথগ্রহণ সেরে ফেলে সে দিনের মধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে বিজেপি’কে। ভোটাভুটি হবে প্রকাশ্যে। গোপন ব্যালটে নয়। যা সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে।

এরপর মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন, বিরোধীরা অটুট। কোনো ভাবেই ১৪৫ বিধায়কের ম্যাজিক সংখ্যা ছোঁয়া সম্ভব নয়। বৈঠকে ঠিক হয়, বিধানসভায় হারার চেয়ে ফডণবীস বরং আজই ইস্তফা দিন। বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেয়ার কথা জানান তিনি।

এদিকে ব্যর্থ হয়ে আবার ঘরে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন অজিত। দলের বৈঠকেও আসতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে আসতে দেয়া হয়নি। রাতে শরদের বাড়িতে যান অজিত। ছিলেন শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলেও। এনসিপি সূত্র বলছে, ভাইপোর ভবিষ্যৎ এখন কাকার হাতে।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0206 seconds.