• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১২ নভেম্বর ২০১৯ ২০:২৯:২৪
  • ১২ নভেম্বর ২০১৯ ২০:৫২:৪০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মহাসচিবের পদ হারাচ্ছেন রাঙ্গা

ছবি : সংগৃহীত

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক নূর হোসেনসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের জেরে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিবের পদ হারাতে যাচ্ছেন মশিউর রহমান রাঙ্গা। শুধু তাই নয়, সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের পদটি নিয়েও কথা উঠেছে। এই পদ থেকেও তাকে অপসারণ করতে স্পিকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ নিজ দল জাপা’র সংসদ সদস্যরাই।

১২ নভেম্বর, মঙ্গলবার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন মশিউর রহমান রাঙ্গা। তারা বলেন, ‘মশিউর রহমান রাঙ্গা যে কটূক্তি করেছেন, তা শিষ্টাচার বহির্ভূতই কেবল নয়, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।’

এদিন বিকেলে জাপা চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদেরের সংসদীয় কার্যালয়ে মশিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এসময় দলের শীর্ষ নেতারা রাঙ্গাকে জাপা মহাসচিবের পদ থেকে অপসারণ নিয়েও আলোচনা করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসময় জাপা নেতারা রাঙ্গাকে মহাসচিবের পদ থেকে অপসারণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন।

রাঙ্গার বক্তব্য জাতীয় পার্টির বক্তব্য নয়, বরং তার ব্যক্তিগত বক্তব্য— এ বিষয়টিও জাপা নেতারা স্পষ্ট করেন সংসদে জি এম কাদেরের কার্যালয়ের আলোচনায়। পরে অধিবেশন শুরু হলে জাপা সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ রাঙ্গার বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ওই বক্তব্য রাঙ্গার ব্যক্তিগত, জাতীয় পার্টির দলীয় বক্তব্য নয়।

ফিরোজ রশিদ আরো বলেন, ‘এই মশিউর রহমান রাঙ্গা অশিক্ষিত ছিল। একসময় যুবদল করত। এই সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। কিন্তু একটা কথা সত্য, বানরকে লাই দিলে গাছে ওঠে। রাঙ্গার অবস্থাও তাই।’

সংসদে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদও রাঙ্গার কঠোর সমালোচনা করেন। এসময় তারাসহ সরকার ও বিরোধী দলীয় এমপিরা স্পিকারের কাছে দাবি জানান, রাঙ্গাকে যেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনের এক ফাঁকে বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদেরকে নিজের সিট থেকে উঠে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কানে কানে কিছু একটা বলতেও দেখা যায়।

রবিবার (১০ নভেম্বর) বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘নূর হোসেন ইয়াবাখোর, ফেন্সিডিলখোর ছিলেন।’

তার এই বক্তব্যে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার (১১ নভেম্বর) নূর হোসেনের পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় নূর হোসেনের মা মরিয়ম বিবি বলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে রাঙ্গা যে কথা বলেছে, আমি তার প্রতিবাদ জানাই। রাঙ্গা যে বক্তব্য দিয়েছে, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

এছাড়া, সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে রাঙ্গাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এরই মধ্যে রাঙ্গাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়ে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন ‍সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0188 seconds.