• ০৭ নভেম্বর ২০১৯ ১৯:১৪:২৬
  • ০৭ নভেম্বর ২০১৯ ১৯:১৪:২৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

জাবিতে হামলা: দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালেন রাবি শিক্ষক

ছবি : সংগৃহীত

রাবি প্রতিনিধি :

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

৭ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান। 

জাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে অধ্যাপক ফরিদের সঙ্গে আধা ঘণ্টা পরে সেখানে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও যোগ দেন। শিক্ষার্থীরা ‘দুর্নীতি ও শিক্ষা একসঙ্গে চলতে পারে না’, ‘জাবিতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কেন’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরে যে ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে তার প্রতিবাদে এখানে দাঁড়িয়েছি। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর আশা করব, অতিদ্রুত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদত্যাগ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্ক মুক্ত করবেন।’

‘আমাদের এখন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা করে। শুধু শিক্ষক নয়, প্রতিটি ছাত্রও হয়তো তার ছাত্র মর্যাদা দিতে লজ্জা পায়। প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি রয়েছে। এই দুর্নীতি শেষ না করা গেলে এদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আশা করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদিকে দৃষ্টি দিবেন।’

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও চলমান আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষকবৃন্দ।

ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সিনেট ভবনের সামনে নবম দিনের মত মানববন্ধন করে তারা এই সংহতি জানান।

বেলা ১১টায় সিনেট ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে সব বিশ্ববিদ্যালয়েই দুর্নীতি হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগরে তো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালো এক ছাত্রসংগঠন। আমরা এই হামলার বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে ওই দুর্নীতিবাজ ভিসির পদত্যাগ চাই।’

নিজেদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে অধ্যাপক সুলতান বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও উপাচার্য তার মেয়ে ও জামাতাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে আবেদন যোগ্যতা শিথিল করেছেন। স্নাতক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় যারা প্রথম দিকে ছিল তাদের পরিবর্তে ৬৭তম হয়েও উপাচার্যের জামাতা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শিক্ষকদের মধ্যে যারা এসব অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। আমরা পিছপা হব না, বরং আন্দোলন আরো কঠোর হবে।’

অধ্যাপক সুলতান দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য একজনকে রাখা হয়েছে। তার মাধ্যমে উপাচার্য তার উদ্দেশ্য হাসিল করছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কি যোগ্য লোকের অভাব যে অযোগ্যকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখতে হবে? 

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এক্রাম উল্যাহ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মুহাম্মদ আলী রেজা।

বাংলা/এএএ

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0249 seconds.