• ০১ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:১৮:২৬
  • ০১ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:১৮:২৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আধিপত্যবাদের ‘গিনিপিগ’ নিপীড়িত মানুষ

ছবি : সংগৃহীত


কাকন রেজা :


গ্রেশাম’স লতে বলা হয়, ‘কালো টাকা বাজারে এসে সাদা টাকাকে অচল করে দেবে’ এমনটা। দেশে যখন কালো টাকার রমরমা অবস্থা। জুয়াতেই বিনিয়োগ হয় হাজার কোটি টাকা সেখানে ক্রমেই সাদা টাকা অচল হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। এর সাথে সাম্রাজ্যবাদ যা বর্তমানে আধিপত্যবাদে রূপ নিয়েছে তার একটা যোগসূত্র রয়েছে। 

সাম্রাজ্যবাদের প্রাথমিক রূপ ছিলো রাজ্য বিস্তার। যার পরবর্তী চেহারা উপনিবেশবাদের। বর্তমানকালে সাম্রাজ্য বিস্তারের পটভূমি অনুপস্থিত। উপনিবেশবাদের জায়গাও খুব একটা নেই। মনিপুরি রাজার মত ধরে-বেঁধে স্বাক্ষর করানোর দিন শেষ। এখন প্রয়োজন আধিপত্য বিস্তারের, যার প্রাসঙ্গিক রূপ আধিপত্যবাদ। খুব সহজ করেই বলা, তাত্ত্বিক আলোচনা বাদ দেয়া অযথা সময় নষ্ট হবে বলেই। সমস্যা যখন মাথার উপর থাকে তখন সমাধানটাই মূল আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত। আলোচনার ডালপালা তথা দীর্ঘসূত্রিতা সমাধানটাকে আরো দূরতর করে তোলে।  

আধিপত্যবাদের রূপটা চোখে পড়ে নানা আঙ্গিকে। অনেক ছোট ঘটনাতেও দৃশ্যমান হয় আধিপত্যবাদীদের চেহারা। আধিপত্যবাদ প্রথমে ‘বউ মেরে ঝি শাসনে’র উদাহরণ সৃষ্টি করে। চোখের সামনে রয়েছে সাকিব, প্রজ্জ্বলিত উদাহরণ। যে আগরওয়াল সাকিবকে প্রস্তাব দিলো, তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানানো হয়নি। অথচ সাকিবকে শাস্তি পেতে হয়েছে। হাজার কোটি টাকা চুরি গেছে চোরকে সনাক্ত করা যায়নি, গেলেও মানুষ জানতে পারেনি। অথচ টাকা চুরি না গেলেও, চিঠি চালাচালির দোষে কেউ ফেঁসে গিয়েছেন। এটাই আধিপত্যবাদ। যেভাবেই হোক দমিয়ে দেয়াটাই সেই আধিপত্যবাদের দৃশ্যমান রূপ।

অনেকে এমন কথায় হাসবেন, বলবেন গাধা কিংবা মূর্খ। চোখের সমুখে দৃশ্যমান উদাহরণ যাদের উপলব্ধ হয় না, দূরের আশা তাকে নিয়ে রীতিমত দূরাশা। যারা ছোট ব্যাপারগুলো বোঝার ক্ষমতা রাখেন না, তাদের মস্তিষ্কর আকার বড় ব্যাপারগুলো উপলব্ধির জন্য প্রস্তুত নয়। জ্বরকে যারা অসুখ ভাবেন, উপসর্গ বিষয়টি তাদের বোধের জন্য জটিল।  

সংজ্ঞা অনুযায়ী বলতে গেলে, সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে অন্য রাষ্ট্রকে অধিকার করবার নীতি। এর পরিবর্তিত রূপ হলো উপনিবেশবাদ। বৃটেন যেভাবে ভারতীয় উপমহাদেশকে কব্জা করেছিল, ঠিক তেমনটাই। লেন্দুপ দর্জি’র মাধ্যমে যেমন সিকিম তার স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়েছিল তেমনটাও উপনিবেশবাদের আরেক অংশ। কাশ্মিরও তাই। 

বাম’দের কাছে পুঁজিবাদই হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদের উৎপত্তির কারণ। লেনিন এমন চিন্তাকে রূপ দিয়েছেন, ‘সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায়’ বিষয়ক বইয়ে। বলেছেন, ‘পুঁজিবাদের অভ্যন্তরেই সাম্রাজ্যবাদের বীজ লুকায়িত রয়েছে।’ বাম’দের এই ধারণাটা মূলত খাটে আধিপত্যবাদের ক্ষেত্রে। যা এক কথায় আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ। 

সাম্রাজ্যবাদের সাথে আধিপত্যবাদের মূল পার্থক্যটা হলো কাল পরিক্রমার। এক সময় শক্তি-সামর্থ্য প্রমানের জন্য পররাজ্য অধিকৃত হতো। আর তার প্রায়োগিক পদ্ধতি ছিলো যুদ্ধ। কালের পরিক্রমায় শক্তির জোরে পররাজ্য অধিকারটা অসভ্যতা বলে গণ্য হওয়া শুরু করে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের আকাঙ্ক্ষা থেমে থাকেনি। যার পরবর্তীরূপ উপনিবেশবাদ। মনিপুর, সিকিম, কাশ্মীর, তাইওয়ান, হংকং উপনিবেশবাদের রূপচিত্র। এ অবস্থার যখন নিদানকাল। স্বাধীনতার জন্য যখন গণভোটের আয়োজন হচ্ছে তখন সাম্রাজ্যবাদ রূপ নিয়েছে আধিপত্যবাদে। যার পেছনের কারণ অনেকটাই অর্থনৈতিক। যা বামে’রা পুঁজিবাদের নামে সংজ্ঞায়িত করেছে, প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।

তবে, অর্থনীতি আধিপত্যবাদের উল্লেখযোগ্য কারণ হলেও আরো কারণ রয়েছে। আর মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদ অন্যতম। অর্থনীতির সাথে উগ্র জাতীয়তাবাদ মিললে আধিপত্যবাদীরা চুড়ান্ত আগ্রাসী হয়ে উঠে। আর সেই আগ্রাসন দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ পদে পদে অনুভব করছে। শুধু দক্ষিণ এশিয়া কেনো, সারা বিশ্বের দুর্বল নীতির দেশগুলো, গণতন্ত্রহীন ভূখন্ডগুলো, একনায়কতান্ত্রিক রাষ্টগুলো প্রতিটা মুহূর্তে বুঝতে পারছে আগ্রাসনের ভয়াবহতা। সাথে তার দায় মেটাতে হচ্ছে সে সব দেশের জনগণকে। একটি রাষ্ট্র যখন আধিপত্যবাদের কবলে পড়ে, তখন রাষ্ট্রটি নিজেও চরম আধিপত্যবাদী হয়ে উঠে। রাষ্ট্রযন্ত্র আগ্রাসী রূপ নেয়। যার প্রধান উপসর্গ হচ্ছে বাক-স্বাধীনতা হরণ। এমন রাষ্ট্রে মানুষকে মুখবুজে সব অনাচার সয়ে নিতে হয়।

মূলত সর্ব ‘বাদ’ এর ক্ষেত্রে আমজনতাই হলো ‘গিনিপিগ’। সব ‘বাদ’ এর-ই পরীক্ষা চলে তাদের উপর। ইঁদুর, খরগোস বা বানরের মতন ‘বাদ’ এর পরীক্ষাগারে তথা আক্রান্ত রাষ্ট্রের কোপে প্রাণ হারায় তারা কিংবা বেঁচে থাকে অর্ধমৃত হয়ে। 

লেখক : কলাম লেখক ও সাংবাদিক। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

কাকন রেজা গিনিপিগ মানুষ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0188 seconds.