• ৩১ অক্টোবর ২০১৯ ২০:৪৭:৫২
  • ৩১ অক্টোবর ২০১৯ ২০:৪৭:৫২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

নম্বর জালিয়াতির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন

ছবি : সংগৃহীত

জবি প্রতিনিধি :

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতায় নম্বর জালিয়াতির অভিযোগে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও পরীক্ষা বর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ তোলেন। এছাড়া এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাজে মন্তব্য শেয়ার,একাডেমিক কাজে অবহেলাসহ নানা অভিযোগ তোলেন তার বিভাগের শিক্ষকরা। 
 
৩১অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা তাদের মিডটার্ম পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের রফিক ভবন থেকে শুরু করে করে বিজ্ঞান ভবন, প্রশাসনিক ভবন,সামাজিক ভবন হয়ে রফিক ভবনে এসে শেষ হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাসের পরীক্ষা খাতার মূল্যায়নে অনৈতিকার আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ তুলে তাকে বহিষ্কারসহ চার দফা দাবি জানায়। 

শিক্ষার্থীদের দাবি গুলো হলো :

মাস্টার্স ১ম সেমিষ্টারের ৫১০১ কোর্সটির মিডটার্ম সহ ফাইনাল পরীক্ষার খাতা তৃতীয় পরীক্ষক দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে। মির্ডটার্মের খাতা মূল্যায়ণের পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটার মধ্যে নোটিশ বোর্ডে টানাতে হবে। অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস কে বিভাগ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাসের স্নাতক পর্বের সকল কোর্সের খাতাগুলো পূর্ণমূল্যায়ন করতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী পারভেজ মোশারফ বলেন, আমি মাস্টার্স ১ম সেমিষ্টারে অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাসের প্রতিটি ক্লাস ও মিড টার্মে অংশগ্রহন করেছি। কিন্তু আমাকে মিডটার্মে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে।  ক্লাসে উপস্থিতির কোন নম্বরই দেয়া হয়নি।

জানা যায়, গত ১অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৩০ তম একাডেমিক কমিটির সভা হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাষ্টার্সের ১ম সেমিষ্টারের বাংলা কবিতা (কোর্স নং-৫১০১) শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ড. মিল্টন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নম্বর বেশি ও কম দেয়ার বিষয়টি উপস্থাপিত হয়। এ শিক্ষক তার ঘনিষ্ঠ তিন শিক্ষার্থীকে মিড টার্ম পরীক্ষায় ১০ এর মধ্যে ১০ এবং তার বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা শিক্ষার্থীসহ তার পক্ষ নেয়া কয়েক শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ১০ এর মধ্যে তিন নম্বর দেন।

বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. চঞ্চল কুমার বোসের নামে অশালীন ভাষায় উড়ো চিঠি দেন। বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. হোসনে আরা জলির নামে চিঠি, সহকারী অধ্যাপক সোহেলী জান্নাতের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন পোস্ট,কোর্স শিক্ষক হয়ে প্রতি ব্যাচের পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র জমা না দেয়াসহ প্রতি ব্যাচের পরীক্ষায় একই প্রশ্ন পত্র জমা দেয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এসময় ৩০তম একাডেমিক কমিটির সভায় বিভাগের সকল শিক্ষক তাকে বিভাগের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ না দেয়ার পক্ষে কথা বলেন। নিয়োগ দেয়া হলে তার সাথে অন্য শিক্ষকরা  কাজ করবেন না বলে জানান। 

এদিকে অধ্যাপক ড.মিল্টন বিশ্বাস তার নামে আনীত অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে পরিকল্পিতভাবে একাডেমিক কমিটি আলোচ্য বিষয় ছাড়াই তার নামে অভিযোগ আনা হয় দাবি করে বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আরজুমান্দ আরা বেগম,অধ্যাপক ড. চঞ্চল কুমার বোস, অধ্যাপক ড. হোসনে আর জলির নামে পৃথক দুইটি আইনী নোটিশ পাঠান।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাষ্টার্সের ১ম সেমিষ্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. চঞ্চল কুমার বোস বলেন, অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বিভাগের একাডেমিক কাজে অসততার আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে তিনি বিভিন্ন সেমিষ্টারে শিক্ষার্থীদের নাম্বার প্রদানে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।

বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.আরজুমন্দ আরা বেগম বলেন, ড.মিল্টন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাডেমিক কাজে গাফেলতি,সহকর্মীদের অশালীন চিঠি, শিক্ষার্থীদের নম্বর জালিয়াতির ঘটনাসহ কয়েকটি অভিযোগ বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় উত্থাপিত হয়। পরবর্তীতে সেগুলা আমরা উপাচার্যের কাছে জানিয়েছি। উপাচার্য মহোদয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। আর লিগ্যাল নোটিশের বিষয়ে উপাচার্যের পরামর্শে কোন ব্যবস্থা নিবনা। 

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস এর সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার পর তিনি বলেন, আমি কাউকে নম্বর কম দেয় নি, যারা কম পেয়েছে  ,তাদের কে মেধার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। এখানে একদল শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে ভড়কে দিচ্ছেন। যেটা অত্যন্ত দুঃখ জনক।

এবিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এই কোর্সটির খাতা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে মূল্যায়ন করতে দিয়েছি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ শিক্ষক মিডটার্মের ফলাফল শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ করে না। তাদেরকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলা/এএএ

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0237 seconds.