The path to the image is not correct.

Your server does not support the GD function required to process this type of image.

জাপানি মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং দুটি সরল কৌতুক
  • ২৭ অক্টোবর ২০১৯ ১৪:৫৭:২৩
  • ২৭ অক্টোবর ২০১৯ ১৪:৫৭:২৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

জাপানি মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং দুটি সরল কৌতুক

ছবি : সংগৃহীত


কাকন রেজা :


এক. 
‘জাপান এত উন্নত কেনো’, সরল ধরণের একটি প্রশ্ন। এমন প্রশ্নে আমাদের কথিত ‘ইন্টেলেকচুয়াল’দের অনেকেই নাক কুঁচকে বলবেন, এটা কোনো প্রশ্ন হলো। এ প্রশ্নটিই করেছিলাম একজনকে, জাপানের বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগের খবরকে উদ্ধৃত করে। নাক কুঁচকানো দেখে মনে হলো, প্রশ্নটা করে বোকামির প্রকাশ ঘটালাম কিনা। তবে সান্তনা এটুকু যে, তাদের কাছে কোনটাই কোনো প্রশ্ন নয়। এই ‘কথিত’ শ্রেণির চিন্তা মূলত ‘ম্যাজিক রিয়েলিটি’ ভিত্তিক। তাদের বসবাস ‘ফ্যান্টাসি কিংডমে’, যেখানে চারিদিকে শান্তি আর অগ্রগতির সুবাতাস। তাই বিশ্বব্রহ্মান্ডের কোনো খবর তাদের তেমন একটা স্পর্শ করে না। অবশ্য স্বর্গে থাকলে কে আর মর্ত্য নিয়ে মাথা ঘামায় বলুন।

তারা মাথা না ঘামালেও বলি, জাপানি মন্ত্রী ইশু সুগাওয়ারা পদত্যাগ করেছেন, তার এক সমর্থকের বাড়িতে উপহার সামগ্রী পাঠানোর জন্য। তার এক সমর্থক মারা যাওয়ায় তার শোকগ্রস্ত পরিবারকে তিনি তরমুজ, কাঁকড়া, মাছের ডিম এসব জিনিস পাঠিয়েছিলেন শোক ও সমবেদনা প্রকাশের অংশ হিসাবে। বলতে পারেন, এতে দোষের কি হলো। এতো অনেক কম পাঠিয়েছেন, আমাদের দেশেতো কথায় কথায় পাঁচ-দশ লাখের ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠান করে চেক দেয়া হয়, এতে দোষের কি!

না আমাদের জন্য দোষের নয় বলেই, আমরা জাপান হতে পারিনি। জাপানি নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোন রাজনীতিক তার নিজ এলাকার লোকজনের মধ্যে অর্থ দান করতে পারবেন না। তা সত্বেও ওই মন্ত্রী উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছেন। যদিও প্রশ্ন রয়েছে, এগুলো ঠিক অর্থ প্রদানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা। তারপরেও কথা যখন উঠেছে তখন বিন্দুমাত্র দেরি করেননি সেই মন্ত্রী, পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের কারণ হিসাবে তিনি বলেছেন, ‘আমার সমস্যা নিয়ে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে পার্লামেন্টকে পশ্চাতে ফেলতে পারি না।’ ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে পর্যন্ত জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘সুগাওয়ারাকে নিয়োগ দেয়ায় এই দায় আমি বহন করছি। জাপানি জনগণের কাছে আমি গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

আহা, জাপান। একজনের দুর্নামের ভার অন্যরা বহন করবে কেনো, এমন নীতিগত প্রশ্নে যখন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন, সেই দেশটি উন্নত না হয়ে যায় কোথায়। বিন্দুমাত্র ত্রুটি-বিচ্যুতি গায়ে মাখতে চান না যে দেশের রাজনীতিকরা, সে দেশের উন্নতি তো নিতান্তই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। সেজন্যেই এমন দেশের রাজনীতিকদের অন্য শক্তির উপর নির্ভর করতে হয় না। ক্ষমতা আকড়ে থাকার জন্য পুষতে হয় না মাস্তান বাহিনী। রাখতে হয় না একপাল ‘ইন্টেলেকচুয়াল’ স্তাবক। স্তব ভিত্তিক গান-নাটক-সিনেমা বানানোর জন্য দরকার হয় না ‘হৈচৈ শিল্পীগোষ্ঠী’র। ‘পেট্রোনাইজ’ করা লাগে না ‘জ্বি হুজুর’ ধরণের মাধ্যমকে, যার নাম ‘গণ’ হলেও, কাজকাম ‘গণে’র বিপরীত।

দুই. 
জানা একটি ‘জোক’ আবার বলি। জন তার ভাঙা সাইকেলটা পার্লামেন্ট ভবনের সামনে রেখে তাতে তালা লাগাচ্ছিলো। এমন সময় গার্ড বললেন, ওই ব্যাটা এখানে সাইকেল রাখছিস কেনো, জানিস না এখান দিয়ে এমপি-মিনিস্টাররা যায়। জনের নিরুদ্বেগ জবাব, সেজন্যেই তো সাইকেলে তালা দিয়ে যাচ্ছি।
আরেকটা বলি। স্বৈরশাসকের কথা উঠলেই ইদি-আমিনের কথা উঠে। সেই ইদি-আমিন একবার নিজের নামে একটি ডাকটিকিট ছাড়লেন। কদিন পর মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, টিকিট কেমন চলছে। মন্ত্রী বললেন, টিকিট বিক্রি হচ্ছে স্যার, কিন্তু মানুষজন তা খামে লাগাচ্ছে না। বিস্মিত ইদি আমিন বললেন, কেনো? সম্ভবত আঠা ভালো হয়নি স্যার, মানুষজন লাগাতে পারছে না। 

ডাকা হলো টিকিট তৈরির করার দায়িত্ব যে ছিলো তাকে। তিনি বললেন, স্যার আঠাতো ভালোই দিয়েছি। আদি আমিনের প্রশ্ন, তাহলে মানুষজন টিকিট খামে লাগাচ্ছে না কেনো? দায়িত্বপ্রাপ্তের সরল বিশ্বাসে উত্তর, লোকজন টিকিটের উল্টো পিঠে আঠার অংশে থুতু না লাগিয়ে উপরের অংশে লাগাচ্ছে, তাই খামে সাঁটা হচ্ছে না স্যার।

জাপানি মন্ত্রী এমন কৌতুকের অংশ হতে চাননি বলেই পদত্যাগ করেছেন। কোন কোন ত্যাগ অর্জনের সোপান হয়, সেই ভবিষ্যতকে দেখেন বলেই হয়তো তার পদত্যাগ। আর প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ সেই দূরদর্শনের প্রজ্ঞা থেকেই। 

লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0196 seconds.