The path to the image is not correct.

Your server does not support the GD function required to process this type of image.

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার পেছনে
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৫ অক্টোবর ২০১৯ ১৫:৪৪:৫৮
  • ২৫ অক্টোবর ২০১৯ ১৫:৪৪:৫৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার পেছনে

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮। এ বছর এ সূচকে সবচেয়ে ভালো করা ১০ দেশের মধ্যে পাশের দেশ ভারত, ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ পাকিস্তান, আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া। শত উদ্যোগ সত্বেও বাংলাদেশ মোটে ৬ ধাপ এগিয়ে ১৯০ দেশের মধ্যে ১৭৬ থেকে ১৬৮তম স্থানে উঠে এসেছে।

বিগত তিন বছরে সরকারের নানা উদ্যোগ ও দফায় দফায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে নানা কথা বলা হলেও তার খুব বেশি প্রভাব পড়েনি বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে।

এমনকি গতবারের ১১০ নম্বর র‌্যাংকিং থাকা নেপাল ১৬ ধাপ এগিয়ে এবছর ৯৪তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়াও ৬ ধাপ এগিয়ে ১৬৫ নম্বর স্থানে জায়গা করে নিয়েছে প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে ভারত সবচেয়ে এগিয়ে। গত বছর দেশটির অবস্থান ছিল ৭৭ নম্বরে, এবার ১৫ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছে ৬৩ তম স্থানে। ভঙ্গুর অর্থনীতি ও রাজনীতির দেশ পাকিস্তান ১৩৬ নম্বর থেকে এক বছরের ব্যবধানে উঠেছে ১০৮ নম্বরে। একধাপ এগিয়ে শ্রীলঙ্কা অবস্থান নিয়েছে দুই অঙ্কের ঘরে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের মূল প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম একধাপ পিছিয়ে জায়গা পেয়েছে ৭০ স্থান।

এছাড়াও ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার সূচকে এবার এগিয়ে যাওয়া সেরা ১০ দেশের মধ্যে সৌদি আরব, জর্দান, টোগো, বাহরাইন, তাজিকিস্তান, কুয়েত ও চীন রয়েছে। এই ১০টি দেশ এক বছরে ৫৯টি সংস্কার এনেছে, যা ওই বছর বিশ্বের মোট সংস্কারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। সেখানে বাংলাদেশ মোটে তিনটি সংস্কার করেছে।

বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন একীভূত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (বিডা) গঠনের পর ব্যবসা সহজ করার উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। ব্যবসার শুরুর প্রক্রিয়া থেকে শেষ পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন সেবা ফি কমানো, সেবা নিশ্চিত করার সময়সীমা কমানোর মাধ্যমে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে দুই অঙ্কের ঘরে জায়গা করে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। এরপর থেকে বিডার উদ্যোগে দফায় দফায় বৈঠক হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ক্ষমতা ধরে রাখার চর্চার কারণে তাতে খুব একটা সফল হওয়া যায়নি।

আর এ কারণেই প্রত্যাশিত মাত্রায় তো নয়ই, দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের ছোট আকারের অর্থনীতির অন্য অনেক দেশের তুলনায় পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ। আগামী বছরও এ সূচকে খুব বেশি অগ্রগতির আশা করছেন না সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান জানান, আগামী বছর ২০২১ সালে বাংলাদেশ ৯৯তম স্থানে উঠে আসবে।

দেশে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে বাংলাদেশে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয় বিডার প্রথম নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলামের হাত ধরে।

এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব সংস্কার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তার পুরোটা বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ র‌্যাংকিংয়ে ১০ নম্বরে উঠে আসবে। ৬ ধাপ এগিয়েছে, এটি ইতিবাচক। তবে আনন্দিত হওয়ার মতো কিছু নয়।’

কোনো দেশে ব্যবসায়ীরা কত সহজে ব্যবসা শুরু করতে পারেন, সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স কত কম সময়ে, কম খরচে পাওয়া যায় তার ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন প্রণয়ন করে বিশ্বব্যাংক। যে দেশে সহজেই ব্যবসা করা যায়, ওই দেশের ব্যবসায়ীদের পণ্য উৎপাদন খরচ কম হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ে। এতে ওই দেশের ব্যবসায়ীরা অন্য দেশের ব্যবসায়ীদের তুলনায় এগিয়ে থাকেন।

কোনো দেশের ব্যবসায়ীরা অন্য বাহিরের কোনো দেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এই প্রতিবেদন দেখে সিদ্ধান্ত নেন যে, বিনিয়োগ করবেন কিনা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া, নির্মাণ অনুমোদন পাওয়া, বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া, জমি নিবন্ধন, ঋণ পাওয়া, সংখ্যালঘু উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা, কর পরিশোধ ব্যবস্থা, বহিঃবাণিজ্য, চুক্তি কার্যকর ও দায় পরিশোধ সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যেসব দেশ ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে অন্তত তিনটির বেশি ক্ষেত্রে সংস্কার এনেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে। বাংলাদেশ কোম্পানির নামের ছাড়পত্র প্রদান, রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো ও ডিজিটাল সার্টিফিকেট নেয়ার ফি বাতিল করে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করেছে এবং এক্ষেত্রে খরচ কমিয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার সময় কম লাগছে বাংলাদেশে। এছাড়া নতুন সংযোগের জন্য সিকিউরিটি মানির পরিমাণও কমানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঋণ পাওয়া কিছুটা সহজ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক যে ১০টি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তার মধ্যে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়ায় বিশ্বের ১৯০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৩১ নম্বরে, নির্মাণ অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে ১৩৫, বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ১৭৬, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ১৮৪, ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ১১৯, সংখ্যালঘু উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় ৭২, কর পরিশোধ প্রক্রিয়ায় ১৫১, বহিঃবাণিজ্যে ১৭৬, চুক্তি কার্যকর বিবেচনায় ১৮৯ ও দায় পরিশোধ সক্ষমতা বিবেচনায় ১৫৪ নম্বরে জায়গা পেয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে ভারত সম্পর্কে বলা হয়, ভারত ও চীন তাদের সংস্কার কার্যক্রমের কেন্দ্রে রেখেছে ব্যবসা সহজ করার বিষয়টি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেইক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগানে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোসহ বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দেশজুড়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সৃষ্টি করেছে। দেশটি ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে অগ্রগতির মাধ্যমে সে প্রতিশ্রতি রক্ষার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে তুলে ধরছে। এদিকে পাকিস্তান ভারতের চেয়েও বেশি সংস্কার এনেছে।

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0200 seconds.