• বাংলা ডেস্ক
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৩:০৮:১৩
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:০৫:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের র‍্যাঙ্কিং : সমস্যা এবং প্রতিকার

ছবি : সংগৃহীত


ড. মোহাম্মাদ আবুল হাসনাত :


সরকার আশা করছে আমাদের দেশ খুব তাড়াতাড়ি সিঙ্গাপুরের মত উন্নত দেশ হবে। স্বপ্ন দেখতে এবং আশা করা অবশ্যই ইতিবাচক। স্বপ্ন আর আশা না থাকলে কোন ব্যক্তি বা দেশ এগোতে পারে না। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, তাই শিক্ষা-গবেষণায় এগোনো ছাড়া কোন জাতি এগুতে পারে না।

সিঙ্গাপুর তাই আগে তাদের জাতির মেরুদণ্ড সোজা করেছে। অতি সম্প্রতি লন্ডন ভিত্তিক Times Higher education এর তথ্যমতে  National University of Singapore এর বর্তমান অবস্থান এশিয়াতে তৃতীয়  এবং বিশ্বে ২৫ তম। অপরদিকে আমাদের দেশ সেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সমগ্র বিশ্বে ১০০১ তম।

তাই সিঙ্গাপুরের সমকক্ষ হতে হলে আমাদের কতটা পাড়ি দিতে হবে, তা বলে বুঝানোর দরকার নেই। শিক্ষা গবেষণায় আমাদের যে দুরবস্থা  তা আন্তর্জাতিক সভা সেমিনারে গেলেই টের পাওয়া যায়।  কয়েক বছর আগে দিল্লিতে গিয়েছিলাম। সেখানে Indian Science Academy তে কাকতালীয়ভাবে  ভারত মহাসাগরীয় আশেপাশের দেশ গুলকে নিয়ে  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক একটা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাই।

সেই সম্মেলনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মরিশাস, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার  সহ অনেক দেশের বিজ্ঞ বিজ্ঞ গবেষক-শিক্ষাবিদগণ  এসেছিলেন। আর ভারতের গবেষকগণ তো ছিলেনই। দক্ষিন এশিয়ার দেশ গুলোর মধ্যে জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোচনার মধ্যবিন্দুতে ছিল  ভারত। তার পরের অবস্থানটি ছিল পাকিস্তানের গবেষকদের। অন্যদিকে বাংলাদেশের গবেষকদের  বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিষয়ক উপস্থাপনা ছিল একেবারেই সাধারন মানের। আমাদের গবেষকগণ যারা সেই সম্মেলনে গিয়েছিলেন, উনাদের কেউ দেশের বা নিজের তথ্যভিত্তিক কোন গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারেন নাই।

প্রায় একই রকম আভিজ্ঞতা হয়েছিল ইরানের তেহরানে IROST এ ভারত মহাসাগরীয় দেশ সমূহের Water research বিষয়ক একটি সম্মেলনে। সেখানে গিয়েছিলাম আয়োজকদের আমন্ত্রণে একটা পেপার উপস্থাপনের জন্যে। বাংলাদেশ থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের খরচে কয়েকজন গিয়েছিলেন দেশের প্রতিনিধি হিসাবে। সেখানে দেশ ভিত্তিক লেকচার ছিল। দেশের পানি বিষয়ক গবেষণার কোন তথ্যই উনাদের কাছে ছিল না। অগ্যতা উনারা আমাকেই  আনুরোধ  করল, আমি যেন বাংলাদেশের পক্ষে কিছু একটা উপস্থাপন করি। কি আর করা, ৬ ঘণ্টা ইন্টারনেট ঘেঁটে ঘুঁটে নিজের গবেষণার সাথে অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে সেইদিন কোনভাবে  বাংলাদেশকে উপস্থাপন করে এসেছিলাম।

সরকার যাদেরকে বিদেশে পাঠায় তারা নিশ্চয়ই বাংলাদেশের সেরা। এই সেরাদের যে কি অবস্থা নিজের চোখে দুইবার দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে। এইগুলো কেবল  খণ্ড চিত্র মাত্র। এইভাবেই  সম্ভবত (কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া) আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ বিদেশে শিক্ষা- গবেষণা বিষয়ক সভা-সমাবেশে  পিছনের সারির ছাত্রদের মত নিভু নিভু আলোর মত জ্বলে। অথচ এই দেশের সন্তানেরাই বিদেশে গিয়ে, সেইসব দেশের হয়ে জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নয়নে সম্মানের সাথে কাজ করে চলেছেন। তাহলে দেশে নয় কেন? বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে  ICDDRB ছাড়া  আমাদের দেশে কোথাও কোন গবেষণা হয় এটা বোধ হয় তারা  জানেই না। জানার তো উপায় একটাই , সেটা হোল Citation indexed ( Scopus, web of science) জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশ করা। গবেষণা না থাকলে আর্টিকেল আসবে কোথা থেকে? SJR Scimago Journal & Country ranking অনুসারে বিশ্বে  ভারত,  সিঙ্গাপুর এবং  পাকিস্তান অবস্থান যথাক্রমে ৯, ৩২ এবং ৪৫।

অন্যদিকে আমাদের অবস্থান ৬১ তম।  এই দেশ সমূহের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিংও  একই রকম চিত্র প্রকাশ করে। পাকিস্তানের কায়দা আজম ইউনিভারসিটির অবস্থান বিশ্বে ৪০১-৫০০তম এর মধ্যে এবং তাদের ৭ টি বিশ্ববিদ্যালয়  শীর্ষ ১০০০ এর মধ্যে। অন্যদিকে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান আরো সুসংহত যেমন: Indian Institute of Science এর অবস্থান ৩০১-৩৫০ এর মধ্যে এবং তাদের ৩৬ টি বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ ১০০০ এর মধ্যে। আমাদের অবস্থান ১০০০ এর মধ্যে নেই আগেই বলেছি।

এমন কেন হোল? সেটা  ১৯৯৭ সাল হবে, আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। পরীক্ষা  বিষয়ক কারনে আমরা কিছু ছাত্র তৎকালীন উপাচার্য এ কে আজাদ স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি দুঃখ করে বলেছিলেন আগে (উনার ছাত্র জীবনে) দেখা যেত রাত বারটা একটা  পর্যন্ত কার্জন হলের রুম গুলতে আলো জ্বলতে, শিক্ষা গবেষণা নিয়ে ছাত্র-শিক্ষকেরা থাকত ব্যাস্ত । এখন (১৯৯৭) আর সেই আলো  জ্বলেনা। তিনি  যোগ করেন- আমরা তাই আমাদের মেধাবী প্রজন্মটিকে হারিয়ে ফেলছি। অবস্থা  ২০১৯ এ এসে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে এখন দুপুরের পর ছাত্রদের অতি প্রয়োজনে সার্টিফিকেট সত্যায়নের জন্যে একজন শিক্ষকও পাওয়া যায় না! তাহলে গবেষণা করবে কে এবং কখন? বিসিএস নির্ভর পড়াশুনা আমাদের গবেষণামূলক পড়াশুনার অন্যতম অন্তরায়। সরকার বিসিএস চাকুরেদের যে সুযোগ সুবিধা দিয়েছে গবেষণা বিষয়ক চাকুরীতে তার ছিটেফোঁটাও নেই। অন্যদিকে পৃথিবীতে একমাত্র বাংলাদেশেই শিক্ষকের এবং ছাত্রের রাজনৈতিক পরিচয়ে চাকরী মিলে।

রাজনিতি আর গবেষণা দুইটার জন্যই সময় দিতে হয়। তাই এই দুইটা একসাথে চলে না। একজন শিক্ষক যদি দেখেন রাজনীতি করলে উনি বিভিন্ন পদ পদবি পান এবং আর্থিকভাবে লাভবান হন তাহলে কেন তিনি গবেষণার মত কষ্টের কাজ করবেন? আর ছাত্ররা যদি দেখে রাজনৈতিক পরিচয় যত জোরালো করা যায় ততোই তাদের মঙ্গল তাহলে তারাই বা কেন এই গবেষণামূলক কাজে মনোযোগী হবে? অন্যদিকে গবেষণার ফলাফলকে মূল্যায়ন না করার কারণে শিক্ষকদের এক বড় অংশ পার্টটাইম অন্যকাজে যুক্ত হচ্ছেন, যা মোট কর্ম ঘণ্টা থেকে বিয়োগ হচ্ছে আর গবেষণার সময় কমে যাচ্ছে। এভাবেই চেইন বিক্রিয়ার মত গবেষণা বিমুখ পরিবেশ আমাদের দেশে বিস্তার লাভ করছে।

এখন প্রশ্ন জাগে, আমারা কি এই অবস্থাতেই থাকতে চাইব কি না? নিশ্চয়ই  না । সমস্যা যখন পাওয়া গেছে তাই এর সমাধানও আছে। আমাদের উপরে উঠতে হলে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে নীচের পদক্ষেপ গুলো এখনই বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

১. অনেকেই অল্প ফান্ড দিয়েও ভাল গবেষণা করেন কিন্তু আর্টিকেল লিখতে চান না। একটা সফল গবেষণার অন্যতম পরিচায়ক হল সেটা কি মানের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তার উপর। গবেষণা শেষে আর্টিকেল লিখা সবচেয়ে জটিল এবং কঠিন কাজ। গবেষকেরা যেন আর্টিকেল লিখে তা উচ্চ মানের জার্নালে প্রকাশ করেন সেই বিষয়ে উৎসাহিত না করলে এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং কক্ষনোই উপড়ে উঠবে না।

একটা Citation indexed High impact factor সম্পন্ন জার্নালের উপযোগী  আর্টিকেল লিখতে ৪০০-৫০০ ঘণ্টা বা তারচেয়েও বেশি সময় ব্যয় হয়। এতে কত রাত যে না ঘুমিয়েই কাটাতে হয় তার খবর কে রাখে?  একজন শিক্ষক ( বিশেষ করে একজন অধ্যাপক যার প্রোমোশনের আর দরকার নাই) কেন তিনি এত সময় ব্যয় করবেন এই গবেষণার পিছনে?শ্রমের মর্যাদা ছাড়া এই বিশ্বে কোন কাজটি আদায় করা সম্ভব হয়েছে? তাই গবেষকদের উৎসাহিত করতে পাকিস্তান, কোরিয়া , সৌদি আরব আর্টিকেলের মান অনুযায়ী গবেষকদের  আর্থিক পুরস্কার দিয়ে থাকে। মালয়েশিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মূল বেতন ভাতার অতিরিক্ত বাৎসরিক গবেষণার ফলাফলের ( ISI articles) ভিত্তিতে পরের বছরের জন্যে ইনসেন্টিভ দিয়ে থাকে। গবেষণায় কোন অর্জন না থাকলে এর পরের বছর এই ইনসেন্টিভ স্থগিত থাকে। আবার অর্জন থাকলে পরবর্তী বছর আবার দেয়া হয়। এই ভাবে চলতে থাকে।

ফলে ওইসব দেশের লেকচারার থেকে অধ্যাপকগন সবাই অবসরের বছর পর্যন্ত গবেষণা চালিয়ে যান এবং প্রতিযোগিতা মুলকভাবে ভাল আর্টিকেল প্রকাশ করার চেষ্টা করেন। আমার বিশ্বাস আমাদের দেশেও এমন পদক্ষেপ গ্রহন করলে যারা আর্টিকেল লিখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন তাড়াও আর্টিকেল প্রকাশের বিষয়ে  উৎসাহিত হবেন। যদি প্রতি বছর  মানসম্মত ২০০ টি আর্টিকেল আমাদের দেশ থেকে প্রকাশের টার্গেট করা হয় এবং আর্টিকেল প্রতি ১লাখ টাকা করে পুরস্কার প্রদান করলে ব্যয় হবে বার্ষিক ২ কোটি টাকা মাত্র। এটা কি চার লাখ কোটি টাকার বাজেটের দেশের জন্য খুব বেশি টাকা?

সরকার আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে Higher Education Quality Enhancement (HEQEP) প্রকল্প চালু করেছিল। এই প্রকল্পে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু তার ফলাফল কি? বিগত ৫ বছরে HEQEP প্রকল্পের টাকায় কতগুলো (Citation Indexed Journal এ) আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে? আমরা কি ৭০০, ১০০ বা ৭০ টি মানসম্মত আর্টিকেল প্রকাশ করতে পেরেছি? UGC এবং HEQEP এই বিষয়ে ভাল বলতে পাড়বে। আমার বিশ্বাস আর্টিকেল প্রকাশের উপর পুরস্কার থাকলে এই প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই কয়েকশ ভাল মানের আর্টিকেল আমারা পেয়ে যেতাম। তাই এই  উদ্যোগটি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী। ইউজিসি, শিক্ষামন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয় বিষয় ভিত্তিক হলেও গবেষকদের উতসাহিত করতে পারে।

অন্যদিকে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণও নিজনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উতসাহিত করতে এমন উদ্যোগ নিতে পারেন। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে আর্টিকেল প্রকাশের উপর পুরস্কার দেয়ার বিষয়টা যদি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে এই দেশ হতে এত সংখ্যক মান সম্মত আর্টিকেল প্রকাশিত হবে যে শিক্ষকদের পদন্নোতির জন্যে আর্টিকেল নিয়ে আর ভাবতে হবে না।

২. অধ্যাপকগণই সবচেয়ে অভিজ্ঞ গবেষক কিন্তু আমাদের দেশের উচ্চাশিক্ষার  যে নীতিমালা আছে সেই অনুসারে গ্রেড-১ ও ২ এর অধ্যাপকদের গবেষণা করে আর্টিকেল প্রকাশ করবেন এই বিষয়ে  উৎসাহ মূলক কিছুই বলা হয়নি। একজন অধ্যাপক ২০-২৫ বছর অধ্যাপনা করার  সুযোগ পান। এই সময়টিতে  অধ্যাপকদের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতাকে ব্যবাহার করতে হবে। তাই অধ্যাপকদের গবেষণায় ধরে রাখার জন্যে  বিদ্যমান একাডেমিক  পদগুলো বহাল রেখে আরো এক বা অধিক পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। এর নাম হতে পারে Super grade অথবা International grade। উনাদের মর্যাদা হবে বর্তমান গ্রেড-১ অধ্যাপকদের চেয়ে বেশি।

এই গ্রেডে উন্নীত হতে হলে ইউজিসি কিছু আন্তর্জাতিক মানের টার্গেট দিতে পারে যেমন number of ISI articles as first author/corresponding author, total impact factor of articles, citation numbers of articles, number of MS/MPhil/PhD students supervised ইত্যাদি। উনাদের নিয়োগ হতে পারে ইউজিসির অধীনেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়েব সাইট থেকে প্রোফাইল দেখে। এই পদের জন্যে নির্ধারিত একাডেমিক যোগ্যতা সম্পন্ন যেকোন  গ্রেডের (১,২,৩) অধ্যাপকই যেন আবেদন করতে পারেন সেই সুযোগ রাখতে হবে। বিষয়টি শৃঙ্খলিত না করে উন্মুক্ত করে দিতে হবে। ১৫ বা ২৫ পার্সেন্ট দিয়ে আবদ্ধ করা যাবে না।  উনাদের বেতন-ভাতা দিতে হবে বর্ধিত হারে এবং সরকারী সেবা সমূহ যেন উনারা সহজেই পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি দেশে বিদেশে বিভিন্ন সরকারী প্রোগ্রামে উনাদের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে যেন দেশের উন্নয়নে উনারা উনাদের ভাবনা তুলে ধরতে পারেন। মোটকথা গবেষণার ফলাফলকে যদি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং সেইভাবে যদি সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় অনেকেই চেস্টা করবে কিভাবে লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, কারন প্রয়োজনই পথ চেনায়। আমার বিশ্বাস এভাবে দেশে অধ্যাপকদের একটি এলিট শ্রেণী তৈরি হবে যারা হবেন গর্ব এবং জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান।

৩. প্রোমোশন-আপগ্রেডেশনে  রিভিউ আর্টিকেল কে স্বীকৃতি দিতে হবে। এই আর্টিকেল প্রকাশের জন্যে  তেমন  ফান্ড লাগে না। লাগে শুধু ইচ্ছা এবং  একটা কম্পিউটার। একটি ভাল মানের রিভিউ আর্টিকেল গবেষণা আর্টিকেলের তুলনায় Citation অনেক  বেশি বাড়ায়, যা বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের র‍্যাঙ্কিং বাড়াতে সাহায্য করবে।

৪. বর্তমানের মোটামুটি সময়নির্ভর পদন্নতির পরিবর্তে মেধাভিত্তিক পদন্নোতির ব্যবস্থা করতে হবে।  নির্দিষ্ট  একাডেমিক যোগ্যতা যখনই একজন শিক্ষক অর্জন করতে পারেন তখনই  উনাকে সময় পূরণের জন্যে অপেক্ষায় না রেখে ন্যূন্তম সময়ে পদন্নোতি দিতে হবে। এতে গবেষণার গতি বাড়বে।

৫. রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে গবেষকদের প্রোফাইল দেখে গবেষণা ফান্ড দিতে হবে। আমাদের দেশে গবেষণা করা ইউরোপ আমেরিকার চেয়ে অনেক ব্যয়বহুল। কারন সেইসব দেশের গবেষকেরা  গবেষণার উপকরন স্বল্প সময়ে নিজ দেশ থেকেই কিনতে পারেন। আর আমাদের আমদানি করতে  হয় উচ্চ হারে ট্যাক্স দিয়ে অনেক যক্কি- ঝামেলা  সহ্য করে। ২-৩ লাখ টাকা গবেষণা বরাদ্দ পেয়ে যদি সচিবালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় কয়েকবার  আর এয়ারপোর্টে ৫০-১০০% ভেট –ট্যাক্স যদি দিতে হয় তাহলে গবেষণা করা কিভাবে সম্ভব? । এটাও গবেষণা বিমুখতার একটা কারন।  শিক্ষকেরা যেন বিদেশ থেকে বিনা শুল্কে গবেষণা উপকরণ কিনতে পারেন সেই বিষয়ে নজর দিতে হবে। তাহলে অল্প টাকায়ও তুলনামূলকভাবে বেশি অথবা মানসম্মত উপকরনাদি কেনা যাবে।

৬. তেহরানে যখন গিয়েছিলাম তখন ওমান প্রবাসী বাংলাদেশী অধ্যাপক মুস্তাক আহমেদের সাথে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন ওমানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের google scholar ID খোলা বাধ্যতামূলক যেখানে গবেষকদের প্রফাইল স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপডেট থাকে। নিজের প্রোফাইল উন্নত করতে তাই শিক্ষকেরা প্রতিযোগিতা অনুভব করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ও সহজেই বুঝতে পারে কার কি অবস্থা। ডিজিটাল এই যুগে এটা তাই আমাদের দেশেও করা দরকার।

মোট কথা শিক্ষকদের  মান সম্মান আজ দেশে-বিদেশে যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তা থেকে বের হতে হলে  শিক্ষা গবেষণা এবং মানসম্মত আর্টিকেল প্রকাশ করা ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই সম্মানিত সহকর্মীদের প্রতি নিবেদন আমার এই মতের সাথে একমত হলে বা আপনাদের এর চেয়ে ভাল কোন পরামর্শ থাকলে সরকারের প্রতি আওয়াজ তুলুন। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি, এখন আমাদের শিক্ষা-গবেশনায় বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়ানোর পালা।

আমাদের সরকার আর গরীব নয় তাই ভাল পরিকল্পনা দিলে সরকার নিশ্চয়ই গ্রহণ করবে।  আর যদি এই বিষয় নিয়ে আমরা না ভাবি  তাহলে আমাদের অবস্থান সবসময়ই পিছনের সারিতেই থাকবে যেমনটি দেখেছিলাম দিল্লি আর তেহরানে।

লেখক: অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

E-mail: mahtazim@hotmail.com

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0187 seconds.