• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:৪১:১১
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:৪১:১১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

গণভবনে প্রবেশের পাস বাতিল শোভন-রাব্বানীর

ছবি : সংগৃহীত

গণভবনে প্রবেশের পাস বাতিল করা হয়েছে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর। এর ফলে ছাত্রলীগের এই দুই শীর্ষ নেতা এখন গণভবনে প্রবেশ করতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে অন্যদের মতো অস্থায়ী পাস নিতে হবে।

তারা আগের মতো সরাসরি গণভবনে প্রবেশ করতে পারবেন না। সাধারণত অল্প কিছু সময় বা কয়েক ঘণ্টার জন্য অস্থায়ী পাস দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গণভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্থায়ী অনুমতি ছিল। ফলে এতদিন গণভবনে প্রবেশের জন্য অন্য অনেকের মতো তাদের আলাদা কোনো অস্থায়ী পাস বা প্রবেশ কার্ড নেয়া লাগতো না। যেকোনো সময় তারা গণভবনে প্রবেশ করতে পারতেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ওপর ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের এই দুই নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নানা অভিযোগ উঠায় শেষমেশ কমিটিই ভেঙে দিতে বললেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় তিনি এ কথা বলেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের ওই নেতারা জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আর তাতে ছাত্রলীগের বর্তমান শীর্ষ নেতাদের ওপর তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে কমিটি ভেঙে দিতে বলেছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে নানা অভিযোগ তোলেন উপস্থিত নেতারা।

এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—বিতর্কিতদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ইত্যাদি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিজেই বিবাহিত এমন অভিযোগও রয়েছে। সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে অযোগ্যতা, অদক্ষতার অভিযোগও রয়েছে দু’জনের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেরিতে যাওয়া এমনকি আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগের নেতারা আরো জানান, ছাত্রলীগের ওপর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী গণভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেও দেখা দেননি তিনি।

উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা তখন দুজনকে গণভবন থেকে চলে যেতে বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে সামনে পেয়ে সবার সামনেই ‘বকাঝকা’ করেন। তিনি বলেন, ‘চলে যাও এখান থেকে।’ পরে ছাত্রলীগের দুই নেতাই বেরিয়ে যান।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের গাড়িতে ওঠাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে জড়ান ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। এসময় দায়িত্বরত এক সাংবাদিককে শোভনের গাড়িতে তুলে নেয়া হয় এবং সাংবাদিকের মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ডিলিট করা হয়।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0897 seconds.