• বাংলা ডেস্ক
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২১:৫১:২১
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২১:৫১:২১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভারত নিজেই তার সীমান্ত সমস্যা সৃষ্টি করেছে

ছবি : দ্য জাপান নিউজ থেকে নেয়া


মিহির শর্মা


ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চণ সুন্দর, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং জাতিগত, ধর্মীয় ও ভাষাগতভাবে বিভক্তির স্থান হলো পূর্ব। বহু স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী তাদের পাহাড়, ব্রহ্মপুত্র নদ, উপত্যকা এবং ভূমিখণ্ড ভাগ করে নিয়েছে আদিবাসী উপজাতিগুলোর সাথে। চা বাগানের শ্রমিকরা সবাই হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের, গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের।

অন্যদিকে বিশ্বের নানান অংশে, যেমন বলকানদের কথা চিন্তা করুন- পুরাতন ক্ষোভের পচন ধরে নতুন একটি খুঁজে পায় বছর জুড়ে। বিছিন্নতাবাদী আন্দোলনে পরিস্থিতি দুঃখজনকভাবে খারাপের দিকে যায়, ‘বহিরাগত’ বিরোধী উত্তেজনা ও জাতিগত গণহত্যার মধ্যে দিয়ে। এখন ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে উত্তরপূর্ব আসামের প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষের নাগরিকত্ব, দেশ ও এলাকা নেই এবং ভারত এখন নিজেই নিজের তৈরী করা সমস্যার মুখোমুখি।

আলোচ্য বিষয়টি জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তালিকা বা এনআরসি নিয়ে। এই তালিকার মাধ্যমে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে আসামে বসবাসকারীদের মধ্যে কারা ভারতীয় নাগরিক আর কারা নয়। বহু বছরের ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ার পর সরকার অবৈধ অভিবাসীর অভিযোগে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিবন্ধন তালিকা থেকে ছাঁটাই করে। যাদের অধিকাংশ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ভারতে অভিবাসন গ্রহণ করে বলে অনুমান করা হয়।

কিন্তু এতে কেউ খুশি নয়, এমনকি এআরসি’র প্রধান সমর্থনকারী হিন্দু জাতীয়তাবাদী এবং আসামের কট্টরপন্থী উপজাতিগুলোও খুশি নয়। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যারা নয়া দিল্লি ও আসাম দুই স্থানেই ক্ষমতায় আছে, তাদেরও ক্রোধ এই কারণে যে, এই তালিকায় মুসলমানদের সম্পূর্ণরূপে নথিভুক্ত করা হয়নি, যাদের বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে আক্রমণ করা হয়। বাংলাদেশে থেকে আসা মুসলমানদের ঢল কখনোই ‘মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে প্রতিফলন ঘটে না আসামের আদমশুমারির তথ্যে, এবং এখন তা এনআরসি’র মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু এটা থাকা রাজনৈতিক কারণে বিজেপির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে এতো কম লোকের কারণে আসামের কট্টরপন্থীরা উদ্বিগ্ন। সরকারের হিসেবে মাত্র সাত ভাগ জনসংখ্যাকে বাদ দেয়া হয়েছে। তারা এটা বিশ্বাস করে যে, ‘বহিরাগতদের’ জনসংখ্যা ১০ ভাগ।

উদারপন্থী ভারতের এরকম বেআইনী প্রক্রিয়া হতাশাজনক। যেখানে অসহনীয় বোঝা নিয়ে আসামের গরিব এবং প্রান্তিক বসিন্দারা তাদের কাগজপত্র প্রদান করছে যে, তাদের পরিবার ১৯৭১ সালের আগে থেকেই ভারতে বসবাস করছে। এতে করে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। মা দেখছে, তার সন্তানের নাম তালিকায় নেই। স্ত্রী তার বাদ পড়া স্বামীকে খুঁজছে। এক ভাইকে ভারতীয় ঘোষণা অন্য ভাইয়েরা নেই।

এর ফলে অনাকাঙ্খিত সমস্যার দেখা দিয়েছে। ভারত এখন নিবন্ধন থেকে বাদ পড়া প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিয়ে কী করবে? এর মধ্যে কেউ আবেদন করতে পারে নাগরিকত্ব আদালতে, কিন্তু এটা অত্যন্ত অন্যায়, বিশেষত মুসলমানদের জন্য। বাংলাদেশ তাদের গ্রহণ করবে না, এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোন কারণে ঢাকায় বলেছেন যে, ‘এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’। এখন কি তাদের বিশালাকার বন্দিশিবিরে পাঠানো হবে? একই সাথে পরিবারগুলোকে আলাদা করে এবং তাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে? তাদের স্থায়ীভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত বানানোর জন্য? এতে করে উদার গণতান্ত্রিক ভারতের চেহারাটা খুঁজে পাওয়া যাবে না।

নৃ-গোষ্ঠি সর্বাধিক যত্নের সাথে শাসন আশা করে। উত্তর-পূর্বের সাথে রাজধানী দিল্লির দূরত্ব অনেক। রাষ্ট্র খুব কম সদয় হলেও কিন্তু সাধারণত সাবধান। বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী এবং বিশৃঙ্খল আন্দোলন শুধুমাত্র পাশবিকভাবে দমনই নয় বরং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মাধ্যমে তাদের চিন্তা ও নেতাদের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা। কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণত সময়ক্ষেপন করেছে, আশা করি অসন্তুটি কিছুটা হলেও দূর হবে এবং সংহতি প্রকাশ পাবে।

যখন প্রক্রিয়াটি যথাযথ ও সুন্দরভাবে কাজ করত না, তখন দেশ একসাথে গাথা ছিলো। যেখানে ভারত সরকার ক্রমাগত স্বীকৃতি জানায় যে, পরিচয়গুলো ঝাপসা বা জড়িত, সেখানে সাদা এবং কালো সীমানা টানা বিপদজনক কাজ। 

কিন্তু বর্তমানে ভারত দেশটি কঠিনতর ও হীনতর ভাঁড়ামি এবং সীমাহীনভাবে কম বিচক্ষণ। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ধরণা সব সময় ভারতের অস্বিত্বের জন্য হুমকি তৈরী করে। এটা স্বীকৃত যে, বাংলাদেশি অভিবাসীর ভয় একটি ক্ষমতার রাজনীতির হাতিয়ার। এখন অবাক করার মত ঘটনা এটা যে, সরকারি নিবন্ধন তালিকা থেকে বাদ পড়া ১ লাখ অমুসলিমকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা সহজ করতে রাজনৈতিক বিবেচনায় আইন পাস করা হবে।

 কিন্তু বিজেপির সাথে জোট বাঁধা উদ্বিগ্ন আসামের জাতীয়তাবাদীরা এই সমাধান ক্ষুব্ধভাবে প্রত্যাখান করে। তারা সব সব ধরনের ‘বহিরাগতদের’ নিয়েই বিরক্ত, কারা হিন্দু বা মুসলিম এবং করা বাংলাদেশি আর কে না সেটা বিষয় নয়। তাই আসামে পরিচয়হীনরা দু’ধরনের প্রতিযোগিতা করছে এবং এটা পরিষ্কার নয় কে জিতবে।

উভয় ক্ষেত্রে ভারত হারবে। উপ-জাতীয়তাবাদ এর মধ্যেই ভারতের দক্ষিণের এবং পূর্বের রাজ্য গুলোতে জন্ম নিয়েছে। যারা উত্তরের সমভূমির জনসংখ্যার ঘনত্বকে ভয় করার কারণে তাদের অধিকাংশ অত্যান্ত দৃঢ়ভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদিকে সমর্থন করে। যদি শুধুমাত্র সমন্নয়সাধনের প্রস্তাব দিয়ে বিজেপি যদি হিন্দু পরিচয়ের উপর জোড় দেয়ার উদ্যোগ নেয়। সুবিধামত ‘বহিরাগত’ হিসেবে মুসলিম এবং খ্রীষ্ঠানদের চিহ্নিত করা হয়। তখন এটা দেখা মুশকিল হবে, কিভাবে ভারত অনাবৃত হয়।

এটাও মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের চেয়েও ভালো করছে, তাই তার নাগরিদের অন্য ভারতে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কি হবে যখন ৩০ কোটি বাঙালী গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের আওয়াজ তুলেবে। বিশ্বের অধিক ঘনবসতিপূর্ণ স্থান, সমূদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বৃহৎ আকারের জমি হারর সম্মুখিন হয় এবং  কৃষি জমির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়া? তারা কোথায় যাবে? যখন জলবায়ু পরিবর্তন জনিত আঘাত আসবে তখন জরুরী অবস্থায় অন্ধকার আচ্ছান্ন ভারত কত উঁচু সীমানা প্রাচীর লাগবে তা বিবেচনা করতে পারে।

ব্লুমবার্গ ডট কম থেকে অনুবাদ

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

এনআরসি আসাম বিজেপি ভারত

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0215 seconds.