• বিদেশ ডেস্ক
  • ২২ আগস্ট ২০১৯ ১৮:৩৪:০৮
  • ২২ আগস্ট ২০১৯ ১৮:৩৪:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পুড়ছে আমাজন, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পৃথিবীর ফুসফুস

ছবি : সংগৃহীত

আগুনে পুড়ছে বিশ্বের ফুসফুস খ্যাত সবচেয়ে বড় চিরহরিৎ বন আমাজন। পৃথিবীর প্রায় ২০ ভাগ অক্সিজেন আসা এই বনটিকে পোড়াতে পোড়াতে এগিয়ে যাচ্ছে আগুন। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রাকৃতিক নাকি মানব সৃষ্ট তা নিয়ে রয়েছে সরকার এবং পরিবেশাবাদী এনজিওর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।

আমাজনের এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো বলেছেন, যেসব বেসরকারি সংগঠনের (এনজিও) তহবিল বরাদ্দ কমিয়ে দেয়া হয়েছিলো তারাই সরকারের আমাজনে আগুন দিয়েছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে। সরকার প্রধানের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রমান চাইলে তিনি কোনো প্রমান দেখাতে পারেনি।

অন্যদিকে বনাঞ্চল উজাড় ও দাবানলকে প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর পরিবেশবিরোধী নীতির ফলাফল বলে মন্তব্য করেছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চের (ইমপে) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ৮৪% বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে আমাজনে। এ বছর প্রথম আট মাসে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৮০০ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এই বনে। শুধু মাত্র গত সপ্তাহেই আমাজনের ব্রাজিল অংশে একসাথে প্রায় ৯০০০ টি স্থানে আগুন লেগেছে।

অনলাইন ইমপের দেয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ২০১৭ সালের তুলনায় আমাজনের ২০১৮ সালে বনাঞ্চল হারিয়ে যাওয়ার হার ছিলো ৬৫ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালে সবমিলিয়ে ৭৫০০ কিলোমিটার বনাঞ্চল হারিয়ে গেছে।

২০১৯ সালের আপাত পরিসংখ্যান থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, অ্যামাজন বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার এই হার প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর তিনগুণ হয়ে গেছে।

ব্রাজিলের পরিবেশ দপ্তর বলছে, অ্যামাজনের বনে দাবানলের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছে। অনেক সময় স্থানীয় কৃষকরা বন পুড়িয়ে চাষের জমি বের করার জন্যও বনে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে।

ব্রাজিলের আমাজন নদী অববাহিকার রেইনফরেস্টটি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে প্রেসিডেন্ট জায়ের বোলসোনারোর কিছু নীতির কারণেই বলে মনে করছেন অনেকে। আমাজনের দুর্দশার জন্য জায়ার বোলসোনারোকে দুষেছেন পরিবেশবাদীরা। গ্রিনপিসের মার্সিয়ো আস্ট্রিনি বনাঞ্চল উজাড় ও দাবানলকে প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর পরিবেশবিরোধী নীতির ফলাফল বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যেই ওই অঞ্চল গহীন অরণ্য থেকে সম্পত্তি আহরণের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ একটি বিশেষ এলাকা থেকেও সম্পদ আহরণের পক্ষে - যা দেশটির ১৯৮৮ সালের সংবিধানের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, এমন আইন করা হবে যেন অ্যামাজনসহ পরিবেশগত সুরক্ষা এলাকাগুলোয় খনি অনুসন্ধান ও কৃষি বিষয়ক কোম্পানিগুলো কাজের সুযোগ পায়।

সাধারন পরিবেশ কর্মীরা অনেকেই দাবি করেছেন বন উজার করে খনিজ সম্পদ আহরণের চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট।

আমাজনের এই অঞ্চলটিতে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চল অবস্থিত। আর এই সুনিবিড় বনভূমিতে এখনো এমন সব উদ্ভিদ আর প্রাণীর প্রজাতি আছে যা রয়ে গেছে মানুষের জানাশোনার বাইরে। গবেষকরা প্রতিনিয়তই নতুন কোনো জীব খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আমাজন আগুন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0189 seconds.