• ৩০ জুন ২০১৯ ১৯:৩০:২০
  • ৩০ জুন ২০১৯ ১৯:৩৮:৪৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

প্রশান্ত কর্মকারের অপ্রকাশিত ৫ কবিতা

ছবি : সংগৃহীত

কবিতা: প্রভাতের বনফুল   
১.
চিলেকোঠা সেই বাড়িটি
শহরের শেষ প্রান্তরে
নীরব কোলাহলহীন প্রকৃতি।

উঠনে অজস্র ফুলের মেলা
ফাল্গুনের আম্র ফুলের গন্ধ,

পড়ন্ত বিকেলের আলোতে
 সান বাঁধানো পুকুরঘাটে
         'তুমি আর আমি' 

নিবিড় সৌরভ মন মাঝে
ভালোবাসার গল্প শোনাব প্রতি ক্ষনে ক্ষনে,

পানপুকুরে পাথর ছুড়ে তুমি
অতীত কথা মনে করে..
চোখের জলে ভিজে  যাবে
তখন মনের রুমাল দিয়ে মুছে দেব সব গ্লানি আর দুঃখকথা।

২.
ফাল্গুনের উত্তরী মৃদু হাওয়ায় 
রাতের নীরবতাকে খুঁজব আপন খেয়ালে,
সমস্ত পৃথিবী সেই দিন ঢেকে যাবে অন্ধকারে।

তারার বাতিঘরে খোলা আকাশের নিচে বসব 'তুমি-আমি'।

ঝিঁ ঝিঁ পোকার দল শত শত আলো নিয়ে আসবে,
তখনই তারই দৃশ্য অবলোকন করে
প্রভাতের প্রথম সূর্যালোক দেখার জন্য দুইজনই অপেক্ষা করব।

হয়তো বা কোন কুয়াশা ভরা সকালে
খালি পায়ে দু'জন হাত ধরে চলব
শীতের শিশিরকে ঘুম ভাঙাতে। 

মাঝে মাঝে স্বপ্নলোকে নিরুদ্দেশে যাব,
হঠাৎ একদিন
এই যান্ত্রিক শহর থেকে পালাব এক মনোরম শোভা বিজড়িত নিভৃত পল্লীতে।

                      ৩.
গ্রাম্য মেঠো পথের ধারে কুলকুল নদীর পাশে
বসব শরতের কাশফুল আলিঙ্গন করে।

রাখালের মত একদিন গ্রামীণ সুরে বাঁশির শব্দ
প্রকৃতির প্রতিটি তরঙ্গে ছড়িয়ে পড়বে মোহনীয়ভাবে... 

হয়তো তারই তুমি গ্রাম্য পল্লী বঁধূবেশে চলে আসবে
এই নির্জন বন বাদাড়ে।

সেই সুন্দর দৃশ্য দেখে নীরব হয়ে তাকিয়ে থাকবে
পৃথিবীর প্রতিটি যাযাবরের দল।

তুমি আর যেতে চাইবেনা ঐ ইটপাথরের ব্যস্ত শহরে,
যেখানে বড়ই কৃপন ভালোবাসা
       অবিশ্বাসের উৎকট গন্ধ।

এমনি করে চলে যাবে মুখোমুখি বসে থাকা কিছু মহাকাল।

অস্ত দেবতা চলে যাবে অস্তাচলে  
পাহাড়ি বনফুলকে স্বাক্ষী করে।

সেই  ফুল এনে দেব
'তোমার' খোঁপায় রাঙাব বলে।

কবিতা: একটি প্রহর 

জীবনের শত সম্ভাবনা আর অসীম প্রত্যাশায় 
আলোকিত দরজাগুলো যখন বন্ধ হয়ে যায়..

উজ্জ্বল প্রদীপ শিখা যখন নিভু নিভু মুহূর্ত...
নিজেকে যখন নি:স্ব এবং নিস্তব্ধ মনে হয়,
দ্বিধাগ্রস্ত শূন্যতা যখন ঘিরে ফেলে জীবনের চারপাশ...

তখনো নিশ্চিত জানবে?
তোমার প্রতীক্ষায়...
শেষ প্রহরে..একটি জানালা,
'তোমার জন্য উন্মুক্ত'। 

কবিতা: কালের বিটবীস্বর

১.
সেদিন আষাঢ়ের নবীন মেঘে আকাশ আচ্ছন্ন 
নিস্তব্ধ অন্ধকার, ঘরের মধ্যে ঘনীভূত, 

এপাশ ওপাশ করে বৃদ্ধ যাযাবরের মতো চলে গির্জার সময় 
এমন সময়ে ঘরের কোণে মৃদু কুসুম আলো জ্বলজ্বল করে 
তন্দ্রায় মোহে আচ্ছান্ন পথিক, নিদ্রায় উষ্ণ মস্তিষ্কের কল্পনায়

একটুকরো হীরা হাতে নিয়ে কোন এক বিটবী ঘুরে 
অন্ধকারকে স্বাক্ষী করে..
সে ষোলো বৎসর জীবন্ত, যৌবনতাপে উত্তপ্ত আরক্তিম রূপ খানি, 
সবকিছু গ্রাস করে..
যেনো বাহিরের মনে কোথাও সুপ্ত ক্লান্তি হরণ করে দক্ষিণের বাতাস।

২.
নিভৃতেই টুপটাপ ঝরে পড়ে
কালের দীর্ঘশ্বাস

মৃদুমন্দ টের পাই অর্ধেক জীবন নিয়ে,
যখন সবুজ সুতো বসন্ত চলে যায় দূর নগরীতে

হাড়ের ভেতর সেই বড়শি বিষটান দিয়ে চলে
তখন মেঠো বাঁশির শব্দে ফুটফুটে জোস্না প্রকম্পিত হয়ে উঠে। 

তরু পল্লব আকাশ হয়ে আজন্মকাল পৃথিবীর মায়া নেত্র নিমীলন হয়ে কাঁদে.. 

বিটবীরা অনন্ত রাত্রির বাসর ঘরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করে,
মৃত নক্ষত্র হয়ে জ্বলে। 

ফাল্গুনের প্রথম পূর্ণিমায় অম্রকুলের গন্ধ
বসন্ত বাতাসে বৃক্ষের ঘনপল্লবের মধ্যে 
গুলবাগের ইরানি ক্রীতদাসী নিদ্রাহীন হয়ে বলে...
'পুরাতন সেই ইতিহাস'।  

কবিতা: অচেনা সময় 

আমার প্রানের সন্ধ্যা প্রদীপ 
যখন জ্বেলেছিলাম 
'তোমার' স্পর্শ পেতে..

হয়তো বা তুমি!
অঝোর ধারায় বৃষ্টির শ্রাবণ পড়েছিল 
'তোমার' মনে...

তখনো হাতছানি দিয়ে ডাকোনি আমাকে...

কবিতা: হৃদয়ে ঝরে যবে বরষায়

আমি একেলা মানুষ হায়
আমার সাথে, নিঝুম রাতে 
কেউ না পাশে রয়।

তুমি আসবে কি'গো চাঁদনী রাতে 
চোখে প্রনয়, মাল্য হাতে 
আমার দরজায় 
আমার অন্তরায়। 

এখন মেঘের বাদল দিনে 
নেবে কি'গো আমায় চিনে,
ঋণী হবো প্রনয় ঋণে
তব তরে হায় 
হৃদয়ে যত চায়...

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0179 seconds.