• বাংলা ডেস্ক
  • ৩১ মে ২০১৯ ১৬:৫২:০৪
  • ৩১ মে ২০১৯ ১৬:৫৪:০৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রাজার পালঙ্ক ডিসির ঘরে!

এখানেই রাখা ছিলো ভূষণার রাজা সীতারাম রায়ের ব্যবহৃত মহামূল্যবান পালঙ্কটি। ছবি : সংগৃহীত

মাগুরা জেলা প্রশাসনের রেকর্ডরুম থেকে হারিয়ে গেছে ভূষণার রাজা সীতারাম রায়ের ব্যবহৃত মহামূল্যবান পালঙ্কটি। প্রায় তিনশত বছরের পুরাতন প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শনটি গোপনে মাগুরা জেলা প্রশাসক আলি আকবরের বাংলোতে নিয়ে যাওয়া হলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের রেকর্ড রুম কিংবা ট্রেজারির কোথায়ও নেই কোনো তথ্য।

যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজা সীতারামের অস্ত্র ভাণ্ডারের স্মৃতি হিসেবে কিছু তরোবারি মহম্মদপুর থানায় পুলিশের মালখানায় রয়ে গেছে। আর যে পালঙ্কটিতে রাজা বিশ্রাম নিতেন সেটি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল মাগুরা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে।

নতুন ভবন নির্মাণ এবং সংস্কার কাজের সুবিধার জন্যে প্রত্নতাত্ত্বিক এই নির্দশনটি ট্রেজারি থেকে কখনো রেকর্ডরুমের স্তুপে কখনো জিমখানার অন্যান্য অব্যবহৃত উপকরণের পাশে জায়গা পেয়েছে। সর্বশেষ অবস্থান ছিল ট্রেজারি রুমের পাশে রেকর্ড রুমে দলিল-দস্তাবেজের মধ্যে।

গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পালঙ্কটি সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ডিসির বাসভবনে। শুধু তাই নয় নতুন রঙ পালিশে চকচক করে স্থান দেয়া হয়েছে শয়নকক্ষে। ওই খাটে তিনি ঘুমান বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

মাগুরা জেলা প্রশাসনের নেজারত, ট্রেজারি এবং রেকর্ড রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ২ ফেব্রুয়ারি পালঙ্কটি মাগুরার এনডিসি রাজিব চৌধুরীর সহায়তায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রাজিব চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সীতারামের একটি মূল্যবান পালঙ্কের কথা শুনেছি। কিন্তু এখন কোথায় কীভাবে আছে সেটি খুঁজে দেখতে হবে।’

তবে পালঙ্কটি দীর্ঘদিন রেকর্ডরুমে সংরক্ষিত ছিল বলে জানিয়েছেন এই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাবেক কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইসাহাক আলি।

আবার বর্তমান কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, ‘রেকর্ড রুমে থাকলেও এখন নেই। কিন্তু কেন নেই সেটিও জানা নেই।’

বিষয়টি নিয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক আলি আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পালঙ্কে ঘুমানোর কথা অস্বীকার করলেও মিস্ত্রি ডেকে মেরামত ও রঙ করার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, ঐতিহাসিক কোনো নির্দশন ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। আর স্থানীয়ভাবে এটি মেরামতের চেষ্টা করলে এর এন্টিকভ্যালু থাকবে না। গত বছর দেশের সকল জেলা প্রশাসককেই এসব নিদর্শনগুলো যাদুঘরে জমা করার জন্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কেন তারা সেটি করেননি তা আমাদের বোধগম্য নয়।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0168 seconds.