• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৯ মে ২০১৯ ১২:১৩:২০
  • ২৯ মে ২০১৯ ১৩:৪৩:৫৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আরবী বইয়ের পাতায় মুড়িয়ে ওষুধ বিক্রি, তোলপাড়

ছবি : বিবিসি থেকে নেয়া

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ধর্ম অবমাননা বা ব্লাসফেমি আইনের অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে এক হিন্দু পশু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ইসলাম ধর্মের বাণী সম্বলিত একটি কাগজে মুড়িয়ে রোগীর কাছে ওষুধ বিক্রি করেছিলেন এই চিকিৎসক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের শাস্তি দেয়া হতে পারে।

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি যে কাগজটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি স্কুলের ইসলাম শিক্ষা বইয়ের একটি কাগজ ছিল। ওষুধ মোড়ানোর কাজে কাগজটি ব্যবহার করা তার ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন ওই চিকিৎসক। এমন খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি।

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা বা ব্লাসফেমি আইন অনুযায়ী, ইসলাম ধর্মকে অপমানকারী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেয়া হয়ে থাকে। তবে এ আইনে ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘুদের অভিযুক্ত হওয়ার হার অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি বলে দাবি করেন সমালোচনাকারীরা।

জানা গেছে, স্কুলের ইসলাম শিক্ষা বইয়ের একটি পাতা দিয়ে মুড়িয়ে একজন গ্রাহককে তার গবাদি পশুর জন্য ওষুধ দেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু গ্রাহক ধর্মীয় লেখা দেখে সে প্যাকেটটি নিয়ে স্থানীয় ধর্মীয় নেতার কাছে গেলে পুলিশকে খবর দেয় সেই নেতা।

রাজনৈতিক দল জামিয়াত উলেমা-এ-ইসলামী'র একজন স্থানীয় নেতা নেতা হাফিজ-উর-রেহমান বলেন, চিকিৎক এই কাজটি ইচ্ছা করে করেছে।

এ দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঐ চিকিৎসক এই কাজ ভুলবশত করেছে বলে তাদের জানিয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং কোরাআন অবমাননার দায়ে সে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যা প্রমাণিত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হতে পারে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, এ ঘটনার পর চিকিৎসকের ক্লিনিকসহ চারটি স্থানীয় দোকান লুট করার পর সেখানে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে।

মিরপুর খাস এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা জাভেদ ইকবাল বলেন, ‘যারা দোকানে আগুন দেয়া এবং লুটের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

সংবাদ দাতার বারত দিয়ে খবরে বলা হয়, ইসলাম পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ধর্ম এবং সেখানকার জনগণের মধ্যে কঠোর ব্লাসফেমি আইনের সমর্থন ব্যাপক। তাই সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদরা এ আইনের কঠোর শাস্তিগুলোকে অনেক সময় সমর্থন দেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশকে কয়েক'শ পাকিস্তানি নাগরিককে এই কঠোর ব্লাসফেমি আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0204 seconds.