• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৬ মে ২০১৯ ২২:৩১:১০
  • ২৬ মে ২০১৯ ২২:৩১:১০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মক্কায় হজ ছাড়াও যা যা দেখতে পাবেন

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে ইবাদতের ৫টি স্তম্ভের একটি হলো হজ। তাই সারা বিশ্ব থেকে লাখ লাখ মুসলমান প্রতি বছর সৌদি আবর গমন করেন হজ পালন করার উদ্ধেশ্যে। তেমনি বাংলাদেশ থেকেও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও সেখানে যায়। এজন্য তাদের অধিকাংশ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ দিনের ভিসা পেয়ে থাকেন।

হজের পাঁচদিনে মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে হজের পর প্রচুর সময় পাওয়া যায়। এ সময়টা ইবাদত করার পাশাপাশি ইসলামিক নানান ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলো দেখে আসতে পারেন।

মূলত হাজীদের হজ পালনের জন্য পবিত্র মক্কা নগরীতেই অবস্থান করতে হয়। সৌদি আরবের হেজাজের একটি শহর মক্কা। মুসলিম জাতীর শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ(সা) এর জম্মভূমি। ইসলামের বহু সমৃদ্ধ ইতিহাস ও মহানবীর (সা) অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই নগরীতে।

কুরায়েশ বংশধরদের আভিজাত্য,আবু জাহেলের অত্যাচারের করুণ চিত্র। মহানবী (সা) ইসলাম প্রচারে বাধাগ্রস্ত হয়ে এই মক্কা হতেই ৬২২ খ্রীস্টাব্দে হিযরত করে মদিনা গিয়েছিলেন। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মী গ্রন্থ আল কোরআন’র আয়াত এ শহরের জাবালে নূর পাহাড়ে প্রথম নাজিল হয়েছিলো। জাবালে নূর’র অর্থ আলোর পাহাড়। ওহি নাজিল হবার আগে যখন হুজুর (সা) এ পাহাড়েই ধ্যানে বসতেন। আর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা) প্রতিদিন তিনবেলা করে, সেই উচুঁ পাহাড়ে উঠে খাবার দিয়ে আসতেন।

প্রতিবছর আরবি মাসের ৮ই জিলহজ তারিখে শুরু হয়ে ১২ই জিলহজ পর্যন্ত চলে মুসলমানদের হজের আনুষ্ঠানিকতা। এ সময়ে এতো মানুষের আনাগোনার পরেও সব কিছুই থাকে সুশৃঙ্খল। বিশেষ করে তাওয়াফের দৃশ্য দেখলে যে কেউ আশ্চর্য না হয়ে পারবে না। প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশ থেকে যাওয়ার পর হজ শুরুর পূর্বেই মক্কা শহরের পবিত্র কাবা ঘিরে ওমরা তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ায় সাহী করতে হয়। কাবা শরিফেই বেহেশতী পাথর হজরে আসওয়াদ রুপার ফ্রেমে সাটানো রয়েছে। হযরত মোহাম্মদ (সা) ৬০৫ সালে কাবার দেয়ালে হজরে আসওয়াদ পাথরটি স্থাপন করেছিলেন।

ইসলাম পূর্ব পৌত্তলিক যুগ হতেই পাথরটি সম্মানিত হয়ে আসছে। তাওয়াফের শুরুতেই হজরে আসওয়াদে চুমু দিয়ে,অবশ্য ভিড়ের কারণে কাছ থেকে না পারলেও দূর হতে দুই হাত তুলে তালুতে চুমু দিতে হয়। যা বর্তমানে হাজী ও ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য অন্যন্য আকর্ষণ।

আরেক বেহেশতী পাথর মাকামে ইব্রাহিমও কাবা সংলগ্ন। মাকামে ইব্রাহিম সেই পাথর, যে পাথরে দাঁড়িয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ) পবিত্র কাবা ঘর নির্মাণ করেছিলেন। সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে কাবা ঘর নির্মাণের সময় আল্লাহর হুকুমে পাথরটি প্রয়োজন অনুযায়ী হজরত ইব্রাহিম (আ) নিয়ে উপরে-নিচে উঠা নামা করত। পাথরটিতে হজরত ইব্রাহিম (আ) পা’মুবারকের চিহ্ন রয়েছে। এর সামনে দু’রাকাত নামাজ পড়ে দোয়া করলে তা কবুল হবার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এটিও হাজী ও পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

জানা মতে, পবিত্র বায়তুল্লাহ শরিফ পৃথিবীর মধ্যভাগে প্রতিষ্ঠিত। সারা দুনিয়ার মধ্যে মুসলমানদের সবচাইতে পবিত্রতার প্রথম স্থানে থাকা বায়তুল আল-হারাম মসজিদ এই মক্কাতেই। প্রায় দশ লাখ নামাজি একত্রে সালাত আদায় করতে পারবেন। হজ মৌসুমে প্রায় ৪০ লাখ মুসল্লির স্থান সংকুলান হয়। এ সুউচ্চ নয়টি দৃষ্টি নন্দন মিনার রয়েছে। আল-হারাম মসজিদের মোট ৮১ টি দরজা রয়েছে, যা সব সময় মুসল্লিদের জন্য খোলা থাকে। হজ করতে ২০১২ সালের হিসাব অনুসারে মক্কায় ২ মিলিয়ন মানুষ বাস। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এই শহরের উচ্চতা ৯০৯ ফুট। আধুনিক মক্কা শহর এখন আরো নান্দনিক। প্রশস্ত সড়ক,নয়নাভিরাম সব স্থাপত্য পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। বাড়তি  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন স্বরূপ রয়েছে শত শত পাহাড়। পুরো শহরটাই পাহাড় বেষ্টিত।

পবিত্র হারাম শরিফের পাশেই আবরাজ আল বাইত হোটেলের উপর স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘড়ি। এর নির্মাণ কাজ ২০০২ সালে শুরু হয়ে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০১২ সালে উদ্বোধন করা হয়। পুরো মক্কা শহর হতে রাতে ১৭ ও দিনের বেলা ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত এ ঘড়িটিতে স্পষ্ট সময় দেখা যায়। ঘড়িটিতে সাদা ও সবুজ রঙের প্রায় ২১,০০০ হাজার বাতি ব্যবহার করা হয়েছে। মুসলমানদের বিশেষ দিন গুলোতে ঘড়ির উপর আকাশের দিকে ১০ কিঃমিঃ পর্যন্ত ১৬ রঙের আলোর বিচ্ছুরণ ঘটায়। প্রতি ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ফ্ল্যাশ লাইটের মাধ্যমে নামাজের ইঙ্গিত দেয়া। এছাড়াও ঘড়িটির উপর বড় করে আল্লাহু লিখা রয়েছে। যা চারপাশ থেকে একই রকম দেখা যায়। এ ঘড়ির সময় গ্রীনিচ সময় হতে তিন ঘণ্টা এগিয়ে।

বর্তমানে পবিত্র বায়তুল্লাহর সীমানা প্রাচীরের মধ্যেই রয়েছে একদা জালিম আবু জাহেলের বসত বাড়ী। যেটিকে এখন তার প্রতি সম্ভবত ঘৃণা স্বরুপ মুসল্লিদের জন্য টয়লেট তৈরী করে দেয়া হয়েছে। একটু দূরেই মহানবীর (সা) বসত ভিটা। যা এখন লাইব্রেরী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বায়তুল্লাহর আরেক পাশে একখন্ড জমি, তাইসির যাবার পথে পড়ে। এখনো তা অন্ধকার আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের করুণ স্মৃতির সাক্ষী। এখানেই জীবন্ত কন্যা শিশু পুঁতে ফেলা হতো। উড়াল সড়ক হতে জায়গাটা বেশ ভালোভাবে দেখা যায়।

শহরের মধ্যভাগে রয়েছে মক্কা জাদুঘর। সেখানে আদি কাবা ঘরের নমুনা, জমজম কূপের পূর্বেকার নিদর্শন ও যন্ত্রপাতিসহ নানান দৃষ্টি নন্দন স্থাপনার প্রতিকৃতি রয়েছে। জাদুঘরের পাশেই কাবা ঘরের গিলাপ তৈরীর কারখানা। আরেকটু এগোলেই পড়বে, যেখান থেকে জমজম পানি মদিনা এবং বিভিন্ন দেশ হতে আগত হাজীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় জারে করে সাপ্লাই দেয়া হয়। যিয়ারা করার জন্য হাজীরা মক্কার জান্নাতুল মাওয়া গিয়ে থাকেন। যেখানে হাজার হাজার সাহাবিসহ মহানবী (সা) প্রথম বিবী খাদিযা (রা) সমাধি রয়েছে।

ইতিহাসের আরেক সাক্ষি সাফা ও মারওয়া পাহাড়। যে দুই পাহাড় ঘিরে হযরত ইব্রাহিম (আ) তার বিবি হাজেরা (আ) এবং তাদের পুত্র ইসমাঈল (আ) এর জীবনী রয়েছে। আল্লাহর দরবারে বিবি হাজেরা (আ) তৃষ্ণার্ত শিশু পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ) পানি পান করানোর জন্য দোয়া করলে, আল্লাহ পাকের নির্দেশে জিব্রাইল (আ) পায়ের গোড়ালির মাধ্যমে কূপ খনন করেন। সে সময় থেকেই সৃষ্টি হয় জমজম কূপ।

পবিত্র কাবা ঘর হতে জমজম কূপের দূরত্ব মাত্র ৩৮ গজ। বর্তমানে সাফা-মারওয়া পাথুরে পাহাড় দুটো কেটে কাঁচের গ্লাস দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। তবে এর গুরুত্ব অসীম। হজ ও ওমরাহ পালন করতে হলে এই দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাহী করতে হয়। সীমানা বৃদ্ধি করায় সাফা-মারওয়া এখন হারাম শরিফের মক্কা মসজিদের ভিতরেই পড়েছে। ঐতিহাসিক জমজমের কূপ এখন আর উম্মুক্ত নয়। তবে এর পানি পানের যথেষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

পবিত্র হারাম শরীফের সামনেই রয়েছে কবুতরের মাঠ নামক একটি জায়গা। কিন্তু ওটা কোনো মাঠ নয়, চলাচলের প্রশস্ত সড়ক। সম্ভবত বাংলাদেশীরাই এর নামকরন করেছে। সেখানে রয়েছে হাজার হাজার জালালী কবুতর। খুবই দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য। আগত বহু দর্শণার্থী নিজ খরচে খাবার কিনে অবিরাম বিলিয়ে দিচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা, চলে ঝাকে ঝাকে কবুতরের আনাগোনা। এক কথায় অসাধারণ সব মুহূর্ত।

মক্কাতেই রয়েছে জাবালে ছাওর পর্বত। মহানবী (সা) হজরত আবু বকর (রা) কে নিয়ে মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরতের সময় এই পর্বতের গুহার ভেতরে আত্মগোপন করেছিলেন। এখন পর্যটকদের প্রজেক্টরের মাধ্যমে, ছাওর পর্বতের দৃশ্যাবলি দেখানো হয়। ইচ্ছে করলে অফিস কক্ষ হতে, বিনা মূল্যে বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে সিডি নিয়ে আসতে পারেন। আর যদি আপনি অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে পর্বত আহরণের করে দেখে আসতে পারেন।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

মক্কা সৌদি আবর

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0197 seconds.