• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০ মে ২০১৯ ১৪:১৪:৩৫
  • ২০ মে ২০১৯ ১৪:১৯:২৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সময়ের আগেই তৈরি ৩ সেতু, বরাদ্দের চেয়েও খরচ কম

ছবি : সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশের তিন সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হতে যাচ্ছে। যেটা সর্বশেষ হয়েছিলো  ১৯৯৫ সালে। এর পরে বাংলাদেশে আর কোনো নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারেনি কেউ। ২০১৯ সালে এসে নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই শেষ হচ্ছে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ কাজ।

শুধু তাই নয়, এই তিনটি সেতু নির্মাণের জন্য যে টাকা বরাদ্দ ছিল, সেই অর্থের চেয়েও কম খরচে নির্মাণ কাজ শেষ করেছে নির্মাণকারী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে প্রকল্পের পুরো কাজ এখনই শেষ হচ্ছে না।

প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর মেঘনা ও গোমতীর মেয়াদ ছিল জুন-জুলাই ২০১৯ সাল পর্যন্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘হলি আর্টিসানে হামলার ঘটনার কারণে নির্মাণ কাজ ছয় মাস বন্ধ ছিল। এ জন্য তারা (নির্মাতা প্রতিষ্ঠান) অতিরিক্ত ছয় মাস সময় চেয়েছিল। কিন্তু সেই ছয় মাস সময় তো তারা নেয়নি, বরং মূল চুক্তির প্রায় ১ মাস আগে তারা এই প্রকল্পের কাজ শেষ করে দিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে গড়াই ব্রিজ নির্মাণের কাজ (১৯৯০ সালে) নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা হয়েছিল। এরপর নির্ধারিত সময়ের আগে পুরাতন মেঘনা ও গোমতী সেতুর কাজ শেষ করা হয়েছিল যথাক্রমে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে। সবগুলো কোম্পানিই ছিল জাপানের। বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকল্পের কাজ শেষ করার ইতিহাস একমাত্র জাপানিদেরই। আর কারও নেই। ১৯৯৫ সালের পর এই কাজটা তারাই করল।’

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৪৮৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

এর মধ্যে মেঘনা দ্বিতীয় সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার মধ্যে এই সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। অর্থাৎ বাংলাদেশের সাশ্রয় হয়েছে এই সেতু থেকে ৫০০ কোটি টাকা।

গোমতী সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার মধ্যে এই সেতুর কাজ শেষ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। এই সেতু থেকে সাশ্রয় হয়েছে ৪৬০ কোটি টাকা।

আর কাঁচপুর সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তবে এই প্রকল্প কত টাকার মধ্যে শেষ করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানগুলো, তা জানা যায়নি।

প্রকল্প পরিচালক মো. নুরুজ্জামান জানান, এই প্রকল্প (নতুন ব্রিজ নির্মাণ+পুরাতন ব্রিজ সংস্কার) থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

তবে এসব টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে কি-না প্রকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে নুরুজ্জামান বলেন, ‘এই কাজের দুটো অংশ। এক, নতুন ব্রিজ নির্মাণ আর পুরাতন ব্রিজগুলো সংস্কার করা। নতুন ব্রিজ চালু হলে তখন পুরাতন ব্রিজগুলো ফাঁকা হয়ে যাবে, তখন সংস্কার শুরু হবে। সুতরাং টাকা ফেরত যাওয়ার কথা এই মুহূর্তে আসে না। সেটা হবে সব সম্পন্ন করার পরে।’

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0189 seconds.