• বাংলা ডেস্ক
  • ১৫ মে ২০১৯ ১৪:১১:৪৯
  • ১৫ মে ২০১৯ ১৪:১১:৪৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মাকে বেডে শোয়ানো সেই পরিবার আবারো মার খেলেন

ছবি : সংগৃহীত

অসুস্থ মাকে হাসপাতালের বেডে শোয়ানোয় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের মারধরের শিকার হওয়ার পর এবার তার বাবা ও চাচাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে তাদের মারধর করে এক ইউপি সদস্য। অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্যের নাম মো. বাদল। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

আহতরা হলেন, চিকিৎসকের হাতে মারধরের শিকার কিশোর জিলানের বাবা মো. নাসির ও চাচা আবুল কালাম।

আহত মো. নাসির বলেন, ‘আমার স্ত্রী এই হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় সকালে আমি ও আমার ভাই তাকে দেখতে আসি। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরেক রোগীকে দেখতে আসেন আমাদের ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. বাদল।’

বাদলের সঙ্গে তার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে হাসপাতালেই তার সঙ্গে আমার সামান্য বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর বাদল তার সহযোগীদের নিয়ে আমাদের বেদম মারধর করে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বাদল মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘উল্টো তারাই আমাকে মারধর করে জামা ছিঁড়ে দিয়েছে। আমাকে চরমভাবে অপমানিত করেছে।’

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা পুলিশের এসআই গাজী মাহতাব উদ্দীন বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এর আগে সোমবার সকালে অসুস্থ মাকে প্রায় অচেতন অবস্থায় পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন জিলান। কিন্তু দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অচেতন মাকে কোনো চিকিৎসা না দিতে দেখে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে জিলানী। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা মেঝেতে তার মাকে ফেলে রাখেন। এ সময় মায়ের কোনো সাড়া না পেয়ে ভয় পেয়ে যায় জিলানী। সে নিজেই চিকিৎসকের অনুমতি না নিয়ে হাসপাতালের মেঝে থেকে নারী ওয়ার্ডের একটি বেডে তোলেন সংজ্ঞাহীন মাকে। এ সময় এক নার্স এসে বাঁধা দিলেও তা উপেক্ষা করে সে। এর কিছুক্ষণ পরই হাসপাতালের এক ডাক্তার আনোয়ার উল্লাহ এসে অনুমতি না নিয়ে রোগীকে বেডে তোলায় জিলানীকে মারধর শুরু করে। সেই মারধরের দৃশ্য হাসাপাতালের কোনো এক রোগী তার মোবাইলে ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন বলেন, ‘এটাই প্রথম নয় ডা. আনোয়ার উল্লাহর বিরুদ্ধে এ ধরনের এর আগেও এসেছে। এমন ঘটনায় তার শাস্তির দাবি করছি।’

বরগুনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে এরকম ঘটনা যদি ঘটে থাকে, তাহলে একটি নিকৃষ্টতম ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই চিকিৎসক। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0183 seconds.