• ১৫ মে ২০১৯ ০১:৩৮:০৪
  • ১৫ মে ২০১৯ ০১:৩৮:০৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অবৈধ দোকান বাঁচাতে স্কুলভবন ভাঙলেন আ.লীগ নেতা

কচুয়াদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : বাংলা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

বিদ্যালয়ের জমিতে অবৈধভাবে স্থাপিত দোকান ঘরকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যালয়ের একটি ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার (১৪ মে) বিদ্যালয়ে পরিচালনা পরিষদের জরুরি সভা ডেকে বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন নুরুল ইসলাম।

জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কচুয়াদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষে সরকার প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যায়ে নতুন ভবনের অনুমোদন দেয়। এরই প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ভবন যা ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। ওই ভবনে পাঁচটি শ্রেণি কক্ষে ক্লাস করতো শিক্ষার্থীরা। ভবনটিকে ঝুকিপূর্ণ, পরিত্যাক্ত ও অব্যবহৃত দেখিয়ে গত মার্চ মাসে নিলামে দেওয়া হয়। এসময় উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি নুরুল ইসলামকে নিলামে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা দর দাতা হিসেবে ভবনটি ভেঙে অপসারণের দায়িত্ব পান।

বিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, ১৯৯৭ সালে এই ভবনটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। যা মাত্র ২১ বছরেই নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে নিলামে দেওয়া হয় যে ভবন সেটিসহ বিদ্যালয়ের আরেকটি ভবন ভেঙে তা আত্মসাৎ করেছেন নুরুল ইসলাম। এছাড়া নিলামকৃত ভবনের আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক পাখা, জানালা, দরজা, বেঞ্চসহ কিছুই অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনান্য সদস্যদের না জানিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন ঐ সভাপতি।

বিষয়টি জানা জানি হওয়ার পরে আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) সকালে জরুরি সভা ডাকা হয়। সেখানে বিষয়টি অনান্য সদস্যদের কাছে জানান সভাপতি নুরুল ইসলাম।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জানান, বিদ্যালয়ের ভবন নিলাম হওয়ার ব্যপারে আমরা কমিটির অন্য সদস্যরা কেউ কিছু জানি না। শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চায়েনা খাতুন এ কাজ করেছেন। আর বিদ্যালয়ের একটি ভবন নিলামে ভাঙার কথা থাকলেও সভাপতি দুইটি ভবন ভেঙেছেন। এটা মূলত তার ব্যক্তিগত স্বার্থে এবং অবৈধ দোকান বাঁচানোর জন্য।

তিনি আরো জানান, ভবনটিতে আসবাবপত্রসহ ০৮টি বৈদ্যুতিক ফ্যান ছিলো যা বর্তমানে সভাপতির ভায়ের পোল্টি ফার্মে কাজে লাগিয়েছেন।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে কচুয়াদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চায়েনা খাতুন বলেন, ‘বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছুটি রয়েছে। আমি কিছু জানি না। বিষয়টি সভাপতি এবং শিক্ষা অফিসার জানেন।’

তবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিলামে ভবন নিতে চাইনি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম জোর করে আমাকে এ কাজ দিয়েছেন। আমি অতিরিক্ত যে ভবন ভেঙেছি সেটা নিলামে নেই। তবে শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেছেন নিলামে অর্ন্তভূক্ত করে দিবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সীমানায় পাঁচটি দোকান রয়েছে। যেগুলো স্থানীয়রা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। আমরা আজকে ম্যানেজিং কমিটির সভায় সেগুলো ভাঙার ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর ভেঙে ফেলা ভবনের ফ্যানসহ আসবাবপত্র আমি ফেরত দিয়ে দেবো।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় যে পাঁচটি দোকান রয়েছে সেগুলো বিদ্যালয়ের সভাপতি নুরুল ইসলামের ছত্রছায়ায় চলে। নিয়মিত সেখান থেকে টাকা নিয়ে থাকে।

মিরপুর উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার সেলিনা হক বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখে তদন্ত করে এসেছি। মূলত বিদ্যালয়ের সীমানায় থাকা অবৈধ দোকান ঘর বাঁচানোর জন্যই বিদ্যালয়ের সভাপতি অন্য ভবনটি ভেঙেছে। এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

এদিকে সদ্য বিদায়ী মিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম যিনি বর্তমানে যশোর সদর উপজেলায় কর্মরত। একাধিকবার তার মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সদ্য যোগদানকৃত মিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ ব্যপারে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহম্মেদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

কুষ্টিয়া জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হাবিব বলেন, ‘নিলামের বাইরে কোন ভবন ভাঙলে যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0172 seconds.