• ১৪ মে ২০১৯ ২০:৪২:৪০
  • ১৪ মে ২০১৯ ২০:৪২:৪০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কুকুরের আশ্রয়কেন্দ্র হচ্ছে বরিশালে

ছবি : সংগৃহীত


জহির রায়হান, বরিশাল প্রতিনিধি:


বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত, কামড় ও জলাতঙ্ক রোগ থেকে রক্ষা করতে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ঝুকিঁ রোধ আর নিরাপদ বসবাসের জন্য বরিশালে নির্মাণ করা হচ্ছে কুকুরের আশ্রয়কেন্দ্র। 

কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন চর-জাগুয়া এলাকায় প্রায় ৩ একর খাস জমির উপর এই আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। আশ্রয়কেন্দ্রটিতে প্রায় ৩ হাজার কুকুর লালন-পালন করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিসি’র। 

ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করার লক্ষে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ বিসিসি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশ্রয়কেন্দ্রের নির্ধারিত স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। এছাড়াও মেয়র আশ্রয়কেন্দ্রের জমি নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসনের সাথে একাধিক আলোচনা করেছেন। এছাড়াও বিসিসি'র পক্ষ থেকে জমিটি অধিগ্রহণের জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসনের কাছে  চিঠি পাঠানো হয়েছে।
  
কেন বরিশালে কুকুরের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিসি'র মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়েই চলছে। এর মধ্যে আবার অনেক কুকুর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর এই কুকুরের কামড়ে মানুষের জলাতঙ্ক রোগও হচ্ছে। কিন্তু কুকুর নিধনের কোন বৈধতা না থাকায় স্বাস্থ্য ঝুকিঁতে পরতে নগরবাসী। আক্রান্ত হতে পারে বিভিন্ন ভাইরাস রোগে। তাই এই কারণে কুকুরের জন্য নির্ধারিত একটি আশ্রয়কেন্দ্র করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

মেয়র আরো বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে শুধু নিরাপদে রাখাই  হবে না এর  পাশাপাশি  পর্যাপ্ত খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসাসহ যাবতীয় সেবা প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে এই আশ্রয়কেন্দ্রে। বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান জানান, কুকুরের আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ হলে দেশের মাটিতে বরিশাল মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করার জন্য কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন চর-জাগুয়া এলাকায় প্রায় ৩ একর খাস জমির অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে । জমির অধিগ্রহণের পর  দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে বলেও জানান এই জেলা প্রশাসক।

এ ব্যাপারে বিসিসি’র ভেটেরিনারী সার্জন ডা. রবিউল ইসলাম  জানান, বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুরগুলো সংগ্রহে করে নিরাপদ এ আশ্রয়কেন্দ্রে  রেখে পর্যাপ্ত খাবার,নিয়মিত চিকিৎসা ও টিকা এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। এমনকি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কোনো  কুকুর অসুস্থ হয়ে পড়লে কুকুরটি কে অন্যত্র সরিয়ে স্থানীয় পশু চিকিৎসকের সহায়তা চিকিৎসা দেওয়া হবে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে উন্নত দেশগুলোর মত আশ্রিত কুকুরগুলো কে প্রশিক্ষণ দিয়ে অপরাধ বা অপরাধীদের শনাক্তে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে আশাবাদী বরিশালের সচেতন নাগরিকরা।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0188 seconds.