• বাংলা ডেস্ক
  • ১৪ মে ২০১৯ ১৩:০৫:৩৪
  • ১৪ মে ২০১৯ ১৩:০৫:৩৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘সেজেগুজে আসি নাই দেখে আমাকে কমিটিতে রাখলেন না?’

জারিন দিয়া। ছবি : সংগৃহীত

ঘোষিত হলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা। কেন্দ্রীয় ওই কমিটিতে পদ পাওয়া না পাওয়া নিয়ে চলছে উত্তেজনা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ। কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রলীগের এ কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ করেছে সংগঠনটির পদবঞ্চিতরা। এ সময় পদবঞ্চিতদের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সদস্যরা।

এদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান না পেয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নেত্রী জারিন দিয়া (ক্যান্ডেল)। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বলে নিজেকে ফেসবুকে পরিচয় দিয়েছেন।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বেশ কয়েকজন বিবাহিত নেতাকর্মী স্থান পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই নেত্রী।

কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর উদ্দেশ্যে সোমবার রাতেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো -

‘রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী ভাই আপনাদের মধুভর্তি মেয়ে লাগে। বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরত না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কী রে চেহারা সুন্দর আছে; তো সেজেগুজে আসতে পারো না!

আমি সেজেগুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটিতে রাখলেন না??

আপনারা যেসব মেয়েকে কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন?? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!!!

আর গোলাম রাব্বানী ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই?????? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন?????

অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য।
এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না; মানবো না...
আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।’

উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন ৬১ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১১ জন, সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন ১১ জন। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক সব সম্পাদক এবং সহ সম্পাদক ও উপসম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগ ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিজেরা কমিটি করতে ব্যর্থ হলে ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক অর্পিত ক্ষমতাবলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন।

এদিকে ছাত্রলীগের এ কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ করেছে সংগঠনটির পদবঞ্চিতরা। এ সময় পদবঞ্চিতদের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সদস্যরা।

এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সংস্কৃতি বিষয়ক উপ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির উপ বিজ্ঞান সম্পাদক তানভীর আহমেদ, রোকেয়া হলের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবনী দিশা, রোকেয়া হলের সভাপতি ও ডাকসুর কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি (নতুন কমিটিতে উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক)।

এছাড়াও শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসমিন শান্তা, শামসুন্নাহার হলের সভাপতি ও ডাকসু সদস্য নিপু ইসলাম তন্বী (বর্তমান কমিটির উপ সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক), কুয়েত মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আইন সম্পাদক সাইফুর রহমান ওই হামলায় আহত হন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ছাত্রলীগ কমিটি

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0173 seconds.