• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৩ মে ২০১৯ ২১:৩৫:৩৮
  • ১৩ মে ২০১৯ ২১:৩৫:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

১৯৮৮ সালে ই-মেইল ব্যবহার করতাম : মোদি

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের চলমান লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালাতে গিয়ে নানা ভাবে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্ম দিয়েছে ক্ষমতাশীন দল বিজেপি। এবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি নতুন করে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ১৯৮৮ সালে ডিজিটাল ক্যামেরা এবং ই-মেল ব্যবহার করেছিলেন।

ওই সাক্ষাৎকারের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আনন্দবাজার এমন খবর প্রকাশ করে।

সম্প্রতি দেশটির একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন মোদি। আর সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটে অভিযানে যখন বিশেষজ্ঞরা খারাপ আবহাওয়া নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, তখন তিনিই বলেছিলেন, মেঘের আড়ালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানকে ধরতে পারবে না পাকিস্তানের রাডার।

আর এ নিয়ে রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যত ট্রোলের শিকার হন মোদি। ওই মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক আক্রমণ, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ চলে দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এদিকে, পরের দিনে সাক্ষাৎকারের অন্য একটি অংশ ভাইরাল হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলেছেন, এই অংশে মেঘলা আবহাওয়া এবং রাডার মন্তব্যকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন মোদি।

সাক্ষাৎকারের এই অংশে প্রশ্ন করা হয়, প্রযুক্তি এবং গ্যাজেটে তিনি এতো স্বচ্ছন্দ কিভাবে?

এর উত্তর দিতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘বরাবরই নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রতি তার আকর্ষণ বেশি, গ্যাজেট নিয়ে আগ্রহী। এর উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আমিই দেশে প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করেছিলাম। ১৯৮৭-৮৮ সাল হবে। তখন খুব কম মানুষের ই-মেইল ছিলো।‘

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আমার এখানে বীরমগামে আডবাণীর সভা ছিল। আমি ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তুলি। তখন ডিজিটাল ক্যামেরা অনেক বড় হত। আমার কাছে তখন ছিলো। আমি ছবি তুলে দিল্লিতে পাঠিয়ে দিই। পরের দিন রঙিন ফোটো ছাপা হয়। আডবাণীজি আশ্চর্য হয়েছিলেন যে, এক দিনের মধ্যে দিল্লিতে কী ভাবে রঙিন ছবি ছাপা হল?’ আর সাক্ষাৎকারের এই অংশ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।‘

প্রতিবেদনে মোদির বক্তব্যের সমালোচনার কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়, অকাট্য যুক্তির ক্ষেত্রে যদিও বা ‘ডিজিটাল ক্যামেরা’র অংশ মেনে নেয়া যায়, মোদির ই-মইল ব্যবহারের দাবিকে কোনো ভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়। কারণ জাপানি ক্যামেরা প্রস্তুতকারী সংস্থা নিকন প্রথম বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রির জন্য ডিজিটাল ক্যামেরা বাজারে আনে ১৯৮৬ সালে।

যুক্তির জন্য যদিও বা মেনে নেয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে মাত্র এক-দু’বছরের মধ্যেই ডিজিটাল ক্যামেরা ভারতে এসেছিল এবং তা মোদির হাতে ছিল, এটা মেনে নেয়া কার্যত অসম্ভব। আর ই-মিইল প্রথম চালু হয় ১৯৯৫ সালে। আশির দশকে এই দেশে ই-মেইল তো দূরে থাক, ইন্টারনেটের ধারনাও খুব কম মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ বিএসএনএল প্রথম দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু করে ১৯৯৫ সালে। ফলে মোদির ‘ই-মেইল’ সংক্রান্ত দাবি পুরোপুরি অসম্ভব।

আর এজন্যই ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপের ঝড় বইতে শুরু করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে। টুইটার-ফেসবুক এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাক্ষাৎকারের ওই অংশ পোস্ট করে কেউ সুক্ষ খোঁচা দিচ্ছেন মোদিকে। কেউ আবার সরাসরিই আক্রমণ করে লিখেছেন ‘জুমলাবাজ’ মোদি।

আক্রমণ শুরু করেছেন কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরাও। দিব্যা স্পন্দন নামে এক কংগ্রেস নেতার সরস প্রশ্ন, ‘যদি ধরেও নেয়া যায় যে ১৯৮৮ সালে মোদীর ই-মেইল ছিল, কিন্তু সেই সময় তো অন্য কারো ই-মেইল ছিল না, তাহলে তিনি কাকে ই-মেইল পাঠাতেন?’

অর্থনীতিবিদ রূপা সুব্রহ্মণ্যমের টুইট, ‘মোদি কোনো ভাবে ১৯৮৮ সালে ই-মেইল ব্যবহার করেছেন, যেটা আমাদের কাছে্ সরকারি ভাবে এসেছে ১৯৯৫ সালে।’

ক্ষমতায় এসে বার বার ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদী। নোটবন্দির পর ক্যাশলেস ভারতের জিগির তুলেছেন। কিন্তু এ বার এমন এক ‘ডিজিটাল’ বোমা ছুড়লেন, যার জেরে অস্বস্তি চরমে উঠেছে। মোদির নিজের এবং তার দল বিজেপির।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0191 seconds.