• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৩ মে ২০১৯ ১৬:১২:০৩
  • ১৩ মে ২০১৯ ১৬:১২:০৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

হাইকোর্টের নিষেধ, তবু বাজারে হরদম চলছে ভেজাল ৫২ পণ্য

ছবি : সংগৃহীত

দেশের খ্যাতনামা কোম্পানির ৫২টি পণ্যকে নিম্নমানের বলে জানায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এর প্রেক্ষিতে রিট হলে রবিবার হাইকোর্টের বেঞ্চ এ পণ্যগুলো বাতিল ঘোষণা করে এবং বাজার থেকে সেগুলো প্রত্যাহার করে নেয়ার নির্দেশ দেন।

কিন্তু হাইকোর্টের এমন নির্দেশনা দেয়ার পরেও রাজধানীর বাজার গুলোতে বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের এসব পণ্য।

সোমবার রাজধানীর টাউন হল এবং মোহাম্মদপুরের বাজারে দেখা যায়, সেখানে সিটি গ্রুপের তীর সরিষার তেল, এসিআই এর লবণ, মসলা, মোল্লা লবণ, প্রাণের হলুদ গুঁড়া, ড্যানিশের হলুদ গুড়া, কাশেন ফুডের সান চিপস, বনফুলের লাচ্ছা সেমাই, প্রাণের লাচ্ছা সেমাইসহ হাইকোর্ট ঘোষিত ৫২টি ভেজাল পণ্যই বিক্রি হচ্ছে।

এ নিয়ে টাউনহলের মুদি দোকানদার রমজান বলেন, 'আমরা তো জানিনা এসব পণ্য ভেজাল ও নিম্নমানের ঘোষণা করা হয়েছে । কোম্পানিগুলো তো আমাদের কিছু জানায়নি। আমরা মাল কিনি বিক্রি করি আমাদের তো এগুলো জানবার কথা না।'

বাজার করতে আসা নিলয় হাসান বলেন, 'এসিআই এর মত এরকম নামিদামি কোম্পানির পণ্য যদি ভেজাল ও নিম্নমানের হয় আমাদের মত সাধারণ ক্রেতারা ভরসা রাখবে কাদের উপরে। তাই আমি মনে করি অচিরেই এ সব নামিদামি কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া উচিত অপসারণ করা উচিত এদের নিম্নমানের পণ্যগুলো বাজার থেকে।'

এ বিষয়ে টাউন হলের আরেক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, 'আপনারা আমাদের কাছে কেনো এসেছেন। যেসব কোম্পানিগুলো এসব নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন করে এবং আমাদের সাপ্লাই দেয়, তাদের কাছে যান। আমরা সাধারণ বিক্রেতা ক্রেতারা চায় আমরা বিক্রি করি, এখানে আমাদের কোনো লাভ নাই। আর সরকার যদি এসব পণ্য নিষিদ্ধ করে থাকে আমরা অবশ্যই সে সব পণ্য বিক্রি করব না। সবার আগে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন বন্ধ করুন তাহলে বাজারে নিম্নমানের পণ্য আসবে না।'

এ সময় বাজার করতে আসা সরকারি চাকুরিজীবী মোহাম্মদ রাজা মিয়া বলেন, 'বিএসটিআই যদি এসব পণ্য নিম্নমানের ঘোষণা করে থাকে তাহলে বাজারে আসছে কিভাবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো নজরদারি করা উচিত। জনগণকে ভেজাল মুক্ত পণ্য নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।'

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর মুদির দোকানদার মিম এন্টারপ্রাইজের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, 'আমি শুনেছি কিছু পণ্যকে নিম্নমানের ঘোষণা করা হয়েছে। আমার দোকানে কিছু এসব পণ্য আছে। তবে খুব শীঘ্রই কোম্পানিকে এসব পণ্য ফেরত দিবো। তবে এসব পণ্য যে নিম্নমানের তা কোম্পানি থেকে আমাদের জানানো হয়নি।'

মৌসুমি আক্তার বাজার করতে এসে অভিযোগ করেন, 'রমজান আসলেই এমন তোড়জোড় দেখা যায়। যেসব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিম্নমানের তাদের কিছুই হবে না। দুইদিন পরে আবার এসব পণ্য ঠিকই বাজারে পাওয়া যাবে।'

এ ব্যাপারে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, '৫২টি পণ্য ভেজাল ঘোষণা করে বাতিল করা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। যেসব কোম্পানি ভোক্তাদের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করেন না তাদের জন্য এটা অশনিসংকেত এবং ভোক্তাদের জন্য সুবার্তা।'

উল্লেখ্য, রমজান উপলক্ষে সম্প্রতি বিএসটিআই  ৪০৬টি খাদ্য পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় ৫২টি কোম্পানির ৫২টি পণ্য নিম্নমানের ও ভেজাল রয়েছে। গত ২ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0182 seconds.