• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১২ মে ২০১৯ ২১:১৬:০২
  • ১২ মে ২০১৯ ২১:১৬:০২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ইউসিসির পরিচালকের হাতে ‘মদে’র বোতল, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে পানিভর্তি কাঁচের বোতল হাতে উত্তেজিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের (ইউসিসি) নয়াবাজার শাখার পরিচালক ফয়েজ আহমেদের একটি ভিডিও। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বোতল হাতে নেন তিনি। এরপর কয়েকজন তাকে থামিয়ে দিলে কাঁচের বোতলটি তার টেবিলে রেখে দেন।

২৯ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করে ভাইরাল করেছেন মহিউদ্দিন অনি নামের এক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক।

ভিডিওটির বিষয়ে অনি বলেন, রথিন রয় নামে মাদারীপুরের এক কৃষকের ছেলেকে ভর্তির জন্য আমি ইউসিসিতে যাই। আমার সঙ্গে রথিনের মামাও ছিলেন। ইউসিসিতে ভর্তির ফি ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। রথিন কৃষকের ছেলে তাই আমি ইউসিসি পরিচালককে ৭ হাজার টাকা নেয়ার কথা বলি। তিনি তখন এই টাকায় রাজি হয়নি। বরং বলেছেন- ‘এই শাখা খুলেছি কী ফকির-মিসকিনের পোলাপান পড়াতে?’ এরপর তিনি আমাকে বের হয়ে যেতে বলেন। আমি বিষয়টি সুরাহা না করে বের হব না বলে জানাই। তখন ইউসিসি পরিচালক ফয়েজ আমাকে মারতে আসেন। সে হাতে একটি কাঁচের বোতল নেন (ভেতরে পানি ভরা ছিল)। তখন আমি বলেছি- আপনি আমাকে মারতে পারবেন না, এখানে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, মারলে মারেন।

তখন উনি বোতল নিয়ে তেড়ে আসলে আমি মোবাইলে ভিডিও অন করি। ইউসিসির কয়েকজন শিক্ষক তার হাত ধরে ফেলে ও তাকে বোতল রাখতে বলেন। এ ঘটনার সময় ইউসিসিতে ছিলেন কোতোয়ালি থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আমাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করে দরিদ্র ছেলেটিকে ভর্তির ব্যবস্থা করান। তবে ফয়েজ আহমেদের এমন আচরণের কারণে আমি তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তবে ইউসিসি পরিচালক ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘আপনারা ভিডিওতে যা দেখেছেন তা আংশিক। ঘটনাটা এমন না। অন্য একটি ঘটনার জের ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমার রুমের বাইরে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিল। তাই আমি অনিকে চলে যেতে বলি। অনি কোনোভাবেই রুম থেকে বের হচ্ছিল না। সে ছাত্রলীগ করে, উত্তেজনাবসত সে ওই কাঁচের বোতল দিয়ে আমার গায়ে আক্রমণ করতে পারে, সেই আশংকায় আমি বোতলটি নিজের হাতে নিয়ে নেই। তাছাড়া আমি তার দিকে তেড়ে গিয়েছি কিংবা আক্রমণ করেছি এমন কোনো চিত্র ভিডিওতে নেই।’

উত্তেজনার সূত্রপাত জানতে চাইলে ফয়েজ দাবি করেন, ঘটনার সূত্রপাত ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখে। তুষার নামে ছাত্রলীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা একটি দরিদ্র একটি মেয়েকে বিশেষ ছাড়ে ভর্তির জন্য সুপারিশ করে। আমাদের কোর্স ফি ছিল ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। আমি ওই মেয়ের কোর্স ফি ১২ হাজার নির্ধারণ করি। তখনই তারা আমাকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে যায়, ৫ হাজার টাকা পরবর্তীতে দেয়ার আশ্বাস দেয়। এরপর পরীক্ষার কারণে কোচিং সেন্টার বন্ধ ছিল। কোচিং খোলার পর আমরা সবাইকে বকেয়া পরিশোধ করতে বলি। ওই মেয়ের বকেয়া ৫ হাজার টাকা দেয়া কথা। কিন্তু তার পক্ষে ২ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য তুষার ছাত্রলীগের আরেক কর্মী অনিকে আমার কাছে পাঠায়। অনি আমাকে ওই ছাত্রীর জন্য ৫ হাজারের জায়গায় ২ হাজার টাকা দিতে চাইলে আমি অস্বীকৃতি জানাই। আমি বলি, ‘যার সঙ্গে কথা হয়েছে তার সঙ্গেই (তুষার) বিষয়টা সুরাহা হবে।’

তিনি দাবি করেন, ওই ছাত্রীর ২ হাজার টাকা ছাড়াও অনি আজ একজন ছেলের (রথিন রয়) পক্ষে সুপারিশ করতে আসে। সে বলেছিল ছেলেটি গরিব। আমি নিজে গরিব ছিলাম তাই ওই ছেলের দুঃখ আমি বুঝি। তাই আমি রথিন রয়কে ৭ হাজার টাকায় ভর্তি করাতে রাজি হই। অনির সঙ্গে যখন আমি কথা বলছিলাম তখন কোতোয়ালি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য আমার রুমের বাইরে বসেছিল। আমি অনিকে বারবার বাইরে যেতে বলি। সে বাইরে যাচ্ছিল না। আমার রুমেই বসেছিল। অনি বার বার বলছিল আগের বিষয়টা (ছাত্রীর ফি সংক্রান্ত) আগে সুরাহা করেন। অনি উত্তেজনাবসত আমার কাঁচের বোতল দিয়ে আমার গায়ে আক্রমণ করতে পারে, সেই আশংকায় আমি বোতলটি নিজের হাতে নিয়ে নেই। আবার সেটি ডেস্কে রেখে দেই এতটুকুই।

এরপর অনির সঙ্গে আমার কথা হয়, বিষয়টি সুরাহা হয়। অনি এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলবে না এবং ভিডিওটি ডিলেট করেছে বলেও আশ্বাস দিয়েছিল। তবে বিভ্রান্তিকর কথা বলে কেন ভিডিওটি ছাড়ল তা আমি বুঝলাম না।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ইউসিসি ছাত্রলীগ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0225 seconds.