• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১১ মে ২০১৯ ২২:২৪:৩৩
  • ১১ মে ২০১৯ ২২:২৪:৩৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কাজ শেষ না করেও ২০০ কোটি টাকা পেলো চীনা কোম্পানি

ছবি : সংগৃহীত

ফুলবাড়ি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে সময় মত কাজ শেষ না করে ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উল্টো ২০০ কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়াম নামের চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে। বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে লিখিতভাবে এই অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

সেই অভিযোগে বলা হয়, কোম্পানিটির সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নয়ন কাজ না করলে তাদের ক্ষতিপূরণ (এলডি) দেয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ না করলেও তাদেরকে বিল দেয়া হয়েছে।

আরো বলা হয়, বিলসহ যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য অতিরিক্ত বিল এবং স্থানীয় ও বৈদেশিক মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে চুক্তির বাইরে বিলসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকা দেয়া হয়। পরপর চারটি পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব বিষয়ে আপত্তি উঠলেও ওই কোম্পানির পক্ষে সাফাই গেয়ে ও সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে বিল পাস করিয়ে নেয়া হয়। বিল পাস করার কৌশল হিসেবে চীনা কোম্পানি প্রায় সপ্তাহখানেক কয়লা উৎপাদন বন্ধ রাখে। এভাবে কোম্পানিকে জিম্মি করে কয়েক দফায় এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়াম প্রায় ১৮০ কোটি টাকা আদায় করে নিয়েছে।

লিখিত সেই অভিযোগে আরো বলা হয়, চীনা কনসোর্টিয়ামের সাথে বড়পুকুরিয়া কয়লা কোম্পানির চুক্তি অনুযায়ী কয়লার আদ্রতার (পানি) পরিমাণ ৫ দশমিক এক শতাংশ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য। এর বেশি থাকলে বাড়তি পানির দাম বাদ দিয়ে ঠিকাদারকে কয়লার দাম পরিশোধ করা হবে। কিন্তু বর্তমানে অনেক বেশি পরিমাণ পানি থাকছে। অথচ বাড়তি পানির দাম বাদ না দিয়ে কয়লার সঙ্গে পানির একই মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে। আগে এধরণের ঘটনায় বিল ও রিটেনশন মানি আটকে রাখা হলেও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান চীনা কোম্পানিকে ওই বিলগুলো পাইয়ে দেন। এর মধ্য দিয়ে বড়পুকুরিয়া কোম্পানি তার দাবি ছেড়ে দেয়ায় আর্থিকভাবে বড় ধরণের ক্ষতি শিকার হচ্ছে।

ফজলুর রহমান বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, গত বছর আগস্টে বড়পুকুরিয়া কয়লা কোম্পানিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চলতি দায়িত্ব নিয়েই অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়ান তিনি। প্রফিট বোনাস আটকে রেখে কয়লা খনি কোম্পানির স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার কাছ থেকে মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা করে প্রায় ৫৮ লাখ টাকা আদায় করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনা কারণে বদলি, শোকজও করেন। গণমাধ্যমকে ভবিষ্যতে আর কোনো তথ্য না দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চিঠিও দেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, এসব ঘটনা তদন্তে পেট্রোবাংলা কমিটি গঠন করলে ফজলুর রহমান ওই কমিটির প্রধানের সাথে এরই মধ্যে চীন ঘুরে এসেছেন। তিনি এখনো কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে থাকায় তদন্ত কমিটির কাছে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। আর এতোকিছুর পরেও পেট্রোবাংলা থেকে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার কারণ বড়পুকুরিয়া কোম্পানির দুই কর্মকতা। তারা হলেন- জেনারেল ম্যানেজার প্রশাসন (চলতি দায়িত্ব) সাইফুল ইসলাম দিপু ও ম্যানেজার (মাইনিং) মোশাররফ হোসেন।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গণমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সংসদীয় কমিটির সদস্য শামসুর রহমান শরীফ এ ব্যাপারে বলেন, ‘অভিযোগ নিয়ে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।’

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0187 seconds.