• ১১ মে ২০১৯ ১৫:৩৮:৫৫
  • ১১ মে ২০১৯ ১৬:০৬:৪৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রমজান কি কেবলই খাদ্য উৎসবের মাস?

ছবি : সংগৃহীত

সংযমের মাস রোজা। বছর ঘুরে মুসলিম ধর্মের মানুষের জন্য স্রষ্টার নৈকট্য পাওয়ার সুযোগ করে দেয় এই মাস। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নিজেদের কামনা-বাসনা বা ভোগ-বিলাস নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরহেজগারি বা তাকওয়া বৃদ্ধি করাই এ মাসের লক্ষ্য।

কোরআন নাজিলের মাস এটি। ফলে মাসটির ফজিলত বেড়ে বহুগুণ। এ মাসে পানাহার থেকে বিরত থেকে সংযম অবলম্বন করে মুসলমানরা। রোজা মানেই তাই সংযম। না খেয়ে থেকে ক্ষুধার্তদের জঠর জ্বালা অনুভব করাও রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রশ্ন হচ্ছে রোজার মাস সংযমের হলেও এ সংযম কতটা পালন করছি আমরা। সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকছি। না খেয়ে কষ্ট করছি, ফেসবুকে রোজার ফজিলত লিখে লিখে স্ট্যাটাস দিচ্ছি তাতেই কী পালন হয়ে যায় রোজা?

বছর ঘুরে রমজান মাস আসে। শুধু ভোর থেকে সন্ধ্যা পানাহার থেকে বিরত থাকার জন্য রোজা ফরজ করা হয়নি। বলা হয়েছে, সকল কাজে সংযম অবলম্বন করার জন্য। অথচ এই সংযমকে অজুহাত দেখিয়ে কত কিছুই করা হয়। রোজার এই সময়টাকে কেন্দ্র করে এমন কিছু বিষয় লক্ষ করা যায়, যা সংযম সাধনার বিপরীত। বেড়ে যায় ভোগ্যপণ্যের দাম। রমজান এলেই কেন পণ্যের দাম বাড়াতে হবে। রমজান কি খাদ্য উৎসবের মাস? এ মাসটি বেশি খাওয়ার দাওয়ার জন্য? নাকি খাবার থেকে সংযমের জন্য। রোজা রাখার নামে ভোগ-বিলাস আরো বাড়িয়ে দিতেই দেখা যায় বেশি এ মাসে। সেহরি বা ইফতার পার্টি তো চলেই, সেই সঙ্গে প্রতিটি পরিবারে অন্যান্য মাসের খরচের চাইতে রমজান মাসের খরচ বাড়ি দিচ্ছে দ্বিগুণ।

অথচ রোজা হলো পানাহার থেকে বিরত থাকার মাস। সংযমের কারণে খরচও কমার কথা ছিল এ মাসে। সারাদিন খাবার না খেয়ে থেকে সন্ধ্যায় খাবারের পসরা নিয়ে বসার জন্য তো এ মাস নয়। আত্মশুদ্ধির মাস এটি। আমাদের ইফতারের দিকে তাকালে মনে হয় প্রতি সন্ধ্যায় খাবারের উৎসবের জন্য রোজার মাস ঘোষণা করা হয়েছে।

অথচ ইফতারে ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মাদ (সা:) কী খেতেন? জানেন সেটা? জানলেও হয়তো সে দিকে ভ্রুক্ষেপ করছেন না। হযরত আনাস ইবনে মালিকের (রা:) বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবীজি (স:) শুধু তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাজা না পাওয়া যেত তাহলে শুকনা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। আর যদি তাও পাওয়া না যেত তাহলে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে নিতেন। এরপর তিনি মাগরিবের নামায পড়ে নিতেন। অথচ রাসুল সা: এর কী খাবারের অভাব ছিলো সে সময়ে? ছিলো না অবশ্যই। তার অনুসারীদের শিক্ষা দিতেই এমনটি করেছেন তিনি। অথচ আমরা কী  শিখেছি? কী করছি এখন?  খাবারের পসরা নিয়ে বসে যাচ্ছি। খেতে খেতে মাগরিবের নামাজের কথাও ভুলে যাচ্ছে অনেকে।

এমন অভ্যাসের দরুণ রোজা রাখার দরুন শারীরিক, মানসিক, আত্মীক উপকারের যে বিষয়টি থাকে সেটা থেকে অজান্তেই বঞ্চিত হচ্ছি। ফলে হচ্ছে উলটো রিঅ্যাকশন হচ্ছে। রোজার মাসে সেহরি ও ইফতারে বেশি খাওয়ার দরুন মানব দেহকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে ভয়ংকর সব শারীরিক ঝুঁকির দিকে। যেটি বিজ্ঞানেও প্রমাণিত।

বিজ্ঞান বলে, মানবদেহে আই জি এফ-১ এক ধরনের হরমোন নামে গ্রোথ হরমোন আছে। যার কাজ হচ্ছে প্রতি নিয়ত নতুন কোষ তৈরি করে দেহকে বাড়ন্ত রাখা। এই হরমোন পুরোনো কোষে মেরামত ও ক্ষয় পুরোনের চেয়ে নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়াই বেশি সক্রিয় রাখে। মানব দেহ যতো বেশি খাবেন বিশেষত প্রোটিন জাতীয় খাবার ততো বেশি সেই দেহে আই জি এফ-১ তৈরি করবে। শুধু তাই নয় সব সময় যখন এমন একটি অবস্থা থাকে অর্থাৎ কোন বিরতি বা বিশ্রাম ছাড়া প্রতিনিয়ত নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া এই সুযোগে দেহে বাসা বাঁধে ডায়াবেটিস বা ক্যান্সারের মত মরন ব্যাধিগুলো।

কয়েক ধরনের ক্যান্সার যেমন স্তনক্যান্সার, প্রস্টেটক্যান্সার এবং ক্লোনক্যান্সারের সাথে বিজ্ঞানীরা উচ্চ মাত্রার আই জি এফ-১ যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা বলেন, এ অবস্থাকে পালটে দিতেই তাই মাঝে মাঝে খাবার থেকে দেহকে অব্যাহতি দেওয়া দরকার। রোজা এ ধরনের অবস্থা থেকে উতরে উঠার মাধ্যম। চিকিৎসা বিজ্ঞান জানায়, রোজা কমিয়ে দেয় ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি। সারায় পেট্রিক আলসার উপসর্গ। বাঁচাতে পারে আলসেইমার ডিসেনশিয়া স্মৃতিভ্রমের মতো বয়স জনিত রোগগুলো থেকে। তবে তার জন্য রোজা রাখতে হবে সঠিক খাদ্যাভাসে। ইসলামের সঠিক নিয়ম মেনে। নবীজি (স:) এর সুন্নাহ অনুসারে।

লেখক ও সাংবাদিক

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

রমজান

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0195 seconds.