• ০৯ মে ২০১৯ ২০:২৯:২৮
  • ০৯ মে ২০১৯ ২০:২৯:২৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আ.লীগ নেতাকে পেটালেন আ.লীগে যোগ দেয়া বিএনপি নেতা

ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতিকে পিটিয়ে আহত করছে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা। ৬০ বছর বয়ষ্ক এই প্রবীণ নেতার নাম ইউসুফ আলী। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নে বুধবার বিকেলে গোহাইল ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কলেজটির অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে সিনিয়র শিক্ষক আফজাল হোসেন জেলা শিক্ষা অফিসে একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার দিন তদন্ত করতে আসেন জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আমান উদ্দিন মন্ডল। তদন্ত চলাকালে অন্য শিক্ষকদের অনুরোধে স্কুলে যান ভুক্তোভোগী ওই নেতা ইউসুফ আলী, দলটির ইউনিয়ন আইনবিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেনসহ আরও ৩-৪ জন নেতাকর্মী।

এসময় কয়েকটি ঘটনার সাক্ষী হওয়ার অপরাধে অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ফরহাদ হোসেনের ওপর। এরপর তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজুকে ফোন করে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন।

চেয়ারম্যান ফজু আসা মাত্রই ফরহাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখি আচরণ শুরু করেন। এসময় সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি থামাতে গেল ইউসুফ আলীকেও মারতে উদ্যোগী হন এবং ফোন করে তার সহযোগীদের ডাকেন। এ অবস্থায় শিক্ষকরা শাজাহানপুর থানা জানায়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে আসে।

এদিকে, চেয়ারম্যান ফজুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুবলীগ নেতা বাদশা আলমগীর, লিটন, আলমগীরসহ যুবলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা ৮-১০টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। এরপর পুলিশের সামনেই চেয়ারম্যান ফজুসহ তার বাহিনীর সদস্যরা নেতা ইউসুফ আলী ও ফরহাদ হোসেনসহ দলীয় কর্মী সেলিম হোসেন, আব্দুর রশিদ, বাদশা মিয়া, শিপলুসহ আরো কয়েকজনকে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এ সময় এসআই সুশান্ত উপস্থিত থাকলেও বাধা দেননি তিনি।

এ ব্যাপারে এসআই সুশান্ত বলেন, ‘তিনজনের পুলিশ ফোর্স নিয়ে যতটুকু সম্ভব পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেছি। পরে ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ, এসআই ছাম্মাকসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গেলে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।’

এ নিয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম হোসেন বলেন, ‘নব্য আওয়ামী লীগ নেতা ফজু প্রথমে বিএনপির লোকজনকে দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে পিটিয়েছে। পরে তার অনুগত যুবলীগের একটি বাহিনীকে ডেকে নিয়ে দ্বিতীয় দফা মারধর করে। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে এমন আচরণ মোটেই সুখকর নয়। এরা দলের শত্রু।’

ইউনিয়ন সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমি বৃদ্ধ মানুষ। এত বছর আওয়ামী লীগ করি, কখনো কেউ আমাকে মারধর করেনি। অথচ নতুন করে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তারা আমার গায়ে হাত তুললো। পুলিশের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার শেষে আমাদের উদ্ধার করে তাদের গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। এ ঘটনা জেলার নেতাদের জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি আলী ইমাম ইনোকী বলেন, ‘বিএনপি নেতা ফজু আওয়ামী লীগের ব্যানার ব্যবহার করে ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছেন। নব্য আওয়ামী লীগ সেজে বিএনপির লোকজন দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা থেকে শুরু করে ত্যাগী নেতাদেরকে মারধর করছেন। এর আগেও তিনি রাস্তার ইট তুলে নিয়ে গিয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঘর বানান। এ ব্যাপারে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সেই ইট আবার রাস্তায় রেখে যান। তার এসব অপকর্মের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু বলেন, ‘জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ তদন্ত করতে এলে স্থানীয় কিছু টাউট-বাটপার ঝামেলা সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে অধ্যক্ষের ফোন পেয়ে সেখানে যাই। তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদী ও বিবাদীকে উপস্থিত থাকতে বলেছেন। সেখানে বাইরের লোকজনের উপস্থিতি দেখে তাদের কাছে কারণ জানতে চাইলে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে হাতাহাতি হয়। তবে আমি কাউকে মারপিট করিনি।’

এ নিয়ে পুলিশের কর্মকর্তা (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল হয়। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে পরিবেশ শান্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু দীর্ঘদিন ধরে গোহাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হতে না আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্তের দিন ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয়ী হন। তিনি এর আগেও বিএনপি থেকে  চারবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আওয়ামী লীগ বগুড়া

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0194 seconds.