• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ মে ২০১৯ ০২:০৪:০১
  • ০৯ মে ২০১৯ ০২:০৪:০১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ধর্ষণের শিকার হয়ে মা, সন্তানের নাম ‘অত্যাচার’

প্রতীকি ছবি

ধর্ষণের শিকার হয়ে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী। আর সেই সন্তানের নাম রাখা হয়েছে ‘অত্যাচার’। কিন্তু গর্ভধারণের পর থেকেই ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী ও তার স্বজনরা সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পাননি। উল্টো তাদের উপর করা হয় নানা ধরনের মানসিক ও সামাজিক অত্যাচার।

আর সে কারণেই অনেকটা বাধ্য হয়ে ভুক্তোভোগী পরিবারটি কন্যা শিশুটির নাম রেখেছে ‘অত্যাচার’। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার গিলারচালা গ্রামে এ ঘটানাটি ঘটে।

এখানেই শেষ নয়, প্রথমবার ধর্ষণে কিশোরীর সন্তান জন্ম হওয়ার পর, দ্বিতীয়বার আবারো ধর্ষণের শিকার হন ওই ছাত্রী। মাকে ধর্ষণের পাশাপাশি শিশু সন্তানটির উপরেও করা হয় শারীরিক নির্যাতন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার মা ও শিশুকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান।

ছাত্রী ও তার স্বজনেরা জানান, পৌর এলাকার গিলারচালা গ্রামের হাজী আব্দুল মান্নানের বাড়িতে তারা সপরিবারে ভাড়া থাকতেন। আর ভুক্তোভোগী মা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। গত বছর কিশোরীকে ধর্ষণ করে বাড়ির মালিকের ছেলে জহিরুল ইসলাম। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়।

এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে প্রকাশ পেলে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় জহিরুলকে অভিযুক্ত করে সে বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর একটি মামলা করলে গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত জহিরুল। একপর্যায়ে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

এদিকে আবার জামিন মুক্তি পেয়ে জহিরুল নির্যাতনের শিকার এই পরিবারের অসহায়ত্বকে কেন্দ্র করে আবারো নানা ধরনের অত্যাচার শুরু করে।

মামলা প্রত্যাহার করার জন্য যেমন চাপ, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসামিদের হয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিলান উদ্দিন দুলালের আপসের প্রস্তাব। আর এসব প্রস্তাব নাকচ করে মা যখন তার সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে অনড় থাকলে আবারও অত্যাচার নেমে আসে তাদের উপর।

মঙ্গলবার সকালে ছাত্রীটির বাবা ও মা কাজের জন্য বাইরে চলে গেলে আবারো ধর্ষণের শিকার হন ভুক্তভোগী সেই মা। এবার সেজান (১৯) নামে এক তরুণ তাকে ধর্ষণ করে। পরে চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ নিয়ে ছাত্রীর বাবা জানান, তাদের সামাজিক অবস্থান নেই। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানায়। একটু সচ্ছল থাকার আশা নিয়ে শ্রীপুরে এসে কাজ নিয়েছিলেন। কিন্তু গত ১ বছর ধরে তাদের উপর যে ধরনের নির্যাতন হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রতিবাদস্বরূপ তারা শিশুটির নাম রাখেন ‘অত্যাচার’।

তিনি আরো বলেন, ‘বিচার পাই আর না পাই শিশুটির নামের মাধ্যমে আমরা অত্যাচারের কাহিনী শোনাতে চাই সবাইকে। সবাইকে বুঝাতে চাই গরিবের জন্য আইনের ভাষা অন্যরকম। এই সন্তানের পিতৃপরিচয় আড়াল করতে নানা ধরনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

শ্রীপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সাদি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে প্রথমবার থানায় মামলা করেন। যাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল তার ডিএনএ টেস্ট করে অভিযোগের সত্যতা পাইনি। তবে দ্বিতীয়বার সেজান নামের একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেজান নেত্রকোনা সদর উপজেলার গাজার কান্দি গ্রামে হাবুলের ছেলে। সে মান্নান হাজির বাড়ির ভাড়াটিয়া। সেজানেরও ডিএনএ টেস্ট করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সাদি।’

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মইনুল হক খান বলেন, ‘মঙ্গলবার কিশোরী ও তার শিশু সন্তানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলে রাতেই বাড়ি ফিরে যায় তারা।’

এদিকে কাউন্সিলর জিলান উদ্দিন দুলাল এমন ঘটনা মীমাংসা করার বিষয়ে নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।’

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ধর্ষণ গাজীপুর অত্যাচার

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0143 seconds.