• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৬ মে ২০১৯ ২১:৩৮:৩৯
  • ০৬ মে ২০১৯ ২১:৩৮:৩৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

শ্রীলংকায় মুসলমানদের বাড়িঘরে হামলা করেছে খ্রিষ্টানরা

ছবি : সংগৃহীত

শ্রীলংকার উপকূলীয় শহর নেগোম্বোতে মুসলমান মালিকানাধীন দোকান, গাড়ি এবং বাড়িঘরে হামলা করেছে একদল ক্যাথলিক খ্রিষ্টান।  এই ঘটনায় পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর উত্তরে নেগোম্বো শহরের অবস্থান।  ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের দিনে এই শহরের সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল।  অবশ্য সেদিন শ্রীলংকাজুড়ে আরো দুটি গির্জা এবং বেশ কয়েকটি হোটেলে হামলা করা হয়েছিল। কিন্তু সেন্ট সেবাস্টিয়ানে হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য খ্যাত নেগোম্বো শহরে দীর্ঘদিন ধরেই খ্রিষ্টান এবং মুসলমানরা একসঙ্গে পাশাপাশি বাস করে আসছিল।  কিন্তু ইস্টার সানডের হামলায় ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত থাকায় স্থানীয় মুসলমানদের উপর ক্ষুব্ধ হতে থাকে নেগোম্বোর ক্যাথলিক খ্রিষ্টানরা। 

অবশ্য সন্ত্রাসী হামলার পর পরই নেগোম্বোতে বাস করা কয়েকশ পাকিস্তানি মুসলিম শরণার্থী পাল্টা হামলার ভয়ে নেগোম্বো ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল।  রবিবার ইস্টার হামলার দুই সপ্তাহ পরে স্থানীয় খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের বাড়ি ঘর এবং দোকানে হামলা করে বসে।  ফলে রবিবার রাতেই শহরটিতে কারফিউ জারি করা হয়। অবশ্য সোমবার সকালের দিকে কারফিউ উঠিয়ে নেয়া হয়।

পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারা জানান, সহিংসতার এই ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সুমিত আতাপাতু জানান, মুসলমান এবং খ্রিষ্টানদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।    

বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, হামলাকারীরা তিন চাকার ট্যাকসি এবং মোটর বাইক পুড়িয়ে দিয়েছে।  রত্ন পাথর বিক্রি করা একটি দোকানের মালিক জানিয়েছেন, প্রায় ৪০০ জন লোকের একটি দল তার দোকানে পাথর ছুড়ে মেরেছে।

 

এদিকে সোমবার কলম্বোর আর্চবিশপ কার্ডিনাল ম্যালকম রঞ্জিত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘ সব ক্যাথলিক এবং খ্রিষ্টান ভাই ও বোনদের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলছি, আপনারা একজন মুসলমানকেও আক্রমণ করবেন না। কারণ তারা আমাদের ভাই। এছাড়া তারা আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ। ’

এছাড়া শ্রীলংকার রোমান ক্যাথলিক গির্জাও সবাইকে শান্ত থাকার এবং নেগোম্বো শহরে মদ নিষিদ্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।  

উল্লেখ্য, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রীলংকায় মাত্র শতকরা ১০ ভাগ মুসলমান বাস করে।  এছাড়া খ্রিষ্টানদের সংখ্যা শতকরা ৭.৬ ভাগ। ফলে সংখ্যালঘু দুই জনগোষ্ঠীই এতদিন ধরে শান্তিতে বাস করে আসছিল।  দেশটিতে বৌদ্ধদের সঙ্গে মুসলমানদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেলেও খ্রিষ্টানদের সঙ্গে মুসলমানদের মারামারির কোন ঘটনা কখনো শোনা যায়নি।  কিন্তু ২১ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সবকিছু উলটপালট করে দিয়েছে।  যার ফলে এখন সংখ্যালঘু দুই সম্প্রদায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। 

বাংলা/এফকে

 

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0189 seconds.