• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৫ মে ২০১৯ ১৯:১৬:২৭
  • ০৫ মে ২০১৯ ১৯:১৬:২৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের তালিকা করবে সরকার

ছবি : সংগৃহীত

সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে নানা ধরণের অনিয়মের কথা প্রায়ই শোনা যায় বা খবরের শিরোনাম হয়। এর ফলে সরকার যেমন ইমেজ সংকটে পড়ে তেমনি অপচয় হয় রাষ্ট্রীয় অর্থের। তাই এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার তালিকা তৈরী করতে যাচ্ছে কাজের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা দুনীর্তিবাজ ঠিকাদারদের।

মূলত গত পাঁচ বছরে বাস্তবায়িত মানহীন প্রকল্প গুলোর ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এ উদ্যোগের মাধ্যমে।

জানা গেছে, যেসব ঠিকাদার দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষ তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। এজন্য আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদ ২০১৪-২০১৮ পর্যন্ত যেসব উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক জাজরীন নাহার কর্তৃক স্বাক্ষর করা এটি চিঠি সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় পঠিয়ে বিগত পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন হওয়া সব প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সেই চিঠিতে প্রত্যেকটি প্রকল্পের নাম, ব্যয়, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং প্রকল্পটি কোন ঠিকাদার বাস্তবায়ন করেছেন, সে সব তথ্য দিতে বলা হয়। এমনকি ওই ঠিকাদার উন্মুক্ত, সরাসরি না সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে কাজ পেয়েছিলেন তাও জানাতে হয়। একই সাথে প্রকল্পের গুণগত মান বিষয়ে বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার প্রধানদের মতামত দিতে বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘এটি সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কারণ এখন প্রকল্পের মান নিয়ে সুশীল সমাজ ও সরকারের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে। এজন্য দেখা দরকার কারা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। একই প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বারবার প্রকল্প পাচ্ছে কি না দেখা দরকার। তাদের অন্য কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা আছে কি না সেটাও জানা জরুরি। পাশাপাশি যেসব ঠিকাদারের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। এজন্য সব পক্ষ থেকে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।’

আরো জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন- পর্যাপ্ত জনবল না থাকা, যথাযথভাবে প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই না হওয়া, দরপত্র আহ্বানে দেরি করা, বারবার দরপত্র, মামলা, ডিপিপিপি সংশোধন, একই ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্পের পিডি করাসহ বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা।

এতো কিছুর পরেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে প্রকল্পে ঠিকাদাররা আবার নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গুলো সময়মতো কাজ শেষ করে না। এর ফলে সময় বেশি লাগে। এ কারণে অনেক প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়। এছাড়াও রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার, প্রকল্প শেষ হওয়ার পরপরই ভবন বা স্থাপনা ভেঙে পড়া, এমনকি কাজ চলা অবস্থাতেই ভেঙে পড়ার ঘটনাও আছে। কিন্তু সরকার চায় টেকসই উন্নয়ন। তাই এসব খাতে সরকার দুর্নীতি বন্ধ করতে চায়।

আরো জানায়, মানহীনভাবে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে বা সময়মতো বাস্তবায়ন হয়নি- ওই সব প্রকল্পের ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। এমনকি কীভাবে কাজ পেয়েছে তাও বিশ্নেষণ করা হবে।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

দুর্নীতি ঠিকাদার সরকার

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0183 seconds.