• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০১ মে ২০১৯ ১৪:৫৫:০৭
  • ০১ মে ২০১৯ ১৪:৫৫:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

চিনির বিকল্প মিষ্টি ‘চিনিগো’ উদ্বোধন

ছবি : সংগৃহীত

দেশের জনপ্রিয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যাল এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পূর্ণাভা লিমিডেট চিনির বিকল্প পণ্য হিসাবে বাজারে নিয়ে এসেছে ‘চিনিগো’। গত ২৯ এপ্রিল ২০১৯ সোমবার রাজধানী ঢাকার মিরপুর ১৪তে অবস্থিত পিএসসি কনভেনশন হলে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করে পণ্যটির নতুন সংস্করন ‘চিনিগো প্রিমিয়াম’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেনাটা ও পূর্ণাভা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ কায়সার কবির, রেনাটা ও পূর্ণাভা লিমিটেডের ডাইরেক্টর সেলস খলিল মোসাদ্দেক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুন নুর তুষার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, নাগরিক টেলিভিশন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তামান্না চৌধুরী, প্রিন্সিপ্যাল ডায়েটিসিয়ান, এপোলো হসপিটালস, ঢাকা। শামসুন্নাহার নাহিদ (মহুয়া), প্রধান পুষ্টিবিদ, বারডেম, ঢাকা। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ড. রহিমা সুলতানা, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ও গেস্ট লেকচারার, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্টিভিয়া পাতার নির্যাসে তৈরি চিনিগোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন রেনাটা লিমিটেডের এডিশনাল ম্যানেজার রিনাত রিজভি। তিনি বলেন, ‘চিনিগো’ কি? স্টিভিয়া নামে একটি গাছের পাতা থেকে সংগৃহীত নির্যাস দিয়ে তৈরি হয়েছে পূর্নাভার তাক লাগানো পণ্য ‘চিনিগো’। এবার স্বভাবতই প্রশ্ন আসবে স্টিভিয়া কি? স্টিভিয়া মূলত দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের একটি ভেষজ উদ্ভিদ। স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই খাবার ও পানীয়তে চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে স্টিভিয়া। স্টিভিয়া এক্সট্রাক্ট বা রিবিয়ানা নামে এটি পরিচিত সেখানে। এর মিষ্টতার পেছনে মূল উপাদান হলো বিভিন্ন ধরনের স্টিভিওল গ্লাইকোসাইড (প্রধানত স্টেভিওসাইড ও রিবডিওসাইট)। এসব উপাদানের কারণে স্টিভিয়া সাধারণ চিনির চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি মিষ্টি, তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় এর কোনো ধরনের প্রভাব নেই। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক উপাদান, কোনোভাবেই কৃত্রিম নয়।

রেনাটা ও পূর্ণাভা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ কায়সার কবির বলেন, সময় এসেছে এখন স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবার। মানুষের ওজন বাড়ছে। ওজন বাড়ার তালিকায় বাংলাদেশের মানুষও পিছিয়ে নেই। বাড়ছে মোটা মানুষের সংখ্যা। সেই সাথে বাড়ছে বিভিন্ন রোগ। আর তাইতো এগিয়ে এসেছে রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যাল। প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান প্রক্রিয়াজাত করে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠা করেছে পূর্ণাভা লিমিটেড। ইতোমধ্যে বেশ কিছু পণ্য পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করে বাজারে ছেড়েছে পূর্ণাভা। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাজারে এলো ‘চিনিগো প্রিমিয়াম’। আশা করছি ওজন বাড়ার ভয়ে কেউ মিষ্টি থেকে দূরে থাকবেন না। কারন সবার জন্যই ‘চিনিগো’।

এপোলো হসপিটালস এর প্রিন্সিপ্যাল ডায়েটিসিয়ান তামান্না চৌধুরী বলেন, ‘যারা চিনিকে বলছেন ‘না’ তারা আসলে বিকল্প হিসেবে কি খাচ্ছেন- সেটিও দেখা প্রয়োজন। সেই স্বাস্থ্যসচেতনরা আসলে জেনে না জেনে বেছে নিচ্ছেন ‘আর্টিফিশিয়াল সুইটনার’ বা কৃত্তিম মিষ্টকারককে। ওজন কমানো, সেই সাথে সুস্থ থাকার আপ্রাণ চেষ্টায় চা-কফি তো বটেই, খাদ্যতালিকা থেকে চিনিকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের দ্বারস্থ হচ্ছেন অনেকেই। তারা হয়তো ভাবছেন এটা ক্ষতির কারন হবে না, যতোটা না ক্ষতি চিনিতে! কিন্তু আসলেই কি তাই? উত্তর শুনে নিরাশ হতে পারেন কিন্তু! আসলে কথা হলো- কাজের কাজ না হয়ে বরং আপনার ওজনও বেশ খানিকটা বেড়ে যেতে পারে এই আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের কারণে!’

বারডেম এর প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ (মহুয়া) তার বক্তব্যে বলেন, যারা চিনি খেতে চান না তাদের জন্য সহজ সমাধান ‘চিনিগো’। কারন চিনি খেলে যেসব সমস্যা হয় তার কোনোটাই ‘চিনিগো’তে নেই। কারন এটি তৈরি করা হয়েছে স্টিভিয়া নামে একটি গাছের পাতা থেকে সংগৃহীত নির্যাস দিয়ে। কারন স্টিভিয়া সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান, কোনোভাবেই কৃত্রিম নয়। যারা ওজন বাড়ার ভয়ে চিনি ছেড়ে আর্টিফিশিয়াল সুইটনার নিচ্ছেন তারা হয়তো জানেন না এর প্রভাবে বাড়তে পারে ব্লাড প্রেশার, হতে পারে টাইপ টু ডায়াবেটিস।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুন নুর তুষার বলেন, ওবিসিটি বা মোটা হওয়া ঠেকাতে চিনি বাদ দিয়ে অনেকেই অ্যাসপার্টেম, সুক্রালোজ আর স্টেভিওসাইডের মতো কৃত্রিম মিষ্টবস্তুকে বেছে নিয়েছেন। এখানে সমস্যা হচ্ছে, চিনির চেয়ে এই কৃত্রিম বস্তুগুলির কেমিক্যাল গঠন আলাদা। জিভে উপস্থিত রিসেপ্টরকে এই উপাদানগুলি জাগিয়ে তোলে,ফলে মস্তিষ্কে মিষ্টি খাওয়ার সঙ্কেত পৌঁছায়। এই পদার্থগুলি শরীরের কোনও ক্ষতি করছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা হয়নি এতদিন। ব্যবহারকারীরা যে ধরনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে আসছেন, তাতে অন্তত এটা পরিষ্কার যে বিষয়টাকে আর হালকাভাবে না নিয়ে গভীরভাবে বিবেচনা করার সময় এসে গিয়েছে।

মাঝেমধ্যে খাবারে বা চা-কফিতে সামান্য চিনি খেলে তত ক্ষতি হয় না যতটা লম্বা সময় ধরে কৃত্রিম সুইটনার ব্যবহার করলে হতে পারে। তবে যারা দিনে অন্তত ৫-৭ কাপ চা-কফি পান করেন, তারা ধীরে ধীরে চিনির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করুন, প্রথমদিকে অসুবিধা হলেও পরে দেখবেন চিনিহীন চা-কফিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে চিনিকে যারা একদমই না বলতে চান তারা বেছে নিতে পারেন ‘চিনিগো’। কারন এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় এর কোনো ধরনের প্রভাব নেই।’

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

চিনিগো প্রিমিয়াম চিনি

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0204 seconds.