• বিদেশ ডেস্ক
  • ৩০ এপ্রিল ২০১৯ ২২:২৯:৪৭
  • ৩০ এপ্রিল ২০১৯ ২২:২৯:৪৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের এক ফোনেই ৫০ কোটি ডলার দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ

ছবি : সংগৃহীত

সৌদি বাদশাহ সালমানের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় করা অনেক সহজ বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এক ফোন কলেই বাদশাহ সালমান ৫০ কোটির বেশি ডলার দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

শনিবার ট্রাম্প উইসকনসিন রাজ্যের গ্রিন বে এলাকায় এক র‍্যালিতে তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটির অনুন্নত কোন এলাকার একজন ভাড়াটের কাছ থেকে ভাড়ার সামান্য অর্থ আদায় করার চেয়ে সৌদি বাদশাহর কাছ থেকে বেশি পরিমাণে নগদ অর্থ আদায় করা অনেক সহজ ব্যাপার।

ট্রাম্প জানান, তিনিই প্রথম কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি সৌদি বাদশাহর কাছে ন্যায্য বাণিজ্য চুক্তির দাবি জানিয়ে ফোন করেছিলেন। বাদশাহ সালমান এতে বিস্মিত হয়ে জানিয়েছিলেন এর আগে কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে এধরনের ফোন করেননি। ট্রাম্প রসিকতা করে তাকে বলেন, তারা নির্বোধ ছিলেন বলে তা করেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সৌদি আরব অনেক ধনী দেশ। আমরা তাদের রক্ষা করি। আমরা সৌদি আরবকে সহায়তা দিয়ে থাকি এবং তাদের নগদ অর্থ ছাড়া আর কিছুই নেই।’ তিনি দাবি করেন, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিবছর ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনে থাকে। যদিও এই পরিসংখ্যানের সূত্র স্পষ্ট নয়।

তিনি জানান, কিছু রাজনীতিবিদ চান যুক্তরাষ্ট্র যেন সৌদিদের সঙ্গে বাণিজ্য হ্রাস করে কিন্তু তিনি ধনী এই দেশটির ব্যবসা বাণিজ্য হারাতে রাজি নন।  তবে পাশাপাশি তিনি সৌদি আরবকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বেশি অর্থ না পেলে সৌদিদের প্রতি সহায়তা কমিয়ে দেয়া হবে।

মাত্র একটি ফোন কলের মাধ্যমে কিভাবে বাদশাহ সালমানের কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন সেই ঘটনাই সমর্থকদের কাছে বর্ণনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, একবার তিনি ফোন করে সৌদি বাদশা সালমানকে বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা তোমাদের জন্য ৪.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করছি।  আমরা আর তা অব্যাহত রাখতে পারবো না। এটা একধরনের পাগলামি।’     

ট্রাম্প জানান, তার এই কথায় বাদশাহ সালমান দুঃখিত এবং ক্রুদ্ধও হন। বাদশাহ বলেন, ‘এটা ঠিক হচ্ছে না।’ এরপর তিনি ৫০ কোটি ডলার দেয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট সৌদি বাদশাহর সঙ্গে দর কষাকষি করতে থাকেন। ফলে বাদশাহ সালমান তাকে ৫০ কোটি ডলারের বেশি দেয়ার জন্য রাজি হন। মাত্র একটি ফোন কলেই তিনি এতবড় একটি কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান তিনি। অবশ্য ট্রাম্পের এই কাহিনী নিয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। দেশটি মার্কিনী অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের মধ্যে অন্যতম। এছাড়া ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে গোয়েন্দা সহায়তাও দিয়ে থাকে তারা। সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের  জামাতা জারেড কুশনারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলা/এফকে

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0088 seconds.