• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ১৫:৫৩:০২
  • ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ১৫:৫৩:০২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ইবিতে ২২ শিক্ষার্থী আটক, মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনরত ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে অনশন থেকে তাদের আটক করা হয়। এদিকে আন্দোলন ঠেকাতে ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে ১০ বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

আটককৃতদের কুষ্টিয়া পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।

জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন চলছিল। মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে ডিন অফিসের কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা।

অনশনে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রশাসন এবং অনুষদের ডিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে দুপুর ২টায় অনুষদের ডিন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা।

এতে অফিসের ভেতরে আটকা পড়েন অফিস সহকারী আবদুল মমিন ও পিয়ন বাদল। রাত ৯টায় অবরুদ্ধ দুই কর্মচারীদেরকে উদ্ধার করতে আসেন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মমতাজুল ইসলাম ও ছাত্র-উপদেষ্টা ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ।

তারা ভবনের ভেতরে ঢুকলে তাদেরকেও অবরুদ্ধ করে আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

পরে ডিন ও ছাত্র উপদেষ্টাকে উদ্ধার করতে রাত ১টার দিকে সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আনিছুর রহমান ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর আহসান-উল হক আম্বিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা রাত ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হন।

এর আগে রাত সাড়ে ১১টা থেকে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরে সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত ডিএসবি মোস্তাক, ডিএসবি মোস্তাফিজুর রহমান, মিরপুর জোনের এএসপি ফারজানা ইসলাম এবং ইবি থানার ওসি রতন শেখের নেতৃত্বে কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। ভেতরে ঢুকে ডিন, ছাত্র উপদেষ্টা ও দুই কর্মচারীকে উদ্ধার করেন।

এসময় শিক্ষার্থীরা করিডোরে অবস্থান নিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করে স্লোগান দিতে থাকে।

একপর্যায়ে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাছাই করে আরিফুল ইসলাম, তারিক, রাজ, মাহাদী, রিয়াদ, অভি, দেলাওয়ার, হাফিজ, সাব্বিরসহ ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করে। অন্যদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আটককৃতদের কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা আর বর্ধিত ফি কমানোর দাবিতে ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকাতে ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ সকল প্রকার সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের হতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ-র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে বাধা উপেক্ষা করে ডিগ্রির দাবিতে সকাল ১০টার দিকে মিছিলসহ প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রশাসন ভবন অবরুদ্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনের সামনে আমরণ গণ-অনশনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত পাঁচ বিভাগের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারা।

ইবি থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ‘২২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদরকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, “এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ দুই জেলার প্রশাসন এবং গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।”

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0184 seconds.