• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ২২:২৬:১৮
  • ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ২২:৩৬:২৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলে ঐতিহাসিক মসজিদ হয়ে গেলো নাইটক্লাব

ছবি : সংগৃহীত

কয়েকশ বছরের পুরনো ফিলিস্তিনি একটি মসজিদকে ইসরায়েলে সম্প্রতি নাইটক্লাবে পরিণত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক আল কুদস আল আরাবি পত্রিকা। ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলে সাফাদ জেলায় এই ঘটনা ঘটে।

সাফাদ জেলার ঐতিহাসিক আল আহমার মসজিদকে সম্প্রতি মদের বার এবং বিয়ের হলে রূপান্তরিত করেছে ইসরায়েলি একটি কোম্পানি। স্থানীয় পৌরসভার সঙ্গে যুক্ত ওই কোম্পানি ত্রয়োদশ শতকে নির্মিত মসজিদটির ঐতিহাসিক দিককে উপেক্ষা করে এধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে।

প্যালেস্টাইন ইসলামিক এন্ডোমেন্ট এজেন্সির সচিব খাইর তাবারি এই ব্যাপারে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আল কুদস আল আরাবিকে বলেন, ‘মসজিদের ভিতরে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা দেখে আমি হতভম্ব হয়ে পড়েছি।’

এদিকে বছর খানেক আগে এই মসজিদটি যেন প্যালেস্টাইন ইসলামিক এন্ডোমেন্ট এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয় সে ব্যাপারে আর্জি জানিয়ে একটি মামলা করেছিলেন তাবারি। তবে আদালত এখনো এই মামলার রায় দেননি।

তাবারি জানান, মামলার সময় তিনি মসজিদের মালিকানার দলিলসহ বিভিন্ন নথিপত্রও আদালতে জমা দিয়েছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে মসজিদস্থলের নাম পরিবর্তন করে খান আল আহমার রেখেছে যেন কেউ এটিকে ঐতিহাসিক আল আহমার মসজিদ বলে চিহ্নিত করতে না পারে।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের এই এলাকাটি ইসরায়েলিদের দখলে চলে আসার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করেছে। প্রথমে এটিকে ইহুদী সেমিনারিতে (শিক্ষালয়) পরিণত করা হয়।  ২০০৬ সালে মসাজিদটিকে ইসরায়েলি কাদিমা পার্টির নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর আগে এটি জামাকাপড় রাখার গুদামঘর হিসেবেও ব্যবহার করা হতো।

এদিকে সাফাদ এলাকার স্থানীয় একজন ঐতিহাসিক মোস্তফা আব্বাস বলেন, ‘লাল পাথর দিয়ে তৈরি হয়েছিল বলে এটিকে আল আহমার বা লাল মসজিদ নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে এটিকে মুসলমানদের নামাজ পড়ার কাজ ছাড়া অন্য সব কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, যদি কোন মুসলমান ওই মসজিদে যায় তাহলে ইহুদী দখলদাররা তাদের উপর হামলা করে।  স্থাপত্য এবং ঐতিহাসিক উভয় দিক বিবেচনায় আল আহমার মসজিদকে বিরল একটি স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ,ফিলিস্তিনের বিভিন্ন ইসলামিক স্থাপত্য দখল করে এগুলোর ঐতিহ্য মুছে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে ইসরায়েল। মূলত ফিলিস্তিনিদের পরিচয় মুছে দেয়ার উদ্দেশ্যেই ঘৃণ্য এই কাজ করছে তারা।  এক্ষেত্রে জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদের কথাই বলা যেতে পারে।  মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই মসজিদেও মুসল্লিরা যাতে নামাজ পড়তে না পারে সেজন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ফিলিস্তিনের ধর্মমন্ত্রী ইউসুফ আদাইস জানান, ইহুদীরা ফিলিস্তিনের গ্রাম এবং শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানকে জোর করে ভিন্ন সব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করছে। তারা এসব স্থাপনাকে নাইটক্লাবে পরিণত করছে কিংবা ভেঙ্গে ফেলছে না হলে ইহুদীদের উপাসনালয় সিনাগগে পরিণত করছে। তারা স্থানীয় মুসলিম এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষজনকে ওইসব এলাকা থেকে জোর করে উচ্ছেদ করছে।

উল্লেখ্য,আল আহমার মসজিদটি মামলুক সুলতান আল দাহের বাইবারস তৈরি করেন। মসজিদের প্রবেশপথে থাকা একটি পাথরে উল্লেখ করা আছে, এটি ১২৭৬ সালে নির্মিত হয়েছে।

বাংলা/এফকে

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0203 seconds.