• ১৬ এপ্রিল ২০১৯ ২১:০০:২২
  • ১৬ এপ্রিল ২০১৯ ২১:৪৭:২৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এবার ভিসি’র পদত্যাগ চায় ববি’র শিক্ষকরাও

ছবি : সংগৃহীত


জহির রায়হান, বরিশাল প্রতিনিধিঃ


শিক্ষার্থীদের 'রাজাকারের বাচ্চা' বলাটাই কাল হয়ে দাঁড়ালো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে।

গেল ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ববি'র শিক্ষার্থীদের কে এদিকে অবমূল্যায়ন আরেক দিকে রাজকারের বাচ্চা বলে গালমন্দ করায় উপাচার্য ডক্টর এস এম ইমামুল হক নিজের ভুলেই শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে পড়েন। 

উপাচার্য শিক্ষার্থীদের চলমান এ আন্দোলন কে শান্ত না করে আরো উত্তপ্ত পরিবেশ সৃস্টির জন্য উপাচার্য তার নিজ ক্ষমতার বলে ২৮ মার্চ ২০১৯ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কে  বন্ধ ঘোষণা করতে বলেন। সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের  হল ছাড়াও নির্দেশ দেওয়া হয়।

উপাচার্যের পক্ষ থেকে এসব সিদ্ধান্ত ঘোষণা  করেও ক্ষ্যান্ত হয়নি ববি'র কর্তৃপক্ষ । এই আন্দোলন কে আরো বেগবান ও গতিশীল করতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ৫ দিনের মাথায় ডাইনিং বন্ধ করে দেয় ববি'র কর্তৃপক্ষ। ( ববি'র  রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান স্বাক্ষরিত লিখিত একাধিক নোটিশে এসব ঘোষণা করা হয়)এ যেন আগুন লাগা ঘরের ভিতরে পানি না দিয়ে পেট্রোল দিয়ে আগুন নেভানোর চেস্টা। 

বরি'র কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে শিক্ষার্থীরা  আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের আন্দোলন গড়ালো ২১ তম দিনে। 

ওই উপাচার্য এমন আচরণ শুধু শিক্ষার্থীদের সাথেই করেনি। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অধিকার খর্ব, পদোন্নিততে বাদাসহ তাদের  সাথে রুক্ষ আচরণও করেছেন। শিক্ষকরা সরাসরি এসব আচরণের প্রতিবাদ না করতে পারায়  গিলে ফেলে তা হজম করেছেন। প্রতিবাদ করার যে সু সময় আসবে তা নিয়েও সন্ধিহান ছিল অধিকার বঞ্চিত শিক্ষকরা।

তবে উপাচার্যের একমাত্র পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মাঝে সেই শিক্ষকরাও প্রতিবাদের ভাষা খুজেঁ পেয়েছে। ববি'র শিক্ষকরা মনে করছেন এখনি তাদের উপাচার্যের সাথে পুরানো দিনের হিসেব-নিকেশ আদায়ের উপযুক্ত সময়। শিক্ষক নিয়োগ, কর্মরত শিক্ষকদের পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও ৫৮ তম সিন্ডিকেট সভার গৃহীত সিদ্ধান্ত বাতিলসহ  ৮ দফা দাবিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন ববি'র শিক্ষক সমিতি শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া "বাংলা" কে জানিয়েছেন, শিক্ষকরা ৫৮তম সিন্ডিকেট সভার ৯৫২ নম্বর আলোচ্যসূচির আলোকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ৮ দফা দাবিতে  এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি আরো বলেন, নিয়মানুযায়ী প্রভাষকরা চাকুরীর পর ৩ বছর অপেক্ষাকাল শেষ করে চাকুরী স্থায়ীকরণের মাধ্যমে পদ পুনবিন্যাসের জন্য পদোন্নতির আবেদন করতে পারতেন ।

কিন্তু সিন্ডিকেটের ওই আলোচ্যসূচি কার্যকর হওয়ায় ফলে ত্রিশোর্ধ্ব শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে গেছে। যারা প্রভাষক থেকে ৩ বছর পর সহকারী অধ্যাপক পদোন্নতি পাওয়ার কথা। যার ফলে প্রভাষকদের পদোন্নতি পেতে সাড়ে ৫ বছর থেকে ৬ বছর লাগবে। তাই ৫৮তম সিন্ডিকেট সভার ৯৫২নম্বর আলোচ্যসূচির এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনসহ ৮ দফা দাবীতে শিক্ষক সমিতি টানা তৃতীয় দিনের মতো ২ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। এই শিক্ষক নেতা হুশিয়ারী দিয়ে আরো জানান, আগামী এক-দুইদিনের মধ্যে আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায় না হলে শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন অব্যহত থাকতে পারে।

এর আগে গত বুধ এবং বৃহস্পতিবার দুইদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এতে সীমাহীন জনদুর্ভোগের সৃস্টি হয় ওই যাতায়াতরত পথচারীদের ।  শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য গত ২৯ মার্চ তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।  পরে ছুটির আবেদন করেন উপাচার্য । 

এছাড়াও গত ৬ এপ্রিল বিভাগীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বরিশাল সার্কিট হাউজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রতিনিধি ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে 

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক 

আব্দুল্লাহ, বিভাগীয় কমিশানার রাম চন্দ্র দাস, বিএমপি'র সদ্য বিদায়ী পুলিশ কমিশনার মোঃ মোশাররফ হোসেন ও জেলা প্রশাসক এস এস অজিয়র রহমানের উপস্থিতিতে এক সমঝোতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ঐদিন বিকেলেই আবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে। তখন তারা বলেন, লিখিত ভাবে তাদের কাছে উপাচার্যের পদত্যাগ বিষয়টির নির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত  তাদের আন্দোলন অব্যহত রাখা হবে। এদিকে ওই সভার গ্রহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৭ এপ্রিল ববি'র শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস খুলে দেয়া হয়।
কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের কোন ক্লাশ বা কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। আন্দোলনরত একাধিক  শিক্ষার্থীরা বাংলা কে জানিয়েছেন ,ভিসি ছুটি,সমঝোতার সভা, ক্যাম্পাস খুলে দেয়াসহ সব ধরনের আয়োজন শুধু আমাদের মগজ ধোলাই দেয়ার জন্য । তারা আরো জানান,এত সব কিছু বুঝিনা, দাবি তাদের একটাই, যতক্ষণ পর্যন্ত ববি'র উপাচার্যের পদত্যাগ পত্র চূড়ান্ত ভাবে ঘোষণা হওয়ার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের  আন্দোলন চালিয়ে যাবে। 

এর আগে শিক্ষার্থীরা, উপাচার্যের কুুশপুত্তিলিকা দাহ, প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মশাল মিছিল, রক্ত দিয়ে দেয়াল লিখন, প্রতীকী অনশন, কালো কাপড় মুখে বেঁধে বিক্ষোভ সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখে বরিশাল - কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন। 

তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  আন্দোলনের শুরু থেকেই বলে আসছেন, যে, এই আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষার্থীদের নয়। একটি কুচক্রী মহল আন্দোলন কে অন্য খাতে প্রবাহিত করতে চায়। তারা চায় ববি' কে অচলাবস্থা করে সুস্থ পরিবেশে পাঠদান যাতে না হয়। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

শিক্ষকরা ভিসি

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0208 seconds.