• ১৫ এপ্রিল ২০১৯ ১৫:২১:২০
  • ১৫ এপ্রিল ২০১৯ ১৫:৪০:০৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘উপস্থাপনাকে পেশা হিসেবে নিতে অসুবিধা নেই’

ছবি : সংগৃহীত

তরুণ প্রজন্মের কাছে পছন্দের উপস্থাপিকা কামরুন নাহার অভি। বর্তমানে একজন ফ্যাশন সচেতন উপস্থাপিকা হিসেবেও তার রয়েছে বেশ সুনাম। মায়ের ইচ্ছেতে ২০০৭ সালে একুশে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান, একুশে সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা-এর মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পথচলা শুরু তার।

এরপর ২০০৮ সালে বাংলাভিশনে 'শ্যামল বাংলা' নামের একটি অনুষ্ঠান ও সংবাদ পাঠিকা হিসেবে নিয়মিত কাজ শুরু করেছিলেন। একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এবং নিজের কর্মের মাধ্যমে স্বদেশকে বিশ্বের দরবারে মেলে ধরবার তার ইচ্ছা। স্বাধীন কোনো পেশায় কাজ করার স্বপ্ন থাকলেও তাতে দাঁড়ি পড়েছে। সময়ে ‘ইউটিলাইজ’ আর মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে যোগ দিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনে। স্বপ্ন দেখছেন ভিন্ন কিছু করার। হাঁটি হাঁটি পা পা করে শোবিজে শক্ত অবস্থান তৈরিতে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পড়াশোনা কারণে মাঝে প্রায় ৬ বছর বিরতির পর আবারও নিয়মিত হয়েছেন শোবিজ অঙ্গনে। সম্প্রতি বাংলা'র মুখোমুখি হন বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত এ উপস্থাপিকা। ক্যারিয়ার ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিঠুন আল মামুন

কেমন আছেন?

জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ।

মিডিয়া আসার পথে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন কেউ?

আম্মুর খুব সখ ছিলো আমি মিডিয়াতে কাজ করি। কারণ আম্মু একটা সময় এটিএন বাংলায় উপস্থাপনা করতেন। আলটিমেটলিন গান করতে ভালো লাগতো। পরিবারের অন্য সদস্যরা বলতো-আমি সবকিছুতেই পারদর্শী, আমি পারবো। বিশেষ করে আমার বাবাও অনেক সাপোর্ট করেছে কাজের জন্য।

উপস্থাপনার কোন পার্টকে আপনার কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হয়?

উপাস্থপনার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং পার্ট আমার কাছে মনে হয়, শো-গুলোর বৈচিত্র্যতা। এক শো থেকে আরেকটি আলাদা। আর বলতেই হয় যে প্রতিটি শো এর জন্যই নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করতে হয়। নতুন কাজের জন্য নতুনভাবে নিজেকে সাজানোটাই আমার কাছে চ্যালেঞ্জিং। আরেকটা বিষয় হলো এখানে কিন্তু আমার দর্শকের সঙ্গে সবক্ষেত্রেই সরাসরি কমিউনিকেশন হয়। তাই এটাকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। 

উপাস্থপনার কোন দিকটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি টানে?

আমি বলব দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আর একটা লাইভ ফিডব্যাকের ব্যাপারটাই আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার মনে হয়। এটা একটা সম্পূর্ণ অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

উপাস্থপনায় আসতে কি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দরকার আছে,  আপনি কি মনে করেন?

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যে কোন কিছুর জন্যই সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তবে দিনশেষে আপনার নিজেকে নিজেই তৈরি করতে হবে, আর সেই সঙ্গে থাকতে হবে প্রচুর ধৈর্য এবং বিশেষ করে যদি উপস্থাপনার ক্ষেত্রে বলতে যায় তাহলে আমি বলবো প্রচুর পড়ুন। যে বিষয়ের উপর উপস্থাপনা করতে চান সেই বিষয় উপর যে অনুষ্ঠান গুলো আছে দেশ এবং দেশের বাহিরে সেগুলোও দেখতে পারেন।

নতুনদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?

সবাইকে একটা কথাই বলতে চাই, অভিনয় হোক আর উপস্থাপনা হোক কিংবা মডেলিং সবকিছুতেই আপনার প্রচুর ধৈর্য থাকতে হবে। অনেক ধৈর্য না থাকলে আপনি টিকে থাকতে পারবেন না কিংবা নিজেকে অন্য স্তরে নিয়েও যেতে পারবেন না। সফলতার মূলমন্ত্র হলো এটি।

উপস্থাপনা থেকে অনেকেই অভিনয় করছেন, এমন কোন পরিকল্পনা আছে কিনা?

হ্যাঁ, অনেকেই এখন অন্য পেশার পাশাপাশি উপস্থাপনা করছেন। তবে উপস্থাপিকা হিসেবে কামরুন নাহার অভি নামটা শুনতে আমার বেশি ভালো লাগে।আমি চাই শুধু উপস্থাপিকা হিসেবে দর্শক আমাকে চিনুক। যদি আমার ব্যাটে-বলে মিলে যায়, খুব ভালো একটা গল্প বা আমার সঙ্গে যেটা যাবে এমন টাইপের গল্প পেলে অবশ্যই আমি অভিনয় করবো। কারণ আমার মতো একজন উপস্থাপিকার-উপস্থাপনা থেকে অভিনয় টাই বেশি করতে হয়। বিশেষ করে যখন আমার মন ভালো না, আমার পরিবার কেও অসুস্থ বা আমার নিজের শরীরটা খারাপ তার ১ঘন্টা পরে আমার একটা লাইভ প্রোগ্রাম, সেখানে গিয়ে কিন্তু আমি দর্শকদের বলতে পারিনা যে আমার মন ভালো নেই বা ‘আমি অসুস্থ’ আপনারা কিছু মনে করবেন না! হাজারো বাঁধা থাকলেও অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় হাসি মুখেই কিন্তু সেটা শেষ করতে হয়। আমার জীবনে এটাও একটা অভিনয়। তাই আমি মনে করি একজন উপস্থাপিকার অভিনয় করার গুণ অবশ্যই থাকা দরকার। তা না হলে সে ভালভাবে উপস্থাপনাই করতে পারবে না।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

বর্তমান ব্যস্ততা বলতে আরটিভিতে 'মিউজিক স্টেশন' নামে একটা প্রোগ্রামের উপস্থাপনা করছি। আরটিভিতে নিউজ পড়ছি। পাশাপাশি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক আইটি সেক্টরে আছি।

দেশে উপস্থাপনাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার মতো সময় হয়েছে কিনা?

দেশে এখন উপস্থাপনায় অনেক ছেলেমেয়েকে দেখা যায়। এ থেকে তারা ভালো আয়ও করছেন। উপস্থাপনাকে পেশা হিসেবে নিতে আমি কোনো অসুবিধা দেখি না। আমি নিজেও আমার ক্যারিয়ারে উপস্থাপনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

আগামীতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

বাংলাদেশের একটা ব্র্যান্ড হয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করতে চাই।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0201 seconds.