• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৫ এপ্রিল ২০১৯ ১৫:০৫:০৪
  • ১৫ এপ্রিল ২০১৯ ১৫:০৫:০৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নুর উদ্দিন-শাহাদাতের জবানবন্দী

রাফি হত্যায় জড়িত আ.লীগ সভাপতিসহ অন্তত ২৫

ছবি : সংগৃহীত

ফেনীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরো অন্তত ১২ জন জড়িত। রবিবার মামলার অন্যতম দুই সন্দেহভাজন আসামি নুর উদ্দিন এবং শাহাদত হোসেন শামীম আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে তাদের নাম উল্লেখ করেছে।

এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের নামও রয়েছে। বাকিদের  বেশিরভাগই ওই মাদ্রাসার আলিম ও ফাজিল শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনায় জড়িত ছিলেন মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকও। এর ফলে অন্তত ২৫ জন এই মামলায় আসামি হতে যাচ্ছেন।

রবিবার দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ধরে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালদের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন। তাদের দু’জনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এজাহারভুক্ত আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

এর আগে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে এজাহারভূক্ত আসামিসহ মোট ১৩ জন হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত বলে জানান পুলিশের এই ইউনিটের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। পিবিআই-এর ফেনীর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান রাতে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত অনেক তথ্য দিয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে তারা কিভাবে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে কী করে তা বিস্তারিত বলেছে।

পিবিআই-এর এই কর্মকর্তা বলেন, নুর উদ্দিন ও শাহাদাত আরও কিছু নাম বলেছে। আমরা তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করছি না। এসব তথ্য যাচাই বাছাই করে বাকিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, যৌন হয়রানির মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ গ্রেপ্তার ওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের সহায়তায় নুর উদ্দিন ও শাহাদাত মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করে। এজন্য আরেক এজাহারভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর তাদের ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিল। এছাড়া মাদ্রাসার আরেক শিক্ষকও আন্দোলন ও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য ৫ হাজার টাকা দেন।

সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া শাহাদাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সে দৌঁড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যায়। এর মিনিট খানেকের মধ্যে নিরাপদ স্থানে গিয়ে সে রুহুল আমিনকে ফোনে আগুন দেয়ার বিষয়টি জানায়। সে সময় রুহুল আমিন বলে, আমি জানি। তোমরা চলে যাও।

শাহাদাত বলেছে, রাফির দায়ের করা মামলার পর রুহুল আমিন থানা ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছিল। এজন্য সে অধ্যক্ষ সিরাজের পরিবারের কাছ থেকে টাকাও নেয়। 

রাফির প্রতি নিজেরও ক্ষোভ থাকার কথা উল্লেখ করে শাহাদাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলেছে, দেড় মাস আগেও সে রাফিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু রাফি তাকে প্রত্যাখান করার পাশাপাশি অপমানও করে। এ কারণে সে নিজেও রাফির প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিল। যার ফলে অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

আরেক আসামি নুর উদ্দিন জানিয়েছে, তার সঙ্গে অধ্যক্ষ সিরাজের ভালো সম্পর্ক ছিল। এ কারণে তার নির্দেশে তারা পরিকল্পনা করে রাফিকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ঘটনার সময় সে ভবনের নিচে ছিল। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষ সিরাজের ভাগনি পপি গিয়ে রাফিকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। মূলত এই পপিই হলো রাফির জবানবন্দিতে বলে উল্লিখিত আলোচিত শম্পা। পুলিশ ও রাফির পরিবারকে বিভ্রান্ত করতে শম্পা নামে কল্পিত চরিত্রের গল্প ফাঁদে নুর উদ্দিন। 

নুর উদ্দিন জানিয়েছে, অধ্যক্ষ সিরাজ নানা সময়ে ছাত্রীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের যৌন হয়রানি করতো।

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত আক্তার রাফিকে যৌন হয়রানি করেছিল ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুদৌলা। এ ঘটনায় নুসরাত থানায় অভিযোগ করলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে রাফির যৌন হয়রানির মামলা তুলে না নেয়ায় তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গত ৬ই এপ্রিল পরীক্ষার আগ মুহূর্তে মিথ্যা কথা বলে রাফিকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় জীবনের সঙ্গে লড়াই করে হেরে যান তিনি। গত ১০ই এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0186 seconds.