• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৫ এপ্রিল ২০১৯ ১০:৪৭:৩১
  • ১৫ এপ্রিল ২০১৯ ১০:৪৭:৩১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

প্রজাপতিরাই পারে ট্রাম্পের দেয়াল ঠেকাতে

ছবি : বিবিসি থেকে

ফারহানা করিম :

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এই প্রতিশ্রুতি পূরণে অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার এই প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ।

তবে ডেমোক্র্যাটরা ছাড়াও স্থানীয় জমির মালিকরাও তার প্রস্তাবিত দেয়ালের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি প্রজাপতির অভয়ারণ্যও ট্রাম্পের দেয়াল নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা একযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়ালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। 

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত দেয়াল নির্মিত হবে টেক্সাস সীমান্তে। টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলের কাছেই ১১০ একরজুড়ে রয়েছে প্রজাপতিদের অভয়ারণ্য ন্যাশনাল বাটারফ্লাই সেন্টার। মারিয়ানা ট্রেভিনো রাইট এই সেন্টারের পরিচালক। নীচু জলাভূমির বিশাল এই এলাকাটি ছোট ছোট ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ। ফলে বিভিন্ন ধরনের এবং আকারের পরিযায়ী প্রজাতির জন্য এটি বৈচিত্র্যপূর্ণ এক বাস্তুসংস্থান। মেক্সিকোতে শীত পড়তে শুরু করলেই বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী উষ্ণতার আশায় দক্ষিণ টেক্সাসে চলে আসে।

এই অভয়ারণ্যের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে রিও গ্রান্দে নদীটি। এটি মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের মধ্যে বয়ে চলা একটি নদী। জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভিবাসীদের ঠেকানোর কথা বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এরকম একটি নৈসর্গিক পরিবেশের মধ্যে তার কংক্রিটের দেয়াল বানাতে চাচ্ছেন।

এছাড়া ভৌগলিকভাবে এই এলাকাটি সেন্ট্রাল আমেরিকার কাছে অবস্থিত। ফলে সেন্ট্রাল আমেরিকার দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার মানুষজন অভাব অনটন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই এলাকা দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং তাদের অভিবাসী হিসেবে আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকারের কাছে প্রার্থনা করে।

মারিয়ানা জানান, এলাকাটি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সরকারও তাই চাচ্ছে। যাতে তার মনোবাসনা পূর্ণ করা যায়।  ন্যাশনাল বাটারফ্লাই সেন্টারে একটি বেঞ্চে বসে তিনি সেখানে অবস্থান করা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের নাম বলতে থাকেন।  এদের মধ্যে রয়েছে হরেক রকমের বৈচিত্র্যময় পাখি এবং নানা রঙের প্রজাপতি। বাটারফ্লাই সেন্টারে থাকা হরেক রকম পাখির কিচির মিচিরের মধ্যেই শুনা যায় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমান্টের হেলিকপ্টারের গুঞ্জন। সীমান্তরক্ষীদের মোটর সাইকেলের শব্দ, নদীতে থাকা সরকারি পাওয়ারবোটের পাটাতনে ৩০ ক্যালিবারের মেশিনগানের আওয়াজ। এসব দেখেশুনে মারিয়ানা আবারো আক্ষেপ করে বলেন, পরিবেশের জন্য সংরক্ষিত এই এলাকাটি যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে গেছে।

বাটারফ্লাই সেন্টারের এলাকা ঘেঁষে যেন ট্রাম্পের দেয়াল নির্মিত না হয় সেজন্য মারিয়ানা মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। ফলে পরিবেশবাদী এবং অভিবাসন অ্যাকটিভিস্টদের কাছে তিনি নায়কের মর্যাদা পাচ্ছেন। অপরদিকে ট্রাম্পের ভক্তদের কাছে তিনি যথারীতি খলনায়িকায় পরিণত হয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য বাটারফ্লাই সেন্টার কর্তৃপক্ষ যেন কোমর বেঁধে নেমেছে। তাদের মামলার খরচ যোগানোর জন্য সেন্টারের গিফট শপে প্রজাপতির ছবির নীচে ‘ব্যাটেল ফর দ্য বর্ডারল্যান্ড’ বা ‘সীমান্তের জন্য যুদ্ধ’ লেখা টিশার্ট বিক্রি করা হচ্ছে। এপর্যন্ত ১ লাখ ডলার সংগ্রহ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ব্যাপারে মারিয়ানা বলেন, ‘জাতীয় পরিবেশ নীতিমালা লংঘন, বিপন্ন প্রজাতিদের রক্ষা আইন এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলের অভিযোগে আমরা মামলা করেছি। এছাড়া সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন নিয়ম লংঘনের অভিযোগও করা হয়েছে।’

সীমান্তে দেয়াল দেয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই মনে করেন মারিয়ানা। তিনি জানান, বাটারফ্লাই সেন্টারে তিনি ছয় বছর ধরে আছেন কিন্তু এই সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের মাত্র তিনটি ছোট গ্রুপ এই সীমান্ত অতিক্রম করেছে। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প তা মানতে নারাজ। তার বিশ্বাস মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অসংখ্য অপরাধী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য মুখিয়ে আছে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে মার্কিন সরকার দেয়াল দিতে পারে না। ফলে টেক্সাসের ভূমির মালিকদের অনুমতি ছাড়া তাদের জমির মধ্য দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করা অসাধ্য। এছাড়া পরিবেশবাদীরাও ট্রাম্পের দেয়াল নির্মাণে বাধা দেয়ার জন্য একত্রিত হয়েছেন। এতসব বাধা পেরিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিভাবে তার প্রস্তাবিত দেয়াল বানাতে পারেন তাই এখন দেখার অপেক্ষা।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0179 seconds.