• ১১ এপ্রিল ২০১৯ ২২:৪৩:৩৪
  • ১১ এপ্রিল ২০১৯ ২২:৪৩:৩৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করেছেন ট্রাম্প-পুতিন

ফাইল ছবি

ফারহানা করিম :

ঘুষ গ্রহণ এবং দুর্নীতির মামলার হুমকি থাকা সত্ত্বেও পঞ্চমবারের মত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তার বিরুদ্ধে এতসব অভিযোগ থাকার পরও সরকার গঠনের জন্য তিনি পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। মূলত ক্ষমতাধর দুটি রাষ্ট্রের কর্ণধার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অব্যাহত সমর্থনই তাকে ক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে রেকর্ড পঞ্চমবারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু। এবারের নির্বাচনে কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন তিনি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান বেনি গানজ।  এবারের নির্বাচনে উভয় প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। যদিও তাদের কেউই একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট আসন পাননি।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং বেনি গানজের ব্লু  অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি উভয়েই ৩৫টি আসন পেয়েছে। তবে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর খবর অনুযায়ী, জোট সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন সংগ্রহ করতে পেরেছেন নেতানিয়াহু।

অবশ্য যে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এতসব হিসাব নিকাশ করা হচ্ছে তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেয়া হয়নি। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করবে দেশটির নির্বাচন কমিশন। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার ডানপন্থী মিত্র জোট ৬৫ আসন ধরে রাখতে পারবে।  অপরদিকে বিরোধীদলের আসন সংখ্যা হবে ৫৫। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নেতানিয়াহুর জোটই নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। দেশটির পুলিশ এসব অভিযোগ নিয়ে তদন্তও করেছিল। অবশেষে গত মার্চে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির আনুষ্ঠানিক আভিযোগ আনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল। কিন্তু এসব গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও তিনি ভোটারদের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন।

এবারের ভোটে নেতানিয়াহু বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পক্ষেই আছেন। অবশ্য নেতানিয়াহু যেন ফের নির্বাচিত হন সেজন্য ট্রাম্পও চেষ্টার কম করেননি। তিনি নির্বাচনের আগেই ইসরায়েলের দখলে থাকা সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিয়ে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রতিক্রিয়ার প্রতিও তিনি কোন ভ্রুক্ষেপ করেননি।  অবশ্য জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের কথাও বলা যেতে পারে। ইসরায়েলের ইচ্ছা পূরণের জন্যই আন্তর্জাতিক সব সমালোচনা উপেক্ষা করেই ট্রাম্প এই কাজ করেছিলেন।

এছাড়া ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারের পিতার বন্ধুও নেতানিয়াহু। ফলে পারিবারিকভাবেই ট্রাম্পের সঙ্গে এক ধরনের ঘনিষ্ঠতা ছিল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে নির্বাচিত হতে সাহায্য করবেন। এই ব্যাপারে বিস্ময়ের কিছুই নেই।

নির্বাচনের সময় বিদেশি ইস্যুর প্রতিই ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন নেতানিয়াহু। এক্ষেত্রে ইরান কার্ড তার জন্য শাপেবর হয়ে এসেছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রতি ইরান কর্তৃক কথিত হুমকির অভিযোগ।  ইসরায়েল ইরানকে সব সময়ই নিজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করে। নেতানিয়াহু দেশটির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

এছাড়া প্যালেস্টাইনের সঙ্গে সংঘর্ষের বিষয়টিতো ইসরায়েলের রাজনীতিতে আগে থেকেই ছিল। এক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষেই তাদের সব সমর্থন দিয়ে গেছে। বিশেষ করে মার্কিন সরকারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের দখলদার হিসেবে অভিহিত করা হয়নি। এক্ষেত্রে ভোটারদের মন জয় করার জন্য নেতানিয়াহু খুবই চতুরতার সঙ্গে ইরান এবং প্যালেস্টাইন উভয় কার্ডের ব্যবহার করেছেন। ফলে এটা সুস্পষ্ট যে তিনি ভোটারদের উপলব্ধি করাতে পেরেছেন, তাকে ক্ষমতায় রাখলেই কেবল ট্রাম্পের সুনজরে থাকবে ইসরায়েল।

অপরদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখতে সহায়তা করেছেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পুতিন এবং নেতানিয়াহু একে অপরের সঙ্গে ১১ বার সাক্ষাত করেছেন। যদিও সিরিয়ার ব্যাপারে ইসরায়েলের সঙ্গে রাশিয়ার মনোমালিন্যের বিভিন্ন খবর আমরা পেয়েছি। বিশেষ করে দুই মাস আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিমান হামলা করে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লংঘনের অভিযোগ এনেছিল রাশিয়া। অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইরানকে সাহায্যের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব বাড়ানোর অভিযোগ করেছিল ইসরায়েল।

এসব অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে পুতিন সবসময়ই উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ইসরায়েলের নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে পুতিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ১৯৮২ সালে নিখোঁজ হওয়া ইসরায়েলের একজন সেনার মরদেহ কোন স্থানে আছে তা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে রুশ সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি জনগণের কাছে এটির প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে যা নেতানিয়াহুর পক্ষে গেছে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। এভাবেই বর্তমান বিশ্বর প্রভাবশালী দুই নেতার আনুকূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0201 seconds.