• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১১ এপ্রিল ২০১৯ ১৮:২৫:৪৩
  • ১১ এপ্রিল ২০১৯ ১৮:২৫:৪৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ঢুকতে পারবে সরকার

প্রতীকী ছবি

সরকারের বা জাতীয় স্বার্থে যে কোনো ব্যক্তি ও সংস্থার কম্পিউটারে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করার অনুমতি পাচ্ছে পুলিশ। এজন্যএক্ষেত্রে আগাম নোটিস দিতে পারে বা বিনা নোটিসেও কম্পিউটারে ঢুকে পারবে। আর এতে কোনো বাধা দেয়া হলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।

সম্প্রতি এমন বিধান রেখেই দেশে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

আগামী সোমবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এর খসড়া তুলে ধরা হবে। এরপর উপস্থিত সকলের মতামতের উপর ভিত্তি করে বিধিমালা চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

এই বিধিমালাটি কার্যকর করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন হবে বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে অনেক বিধিমালার কথা বলা আছে। প্রয়োজনে সেসব বিধিমালাও করা হবে। আমরা আপাতত ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি বিধিমালাটির খসড়া করেছি। সেই খসড়াটির উপর আগামী সোমবার প্রথম আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে।’

এর আগে ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীদের আপত্তির মুখে গত বছর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে সরকার।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বিষয়গুলোকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৩২ ধারাসহ আরো কয়েকটি ধারায় বিন্যাস করা হয়। ফলে ৫৭ ধারায় যা ছিল, তা এখন নতুন আইনটিতে বিভিন্ন ধারায় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যা নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীর মতো গণমাধ্যমকর্মীরাও তাদের প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকরা মানববন্ধন করেন।  

এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনেই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিধিমালার খসড়াটি তৈরী করা হয়েছে। এ বিধিমালা ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি বিধিমালা নামে পরিচিত হবে।

খসড়া এ বিধিমালায় বলা হয়, এজেন্সির কার্যাবলি সম্পাদনে মহাপরিচালক অথবা তার মনোনীত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে প্রবেশ এবং তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তিনি নোটিস দিয়েও যে কোনো তথ্য পরিকাঠামোতে প্রবেশ করতে পারবেন। কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এ কর্মকর্তাকে তথ্য পরিকাঠামোতে প্রবেশে বাধা দিতে পারবেন না। বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়াও এজেন্সির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে খসড়া বিধিমালায়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব পদাধিকার বলে কমিটির চেয়ারম্যান হবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, পুলিশ, র‌্যাব, এসবি, সিআইডি, পিবিআই, ডিজিএফআই, এনএসআই‘র প্রতিনিধি, বিটিআরসি প্রতিনিধি, বিসিসি‘র প্রতিনিধি এবং এনটিএমসি‘র প্রতিনিধি।

এজেন্সির পরিচালক এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটি প্রতি দুই মাসে একবার বৈঠক করবে। এজেন্সি বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয়, বিভাগের কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

বিধিমালার অধীনে একটি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। ফরেনসিক ল্যাবের মান ও প্রতিবেদন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে। ল্যাবের আইএসও সনদ থাকতে হবে। এই ল্যাবের দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য কম্পিউটার হ্যাকিং ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন, অক্সিজেন ফরেনসিক সার্টিফাইডসহ ইএনসিইপি সনদ থাকতে হবে।

এমনকি,ফরেনসিক রিপোর্টে অভিযুক্ত ব্যক্তি সন্তুষ্ট না হলে, তিনি মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। মহাপরিচালকের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে তিনি ফরেনসিক রিপোর্ট পরীক্ষা করার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির নিজস্ব ল্যাবে অথবা স্বীকৃত অন্য ল্যাব হতে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ করতে পারবেন।

এ লক্ষে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিরীক্ষা করার জন্য তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক শ্রেণিতে রয়েছে রাষ্ট্রপতির দপ্তর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। খ শ্রেণিতে জাতীয় ডাটা সেন্টার, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি রয়েছে। গ শ্রেণিতে রয়েছে অন্যান্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া ডিজিটাল জগতের হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে জরুরি সাড়া দেয়ার জন্য জাতীয় কম্পিউটার ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করা হবে। এই টিম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সাইবার বা ডিজিটাল হামলা হলে তারা সাথে সাথে প্রতিকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সম্ভাব্য ডিজিটাল হামলা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেবে। এজেন্সি কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে প্রতিবেদন বা সতর্কীকরণ তথ্য প্রেরণ করতে পারবে। সংস্থাটি সব ডিজিটাল অপরাধের ঘটনার পরিসংখ্যান সংগ্রহ করবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠনের অনুমতি দেবে। সব টিম জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমকে ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করবে। এ তথ্য ডাটাবেইজে সংগৃহীত হবে। এসব তথ্য সব ইমার্জেন্স রেসপন্স টিম ব্যবহার করতে পারবে।

এজেন্সি বিভিন্ন লাইসেন্স দেবে। এই লাইসেন্সের জন্য ফি নির্ধারণ ও আদায় করবে। এজেন্সির নামে তফসিলি ব্যাংকে হিসাব থাকবে। মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এজেন্সির সব রেকর্ড, তথ্যভান্ডার ও অন্যান্য সম্পত্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পারবে। এজেন্সির যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0182 seconds.