• বাংলা ডেস্ক
  • ০৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:৫৯:১৮
  • ০৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:৫৯:১৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

তিমিদের নাকি পা ছিলো

ছবি : সংগৃহীত

জীবাশ্মবিদরা চার পা যুক্ত তিমির একটি জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন। উভচর এই প্রাণীটিকে বর্তমান নীল তিমির পূর্বপুরুষ বলে ধারণা করা হচ্ছে। জীবাশ্মটি বেশ ভালোভাবেই সংরক্ষিত ছিল বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে জীবাশ্মের এই নমুনা নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

৪৩ মিলিয়ন বছরের পুরনো এই জীবাশ্মটি পেরুতে পাওয়া গেছে। পেরুর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের প্লায়া মেদিয়া লুনা অঞ্চলের ১ কিলোমিটার দূরত্বের একটি দ্বীপের সামুদ্রিক পলিমাটিতে জীবাশ্মটি পাওয়া যায়। এই প্রাণীটির চারটি পা এবং পায়ের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

জীবাশ্মবিদদের বিশ্বাস, সামুদ্রিক এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটির দেহ ১৩ ফুট লম্বা। এরা পানিতে সাঁতার কাটার পাশাপাশি মাটিতে হেঁটে বেড়াতেও পারতো। তাদের এই চারটি পা দেহের ভার রাখতে সাহায্য করতো। এছাড়া এই প্রাণীদের একটি শক্তিশালী লেজও ছিল। আধা জলজ এই প্রাণীটিকে ভোঁদড় কিংবা বিবর এর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

গবেষকদের বিশ্বাস, এই আবিষ্কার নীল তিমির বিবর্তন এবং এর বিস্তারের ব্যাপারে জানতে সাহায্য করবে।

গবেষণায় নিয়োজিত রয়েল বেলজিয়াম ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল সায়েন্স এর বিজ্ঞানী ডক্টর অলিভিয়ের ল্যামবার্ট জানান, ভারত এবং পাকিস্তানের বাইরে পাওয়া চার পা যুক্ত তিমির সম্পূর্ণ নমুনা এটি। 

এতদিন ধরে গবেষকদের ধারণা ছিল, ৫০ মিলিয়ন বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ায় তিমির প্রথম বিবর্তন ঘটেছিল। তাদের দেহ পানির সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খাইয়ে যাওয়ার পর উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকায় তাদের অভিবাসন ঘটে। 

নতুন এই আবিষ্কারের ফলে জানা যাচ্ছে বিবর্তনের শুরুর দিকে তিমি দক্ষিণ আমেরিকা থেকেই সাঁতারের কৌশল জানতে পারে।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্রাচীন তিমি গবেষক ট্রাভিস পার্ক উল্লেখ করেন, ছোট ক্ষুরওয়ালা স্তন্যপায়ী প্রাণী পরবর্তীকালে আজকের নীল তিমিতে পরিণত হয়েছে। এরপর তারা কিভাবে সাগর জয় করল তা জানতে পারা খুবই কৌতুহলের বিষয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পেরু, ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসের একদল জীবাশ্মবিদ তিমির এই জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন। তারা এর নাম রাখেন ‘পেরেগোসেতাস প্যাসিফিকাস’ যার অর্থ প্রশান্ত মহাসাগরে পৌঁছানো ভ্রাম্যমাণ তিমি।

বাংলা/এফকে

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

নীল তিমি জীবাশ্ম

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0194 seconds.