• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৩ এপ্রিল ২০১৯ ২১:৪১:৫৩
  • ০৩ এপ্রিল ২০১৯ ২১:৫১:৫৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম বিরোধিতা বন্ধের আহ্বান

ছবি : সংগৃহীত

মুসলিমবিরোধী মনোভাবের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিকদের পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাস করা মুসলমান সম্প্রদায়। পাশাপাশি গত মার্চে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায়ও তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

মুসলমান সম্প্রদায়ের শত শত মানুষের স্বাক্ষর করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় বাস করা মুসলমানরা দেশটির রাজনীতিকদের ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ, বৈষম্যের ব্যাপারে বার বার সতর্ক করে দেয়া সত্ত্বেও তারা এটিকে আমলে নেননি।  

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা সতর্ক করে বলেছি এধরনের আচরণ ভয়ের সংস্কৃতি সৃষ্টি করে যার ফলস্বরূপ নিউজিল্যান্ডের মসজিদ হামলার মত ঘটনা ঘটে।  বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের সংগ্রামের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ২০০ বছর ধরে তারা শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন।

এতে উল্লেখ করা হয়, যদিও নিউজিল্যাণ্ডের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি রাজনীতিকরা তাদের সমবেদনা প্রকাশ করেছেন কিন্তু যে পরিস্থিতির কারণে নির্মম এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার জন্য নিজেদের দায়দায়িত্ব স্বীকার করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।  

বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার কট্টোর ডানপন্থী রাজনীতিক পলিন হ্যানসনের বিষয়টিও চলে আসে। ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত এই রাজনীতিক ইসলামকে একটি রোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সংসদে তার এই বক্তৃতার পর লিবারেল পার্টির সিনেটররা লাইন ধরে তাকে অভিনন্দন জানায়।     

আরেক ইসলামবিদ্বেষী সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিং যখন মুসলমান অভিবাসীদের ব্যাপারে কথা বলার সময় চূড়ান্ত সমাধান তত্ত্বের উদ্ভব করেন তখন এই সিনেটররাই তাকে খোলাখুলি অভিনন্দন জানিয়েছিল।

মুসলিমবিরোধী এতসব ঘটনা ঘটার পরেও লিবারেল পার্টির সদস্যরা এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে অলসভাবে বসে থেকেছে বলে অভিযোগ আনেন অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা।   বিবৃতিতে বলা হয়, এধরনের শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশ বৈষম্য, হয়রানি এবং চূড়ান্তভাবে সহিংসতারই জন্ম দেয়।   

প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করে রাজনীতিকদের উচিত হবে না সস্তা জনপ্রিয়তার পিছনে ছোটা।  মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা রাজনীতিকদের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, আমাদের নেতারা যদি সত্যিই এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান যেখানে আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে বাস করতে পারবে তাহলে তাদের বর্ণবিদ্বেষী ভাষা পরিহার করার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে হবে। এবং বিভাজনের নীতি পরিত্যাগ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে।  

প্রসঙ্গত, ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর এবং লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন মুসল্লি নিহত হন। ২৮ বছর বয়সি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেনটন ট্যারান্ট ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।  নির্মম ওই হামলার ঘটনায় নিউজিল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুরো বিশ্বের মানুষ যখন শোকে আচ্ছন্ন তখন অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিং ওই হামলার জন্য মুসলমানদেরই দায়ী করে বক্তব্য দেন।      

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার ২৪ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র শতকরা ২.২ ভাগ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।  দেশটিতে ক্রমবর্ধমান মুসলিম বিদ্বেষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায়।   

বাংলা/এফকে

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0174 seconds.