• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৮ মার্চ ২০১৯ ২১:৪০:১০
  • ২৮ মার্চ ২০১৯ ২১:৪৩:৩৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভিড় করেছে বলেই কি এতগুলো মৃত্যু?

সাধারণ জনতাই সবার আগে এগিয়ে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছেন বলে দাবি করছেন কেউ কেউ। ছবি : রাকিব হাসান

রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। উদ্ধার কাজে নেমেছেন সিামরিক বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু ভবনের সামনের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে আগুন দেখছে। মোবাইল ফোনে ভিডিও করছে, ছবি তুলছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, পানির গাড়িকে সেই ভিড়ি ঠেলে যেতে হচ্ছে।

এমন অশালীন ঘটনার সমালোচনা করছেন সচেতন মানুষরা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ এমন ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তবে এর বিপরীত মতও প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের মতে, শুধু ভিড়ের কথা বা এই বিষয়টিকে দোষ দিয়ে আসল বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক কর্মী কল্লোল মোস্তফা প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষ ভিড় করেছে বলেই কি এতগুলো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে? তিনি বলেন, ‘উৎসুক মানুষ ভিড় করেছে বলেই যে এতগুলো মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাতো নয়! মূল সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।’

কল্লোল মনে করেন, ‘প্রশ্ন করা দরকার- আগুনে পোড়া ভবনটিতে ফায়ার এলার্ম সিস্টেম ছিল কিনা, সেটা কাজ করেছে কিনা, ফায়ার এস্কেপ ছিল কিনা, থাকলে ব্যবহার যোগ্য ছিল কিনা, ফায়ার এস্কেপ থাকলে মানুষ কেন লাফিয়ে পড়ল, ভবনে যথাযথ অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা ছিল কিনা, আগুন নেভানো ও আটকে পড়াদের উদ্ধার করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের যথাযথ সরঞ্জামাদি ছিল কিনা, বহুতল ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোন নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্খা আছে কিনা ইত্যাদি।’

আবার সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সমবেত লোকগুলোকে গালি দিও না। এরা আমাদের সম্মিলিত অসহায়ত্ব। দেখা আর কাঁদা ছাড়া যাদের আর করণীয় নাই। তোমরা নিজেদের ক্ষমা করে দাও।’

জাকারিয়া হোসাইন অনিমেষ বিদ্রুপাত্মক ভাষায় লিখেছেন, ‘এক গবেষণায় জানা গেছে, আগুন ধরার দৃশ্য দেখতে বা উদ্ধারে সাহায্য করতে, বন্ধু বা স্বজনের হাল-অবস্থা কেয়ার করতে বা নানা কারণে বনানীতে যেসব মানুষ ভিড় করেছিলেন তাদের কারণেই আগুন লেগে এতগুলা মানুষ মারা গেছেন এবং এরকম দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর (প্রোপার ব্যবস্থা থাকলে হয়তো আরো কম মানুষের মৃত্যু হত) পেছনে রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, জনকল্যাণ বিমুখ আমলা নির্ভর ১জি গতির রাষ্ট্র ব্যবস্থা, ক্ষমতাসীন দল ও ক্ষমতার বাইরের দলের জণগণের প্রতি দীর্ঘ উদাসীনতা, ভুজুংভাজং উন্নয়ন পলিসি ইত্যাদির কোনো ভূমিকা নাই।’

রাজনীতিক আহমেদ মহিউদ্দীন লিখেছেন, ‘বড়ই করুণ দুর্দশা আমাদের কপালে। বাচ্চারা এতগুলো মানুষের মৃত্যুর জন্য উৎসুক জনতাকে দায়ী করছে! কী আশ্চর্য! অথচ আমার এক বন্ধু (তার অফিস পাশের বিল্ডিঙে) প্রত্যক্ষদর্শী জানালেন, আগুন লাগার প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর সেখানে সিভিল ডিফেন্স মিলিটারি ও অন্য সরকারী উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছে।’

মহিউদ্দীন দাবি করেন, ‘এই পুরো সময়ের মধ্যে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে এসেছেন নানা ধরণের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে। সেখানকার সিভিলিয়ান জনতাই এগিয়ে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছেন। কোন এ্যাম্বুলেন্স বা সরকারি উদ্ধার গাড়ি সেখানে ছিল না। জনতার প্রাইভেট যানবাহনগুলোই এই পুরো দেড় দুই ঘণ্টাব্যাপী তাদেরকে হাসপাতালে পৌছে দিয়েছে এবং সেবা যত্নে নিয়োজিত হয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বনানীতে আগুন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0215 seconds.