• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০ মার্চ ২০১৯ ১৭:২০:৪২
  • ২০ মার্চ ২০১৯ ১৯:২৯:৪৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত

ছবি : সংগৃহীত

সু-প্রভাত পরিবহনের বাস চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় দেয়া দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলো শিক্ষার্থীরা। তবে সেই আন্দোলন ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিইউপির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহিদুজ্জামান।

তৌহিদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমরা ছাত্রদের নিয়ে মেয়রের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছি। সময় সাপেক্ষে মেয়র সাহেব আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন। আমরা বলেছি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিট দিতে হবে। মেয়র বলেছেন, তিনি সেই ব্যবস্থা করবেন। দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তার জন্য যেখানে যা করা দরকার তার জন্য আগামী  দিনের মধ্যে একটা পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন মেয়র এবং পরবর্তী এক মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করবেন। এছাড়া স্টুডেন্ট কাউন্সিলের কথাও বলেছেন তিনি। এজন্য আমরা পরবর্তী সাতদিন সময় দিচ্ছি। আগামী ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার মেয়রের সঙ্গে আবার আমাদের বৈঠক হবে। তাই আজ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত সব ধরনের আন্দোলন আমরা স্থগিত করছি।’

এর আগে বেলা দুটায় মেয়র আতিকুলের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিইউপির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, বিইউপি উপাচার্য মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীসহ পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে প্রগতি সরণি এলাকায় সুপ্রভাত বাসের ধাক্কায় আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হন। আবরার আহমেদ নিহত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন তার সহপাঠীসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় প্রগতি সরণিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকেলে সড়ক ছাড়লেও বুধবার ফের আন্দোলনের নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। সেই ঘোষণার প্রেক্ষিতে দাবি আদায়ে আজ আবার সড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দেয়া আট দফা দাবিগুলো হচ্ছে-

১. পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে এবং প্রতি মাসে বাসচালকের লাইসেন্সসহ সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করতে হবে।

২. আটক চালক ও সম্পৃক্ত সবাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৩. আজ থেকে ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালককে দ্রুত সময়ে অপসারণ করতে হবে।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সব স্থানে আন্ডারপাস, স্পিড ব্রেকার এবং ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

৫. চলমান আইনের পরিবর্তন করে সড়ক হত্যার সাথে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৬. দায়িত্ব অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ী অপসারণ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৭. প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপ এবং যাত্রী ছাউনি করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং

৮. ছাত্রদের হাফ পাস (অর্ধেক ভাড়া) অথবা আলাদা বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0199 seconds.