• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৮ মার্চ ২০১৯ ১১:১৯:২৫
  • ১৮ মার্চ ২০১৯ ১১:১৯:২৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বেঁচে যাওয়া দুই ইমামের মুখে শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে শুক্রবার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা দিয়েছেন দুই ইমাম জামাল ফাওদা এবং ইমাম আলাবি লতিফ জিরুল্লাহ। ওই হামলায় প্রাণ হারান ৫০ জন। 

আলজেরীয় বংশোদ্ভূত ইমাম জামাল ফাওদা বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। দেখেন এক বন্দুকধারী গুলি ছুড়তে ছুড়তে আসছে। এমন পরিস্থিতি মসজিদের জানালা ভেঙে লাফিয়ে দৌড় শুরু করেন তিনি। পরে গুলি আরো তীব্র আকার ধারণ করে। মসজিদের ভেতরের লোকজন ভেঙে যাওয়া জানালার দিকে দৌড়াতে থাকেন। অধিকাংশ মানুষ এই জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু বাম পাশের মুসল্লিরা একজন আরেকজনের ওপর পড়ে যান। এভাবে তারা একটি স্তুপে পরিণত হন। এসময় হামলাকারী পাশে দাঁড়িয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

তিনি আরও বলেন, মানুষকে মারতে বন্দুকধারী ধারাবাহিকভাবে একের পর এক কক্ষে যান। যখনই সে কোনো পাশ থেকে শব্দ পেয়েছে তখন সেই পাশে গিয়ে গুলি করেছে। সে ঠাণ্ডা মাথায় মানুষকে ঘিরে রেখেছে, বের হওয়ার শব্দ পেলেই ছুটে গিয়ে গুলি করেছে। ধোঁয়ার জ্বালায় আমরা নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না। সর্বত্রই বুলেট উড়ছে। যখন আমরা বেরিয়ে আসলাম, তখন নিশ্চিত ছিলাম না যে সে চলে গেছে কি-না। সে ফিরে এল এবং আবার গুলি শুরু করল। যারা লুকিয়েছিল তারা বের হওয়ায় গুলির শিকার হলো। নিহতদের শরীরেও বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ করেছে হত্যাকারী।

একজন মুসল্লি জরুরি নাম্বার ১১১-এ ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন। হামলাকারী তাকে দেখে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। ইমাম বলেন, বন্দুকধারী জানতো না যে নারীরা আলাদা একটি কক্ষে লুকিয়ে আছেন। তারা বেঁচে গেছেন। তবে কয়েকজন নারী পালানোর চেষ্টা করেছেন। বন্দুকধারী দেখে ফেলায় তাদের গুলি করে হত্যা করে। 

অবশেষে বন্দুকধারী নিজের গাড়িতে চড়ে শহরের অন্যপ্রান্তের লিনউড মসজিদের দিকে যায়। ওই মসজিদে গিয়ে এই বন্দুকধারী আরও কয়েকজনকে হত্যা করে।

লিনউড মসজিদের ইমাম আলাবি লতিফ জিরুল্লাহ বলেন, বন্দুকধারী মসজিদের বাইরে গুলিবর্ষণ শুরু করে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে। মসজিদের বাইরে দম্পতিকে হত্যা করে। যখন আমি দেখলাম যে মুসল্লিদের গুলি চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, তখন আমি মুসলিম ভাইদের বললাম, শুয়ে পড়ুন। হামলাকারী পেছন দিক থেকে এসে জানালা দিয়ে আমাদের এক ভাইয়ের মাথায় গুলি করল। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে গুলি চালাতে থাকল।

জিরুল্লাহ মসজিদের প্রধান দরজা বন্ধ করে দিয়ে মসুল্লিদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন। পরে বন্দুকধারীর একটি বন্দুক পান আজিজ। হাতে তুলে নিয়ে বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে ট্রিগার চাপেন, কিন্তু বন্দুক ছিল ম্যাগজিন শূন্য। বন্দুকধারী আবারো গাড়ির দিকে ছুটে আসে, দ্বিতীয় বন্দুক হাতে তুলে নেয়। আজিজ বলেন, হামলাকারী গাড়িতে ঢুকে পড়ে। আমি বন্দুকটি হাতে নিয়ে গাড়ির জানালা লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করি। সেটি গিয়ে বন্দুকধারীর জানালায় আঘাত হানে এবং জানালার গ্লাস ভেঙে যায়। এতে বন্দুকধারী কিছুটা ভয় পায় এবং গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়ায় গাড়ি থেকে বন্দুকধারীকে ধরে ফেলেন দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0183 seconds.