• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৬ মার্চ ২০১৯ ০১:২৫:২৭
  • ১৬ মার্চ ২০১৯ ০১:২৫:২৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ফেসবুকে হামলাকারীর প্রশংসায় মেতেছে ভক্তরা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর হামলায় নিরীহ মুসলমান নিহতের ঘটনায় বিশ্ববাসী যখন শোকে কাতর হয়ে মর্মান্তিক এই হামলার নিন্দা জানাচ্ছে তখন অপরদিকে সন্ত্রাসী ব্রেন্টনের ভক্তরা তার এই কৃতকর্মের প্রশংসায় তাকে ভাসিয়ে দিচ্ছে। শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেনটন টারান্টের গুলিতে ৪৯ জন নিহত হন।

কুখ্যাত ডানপন্থী ব্লগিং ওয়েবসাইট এইটচ্যান এ বৃহস্পতিবার অর্থাৎ সন্ত্রাসী ঘটনার আগেরদিন হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে ব্রেনটন লিখে, ‘আমি বিদেশিদের বিরুদ্ধে হামলা করতে যাচ্ছি। এমনকি ফেসবুকে এই হামলার ঘটনা সরাসরি দেখানো হবে।’

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন টাইমজোনে অবস্থান করা তার সমর্থকরা যাতে এই হামলার ঘটনা দেখতে পারে সেজন্য সে একটি ভিডিও লিংকও শেয়ার করে। এছাড়া নরওয়ের পৌরাণিক কাহিনীতে বর্ণিত স্বর্গ ভালহাল্লার উল্লেখ করে ব্রেনটন লেখে, ‘আমি যদি এই হামলায় বেঁচে থাকতে না পারি, বিদায়, ভালহাল্লায় দেখা হবে।’

মসজিদে হামলার আগে শ্বেতাঙ্গ এই শ্রেষ্ঠত্ববাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অস্ত্র এবং গুলির ছবিও পোস্ট করে। কিন্তু এতকিছুর পরও নিউজিল্যান্ডের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি কারণ সন্ত্রাসীদের তালিকায় তার নাম ছিল না।

২৮ বছর বয়সি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেনটন অনলাইনে ৭৩ পাতার একটি ইস্তেহার প্রকাশ করে যাতে তার অনুসারীরা এটি পড়ে এবং তাকে স্মরণ করে।

অজ্ঞাতনামা একজনের নামে লেখা ইস্তেহারটি ব্রেনটনের ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়।

মসজিদে হামলা শুরু হওয়ার সাথে সাথে ব্রেনটনের ভক্তরা তাকে সাবাশি দিতে থাকে। তারা বলতে থাকে, ‘সাবাস ব্রেনটন টারান্ট।’

এদিকে টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাসী এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভয়ংকর এই গণহত্যার জন্য তাকে প্রশংসা করে তার অনুসারীরা।

কেউ কেউ মুসলমানদেরকে মর্মান্তিকভাবে হত্যা করার এই ঘটনাকে বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করে। অনেকে এতে উল্লসিতও হয়।

মসজিদে মুসলমানদের এভাবে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা টারান্টের ভক্তদের কাছে মজার একটি ঘটনা বলেই মনে হচ্ছিল অন্তত তাদের মন্তব্য থেকে সেটাই প্রতীয়মান হয়।

কেউ কেউ ব্রেনটনকে হিরোর মর্যাদা দেয়। আবার অনেকেই তার পথ অনুসরণ করে এধরনের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগ্রহ পোষণ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী লেখে, এই লোকের অসাধারণ দৈহিক গড়ন, সুন্দর জীবন। আরামে এবং শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করার যোগ্যতা তার আছে কিন্তু সে নায়ক হতে চেয়েছে।

আরেকজন অনুসারী ব্রেনটনের জন্য সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ কামনা করে।

তবে বেশি মুসলমানকে হত্যা করতে পারেনি বলে অনেকে আক্ষেপও করে। কেউ কেউ লেখে, দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে সে মারার জন্য খুব বেশি মানুষ পায়নি।

ব্রেনটনের আরেক অনুসারী মনে করে, প্রত্যেকেরই মসজিদে গিয়ে নিরীহ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করা উচিত।

হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় আরেকজন তাকে স্যালুট জানায়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে দুটি মসজিদে এই হামলার ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই হামলায় ৪৯ জন মুসল্লি নিহত এবং ৪৮ জন আহত হন। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এদিনকে দেশটির ইতিহাসের অন্ধকারতম দিন বলে উল্লেখ করেছেন।

বাংলা/এফকে

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0185 seconds.