• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৫ মার্চ ২০১৯ ২০:৩৭:০৭
  • ১৫ মার্চ ২০১৯ ২১:২৯:৩৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হত্যাকাণ্ডে বিশ্বনেতাদের নিন্দা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর সন্ত্রাসীর হামলায় ৪৯ জনকে হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আতংক, ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে এবং ভয়াবহ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিশ্ব নেতারা বিবৃতি দেয়া শুরু করেছেন।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক চরমপন্থী ২৮ বছর বয়সি ব্রেন্টন টারান্ট বন্দুক হাতে মসজিদে প্রবেশ করে নিরীহ মুসল্লিদের লক্ষ্য করে ক্রমাগত গুলি ছুড়তে থাকে। এর ফলে ৩ জন বাংলাদেশিসহ ৪৯ জন নিহত হন।  সন্ত্রাসী হামলাকারী তার এই হামলার ঘটনা ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করে।   

মর্মান্তিক এই ঘটনার নিন্দা করে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে এখন এই ঘটনাকে কেবলমাত্র সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবেই বর্ণনা করা যায়’।  তিনি এদিনকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারতম দিন হিসেবে উল্লেখ করেন।

মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ এই সন্ত্রাসী ঘটনায় মুসলিম বিশ্ব নেতারাও স্তম্ভিত।  এছাড়া পশ্চিমা নেতারাও তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এই হত্যাকাণ্ডকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এতদিন ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা বিশ্ব নিস্পৃহভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এমনকি কখনো কখনো এধরনের ঘটনাকে উৎসাহিতও করা হয়েছে।  এই হামলার ফলে বুঝা যাচ্ছে, স্বতন্ত্র এসব হয়রানির ঘটনা সব সীমা অতিক্রম করে বর্তমানে মুসলিম গণহত্যার পর্যায়ে পৌঁছেছে।   

তিনি উল্ল্বেখ করেন, এখনই যদি এধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নেয়া না হয় তাহলে এই হামলার অনুসরণে আরো ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি বিশেষ করে পশ্চিমা নেতাদের কাছে এখনই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন’।  

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মত পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও সন্ত্রাসী এই হামলাকে মুসলিম বিদ্বেষী ঘটনা হিসেবেই দেখছেন।  তিনি উল্লেখ করেন নাইন ইলেভেনের পর থেকেই মুসলিম বিদ্বেষ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে যার পরিণতিতে শুক্রবার ক্রাইস্ট চার্চে দুটি মসজিদে হামলা করে ৪৯ জনকে হত্যা করা হয়।  

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ আশা করেন, নিউজিল্যান্ড এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করবে এবং দেশটির আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদাদো বলেন, ‘আমরা এধরনের সহিংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। ’  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুটি মসজিদে হামলার ঘটনাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে হতাহতদের প্রতি শোক জানিয়ে টুইট করেন।   

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মসজিদে এই হামলার ঘটনাকে নিষ্ঠুর এবং মানব বিদ্বেষী হিসেবে বর্ণনা করেন।  তিনি বলেন, ‘প্রার্থনার জন্য সমবেত শান্তিবাদী মানুষজনের উপর হামলার ঘটনার নিষ্ঠুরতা আতংকজনক। ’ তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় এই হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীর কঠোর সাজ্জা দেয়া হবে বলে আশা করেন।    

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ‘সারারাতজুড়ে নিউজিল্যান্ড থেকে ভয়াবহ সব খবর  আসছে’।  তিনি আশা করেন, যে সহনশীলতা এবং শিষ্টতার জন্য নিউজিল্যান্ডের খ্যাতি রয়েছে এই ঘটনায়  তা যেন কমে না যায়।

ব্রেক্সিট নিয়ে বিপর্যস্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও মর্মান্তিক এই হামলার ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের প্রতি তার সহানুভূতি জানিয়েছেন।  

অপরদিকে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এটিকে বর্ণবাদী হামলার ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।  তিনি জানান, মসজিদে মুসল্লিরা যখন শান্তিপূর্ণভাবে প্রার্থনা করছেন তখন এধরনের হামলা বর্ণবাদী ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনও ম্যার্কেলের সুরে সুর মেলান।  তিনি মসজিদে এই হামলাকে ঘৃণ্য এবং ন্যাক্কারজনক বলে বর্ণনা করে বলেন, ‘আমরা যেকোন চরমপন্থার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করছি’।   

বাংলা/এফকে

 

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0179 seconds.