• বাংলা ডেস্ক
  • ১৫ মার্চ ২০১৯ ১৩:৩০:০১
  • ১৫ মার্চ ২০১৯ ১৩:৩০:০১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মসজিদে মুসল্লিদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি, চারদিকে শুধু লাশ

হামলার খবর পেয়েই ছুটে যান স্বজনরা। ছবি : সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে তখন বিপুল সংখ্যক মুসল্লি। কারণ শুক্রবার, সবাই জুমার নামাজ আদায় করতে হাজির হয়েছেন। এদের ওপরই চলে এলোপাতাড়ি গুলি। রক্তে ভরে ওঠে মসজিদ ‍দুটির চত্ত্বর।

হামলার পরপরই মসজিদে ঢুকেছিলেন লি পেনেহা। তিনি বলেন, ‘আমি সবখানেই দেখতে পেলাম মৃত মানুষ পড়ে আছেন। মসজিদের প্রবেশপথে আমি তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি। মসজিদের ভিতরে লাশ আর লাশ। অবিশ্বাস্য সেই দৃশ্য।’

‘আমি বুঝতে পারি না কেন এসব মানুষের ওপর এভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।,’ বলেন পেনেহা।

সংবাদমাধ্যম নাইন নিউজ জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৪০ মিনেটে আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে গুলি চালায় কয়েকজন সন্ত্রাসী। নূর মসজিদের পাশেই বসবাস করেন পেনেহা।

পেনেহা বলেন, ‘আমি দেখেছি কালো পোশাক পরা এক ব্যক্তি মসজিদ ভবনে প্রবেশ করছে। তারপরই শুনি গুলির শব্দ। এ সময় লোকজন এলোপাতাড়ি দৌড়াচ্ছিল। এক পর্যায়ে ওই অস্ত্রধারী মসজিদ থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যায়। পালানোর পথে তার অস্ত্রটি ফেলে যায়।’

এরপরই মসজিদে প্রবেশ করেন পেনেহা। তিনি চেষ্টা করেন সেখানে হতাহতদের সহায়তা করতে। সে সময়কার দৃশ্যই তিনি বর্ণনা করছিলেন। পাঁচজন মুসল্লিকে উদ্ধার করে তিনি তার বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।

পেনেহা বলেন, ‘এই মসজিদের পাশে প্রায় ৫ বছর ধরে বাস করি। এখানকার মানুষগুলো খুবই ভাল। তারা বন্ধুপ্রতীম। কিন্তু কেন তাদের ওপর এভাবে হামলা হলো আমি বুঝতে পারি না।’

তিনি বলেন, অস্ত্রধারী ব্যক্তি একজন ককেশিয়ান। তার মাথায় ছিল একটি হেলমেট। তার উপরে ছিল একটি ডিভাইস। তাকে দেখতে সেনাদের মতো মনে হচ্ছিল। 

মসজিদের আরেক মুসল্লি মোহন ইব্রাহিম ঘটনার সময় মসজিদের ভিতরে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘তখন মসজিদের ভেতরে প্রায় ৪০০ মুসল্লি ছিলেন। এ সময়ই বৃষ্টির মতো গুলি শুরু হয়। গুলির ঘটনা ঘটেছে পাশের কক্ষে। ফলে আমি হামলাকারীকে দেখতে পাইনি।’

মোহন নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে এসব কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘প্রচুর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। রাস্তার মাঝখানে আমি একটি বালিকার মৃতদেহ দেখতে পেয়েছি।’

মোহন ইব্রাহিম নিজের জীবন বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও তার বন্ধুদের জীবন নিয়ে তিনি সন্দিহান। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ক্রাইস্টচার্চে হামলা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0202 seconds.